ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ শাবান ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মহানবী সা. এর রাষ্ট্রাদর্শই বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করতে পারে-১

মুনশী আবদুল মাননান | প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০৯ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

মহানবী সা.-এর মদীনায় হিজরত ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী প্রমাণিত হয়েছে। মদীনাতেই ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়। মুসলিমরা একটা স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে, মহানবী সা. ৬২২ খৃষ্টাব্দের সেপ্টম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক রাতে মক্কা থেকে মদীনায় যাত্রা করেন। মক্কা থেকে তিন মাইল দূরবর্তী সওর পর্বতে তিনি তিন দিন আত্মগোপন করে থাকেন এবং চতুর্থ দিন মদীনার পথে রওনা হন। ২০ সেপ্টম্বর নাগাদ তিনি মদীনা থেকে তিন মাইল দূরের কুবাতে পৌঁছান। সেখানে মুহাজির ও আনসাররা তাকে বিপুলভাবে স্বাগত জানায়। কুবা পল্লীতে ১৪ দিন, কারো মতে ১২ দিন, কারো মতে চার দিন অবস্থান করেন।

এ সময় তিনি সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এরপর তিনি মদীনা অভিমুখে যাত্রা করেন এবং মদীনায় পৌঁছে আবু আইয়ুবের গৃহে অবস্থান গ্রহণ করেন। মদীনাতে সর্বস্তরের নারী-পুরুষ-শিশু তাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানায়, অন্তরের অন্তস্থল থেকে গ্রহণ করে।

মদীনায় তিনি প্রথমেই সুনির্দিষ্ট কিছু কাজে হাত দেন। মসজিদ মুসলিমদের অস্তিত্বের সঙ্গী। মদীনায় শুরুতেই তিনি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নাজ্জার গোত্রের দুই এতিমের একখন্ড জমি কিনে এ মসজিদ নির্মিত হয়। আকারে খুব বড় নয়। দৈর্ঘে ১০০ হাত, প্রস্থে ১০০ হাত।

তিন হাত উঁচু ভিত্তিমূলের ওপর ইট দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। চার কোনে চারটি মিনার এবং খেজুর গাছের খুঁটির ওপর তক্তা এঁটে ছাদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদ নির্মাণে স্বয়ং মহানবী সা. অংশগ্রহণ করেন। এই মসজিদের নাম মসজিদে নববী। অচিরেই এ মসজিদ ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।

মদীনায় আউস ও খাজরাজ গোত্র ছিল প্রধান। এদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ছিল দীর্ঘদিনের। যুদ্ধ-বিগ্রহ প্রায় লেগেই থাকত। এ সুযোগটি বহিরাগত ইহুদিরা নিত এবং উভয় গোত্রকে তাদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করত। এই দুই গোত্র থেকেই কিছু লোক মুসলমান হয়েছিল এবং তারাই মূলত মহানবী সা.-কে মদীনায় এনেছিল।

তাই প্রথম সুযোগেই মহানবী সা. এই দুই গোত্রকে ভাতৃবন্ধনে আবদ্ধ করেন। তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। অতঃপর নবী করিম সা. মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভাতৃসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেন। এ সম্পর্ক এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয় যে, আনসাররা তাদের জমি-সম্পত্তিতে মুহাজির ভাইদের উত্তরাধিকার দিতে সানন্দে রাজি হয়ে যায়।

শুধু কি তাই? কেউ কেউ তাদের দু’জন স্ত্রীর একজনকে তালাক দিয়ে মুহাজির ভাইদের সঙ্গে বিয়ে দিতে পর্যন্ত সম্মত হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
তোফাজ্জল হোসেন ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৫ এএম says : 0
কখন কিভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের উৎপত্তি ও আবির্ভাব ঘটে, সে বিষয়টি অদ্যাবধি অমীমাংসিত রয়ে গেলেও এ বিষয়ে সকল রাষ্ট্রবিজ্ঞানী একমত যে, মানব সমাজের বৃহত্তর প্রয়োজনেই রাষ্ট্রযন্ত্রের উদ্‌ভব।
Total Reply(0)
কাজী হাফিজ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৬ এএম says : 0
সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূল হযরত মহাম্মদ (সা•) মদীনা সনদের আলোকে মদীনাতে যে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, মানব জাতির ইতিহাসে এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে তা সর্বোত্তম জনকল্যাণমূলক আদর্শ রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে।
Total Reply(0)
সাকা চৌধুরী ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৬ এএম says : 0
।একটি কথা এ প্রসঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন যে, আমদের প্রিয় রাসূল, বিশ্বনবী, বিশ্ব মানবতার মহান আদর্শ ও মহান শিড়্গক, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা•)-এর আবির্ভাবকালীন সময়ে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি হিজায অঞ্চলসহ সমকালীন বিশ্বের তিনটি মহাদেশ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা ছিল রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি সকল দিক দিয়ে পশ্চাপদতা ও পঙ্কিলতায় পরিপূর্ণ। মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক কোন উপাদন তখন বিদ্যমান ছিল না। অপর দিকে হিজাযের আশপাশের নিকটবর্তী ও দূরবর্তী দেশসমূহ, যেমন-পারস্য, রোম, মিশর, ইথিওপিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে তখন রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল।
Total Reply(0)
সাইফুল ইসলাম চঞ্চল ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৭ এএম says : 0
৬১০ ঈসায়ী সালে নবুয়ত প্রাপ্তির পর মহানবী (সা•) মক্কাকেন্দ্রিক জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দাওয়াতের মাধ্যমে আদর্শিক প্রচার-প্রসারমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখেন। কিন্তু মক্কার বৈরি পরিবেশ, কায়েমী স্বার্থবাদীদের প্রচণ্ড বিরোধিতা, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও গোত্রপতিদের অসহযোগিতা, সর্বোপরি জীবনের প্রতি চরম হুমকি প্রভৃতি কারণে তিনি আল আক্বাবার শপথের আলোকে মহান আলস্নাহ্‌ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে ৬২২ সালে মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করেন। এ সময় মদীনাতে তিন শ্রেণীর জনগোষ্ঠী বসবাস করতো। এরা হচ্ছে-মদীনার আদিম পৌত্তলিক সম্প্রদায়, বহিরাগত ইহুদী সম্প্রদায় এবং নবদীড়্গিত মুসলিম সম্প্রদায়। মহানবী (সা•)-এর হিজরতের অব্যবহিত পরে মদীনায় মুহাজির ও আনসার মিলে মোট মুসলিম সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েকশ’। পক্ষান্তরে এ সময় মদীনা নগরীর মোট জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক দশ হাজার, যার প্রায় অর্ধেকই ছিল ইহুদী।
Total Reply(0)
নাসিম ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:১৮ এএম says : 0
মদীনা সনদ মদীনায় জনকল্যাণমূলক আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ড়্গেত্রে লিখিত সংবিধানের আইনগত মর্যাদা লাভ করে।সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার সুবিধার্থে তথা প্রশাসনিক কর্মকান্ড সুসম্পন্ন করার লড়্গ্যে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা•) মদীনা রাষ্ট্রের প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি ১৯টি স্তর বিশিষ্ট একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো মদীনাবাসীকে উপহার দেন।
Total Reply(0)
সাইফ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:১৪ এএম says : 0
জনাব লেখক সাহেব এবং ইনকিলাব সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ্‌ এর উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দেবেন। এবং আমাদেরকে এই প্রয়াশ থেকে বোঝার এবং মানার তৌফিক প্রধান করুণ এবং ব্যক্তি গত, পারিবারিক, সামাজীক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এর প্রতিফলন ঘটানোর তৌফিক প্রধান করুণ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন