ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

বিপদ আপতিত হলে যা করণীয়

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

আপদ-বিপদ, বালা-মুসিবত, দুঃখ-কষ্ট, যাতনা-যন্ত্রণা, মহামারী ইত্যাদি পৃথিবীর জীবনে দেখা দেয়া বিচিত্র নয়। অনেক সময় নিজের অজান্তেই মানুষ এ সকল প্রতিকুলতার শিকার হয়। আবার কখনো কখনো আল্লাহর পরীক্ষা স্বরূপ তা বান্দাহর ওপর আপতিত হয়।
আল কোরআনে মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। (হে প্রিয় হাবীব, আপনি) শুভ সংবাদ দিন ধৈর্যশীলগণকে। যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই অনুগত এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। (সূরা বাকারাহ : ১৫৫-১৫৬)।

বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিরা যখন কায়মনে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বেশি বেশি পাঠ করে ও আল্লাহপাকের সকাশে আত্মসমর্পণ করে, তখন আল্লাহপাকের পক্ষ হতে তাদের ওপর তার আশীষ ও দয়া বর্ষিত হতে থাকে। এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে: ‘যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে আশীষ ও দয়া বর্ষিত হয় এবং তারাই সৎপথে পরিচালিত।’ (সূরা বাকারাহ : ১৫৭)।

বস্তুত: বিপদাপদে নিপতিত মুমিন বান্দাহগণ যখন কায়মনে আল্লাহপাকের দরবারে মিনতি জানায়, তাদের কথা আল কোরআনে এভাবে উক্ত হয়েছে : ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমÐল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে এবং বলে ‘হে আমাদের পরওয়ারদিগার, তুমি তা নিরর্থক সৃষ্টি করনি, তুমি পবিত্র, তুমি আমাদের অগ্নির শাস্তি হতে রক্ষা কর।

হে আমাদের পরওয়ারদিগার, কাউকে তুমি অগ্নিতে নিক্ষেপ করলে, তাকে তো তুমি নিশ্চয়ই হেয় করলে, আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের পরওয়ারদিগার, আমরা এক আহŸায়ককে ঈমানের দিকে আহŸান করতে শুনেছি, তোমরা তোমাদের মধ্যে কর্মে নিষ্ঠ নর অথবা নারীর কর্ম বিফল করো না, তোমরা একে অপরের অংশ।

সুতরাং যারা হিজরত করেছে, নিজগৃহ হতে উৎখাত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি তাদের মন্দ কাজগুলো অবশ্যই দূরীভ‚ত করব এবং অবশ্যই তাদের জান্নাতে দাখিল করব, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তা আল্লাহার নিকট হতে পুরস্কার, উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহরই নিকট আছে।’ (সূরা আল ইমরান : ১৯৫)।

এ প্রসঙ্গে হযরত মূসা (আ.)-এর বিশেষ প্রার্থনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মূসা স্বীয় সম্প্রদায় হতে ৭০ জন লোককে আমার নির্ধারিত স্থানে সমবেত হওয়ার জন্য মনোনীত করল। তারা যখন ভ‚মিকম্পে আক্রান্ত হলো, তখন মূসা (আ.) আরজ করল: ‘হে আমার পরওয়ারদিগার, তুমি ইচ্ছা করলে এর পূর্বেও তাদের এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতে।
আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ তারা যা করেছে সে জন্য কি তুমি আমাদের ধ্বংস করবে। তা শুধু তোমার পরীক্ষা, যদ্বারা তুমি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী কর এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং তুমি আমাদের ক্ষমা করো ও আমাদের প্রতি দয়া করো, আর তুমিই তো ক্ষমাশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমাদের জন্য নির্ধারিত কর ইহকাল ও পরকালের বল্যাণ, আমরা তোমার প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছি।
আল্লাহপাক তাদের প্রার্থণার জবাবে বললেন, আমার শাস্তি যাকে ইচ্ছা দিয়ে থাকি, আর আমার দয়া তা তো প্রত্যেক বস্তুতে পরিব্যাপ্ত। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব যারা ‘তাকওয়া’ অবলম্বন করে, যাকাত দেয় ও আমার নিদর্শনে বিশ্বাস করে। (সূরা আ’রাফ : ১৫৫-১৫৬)।

উপরোক্ত আয়াতসমূহের মর্মের প্রতি লক্ষ্য করলে সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, আপদ-বিপদ ও বালা-মুসিবতে নিপতিত হলে মুমিন বান্দাহদের উচিত কায়মনে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা, আত্মসমর্পণ করা ও কৃত অপরাধের মার্জনা ভিক্ষা করা। এতে করে মহান আল্লাহপাক প্রার্থনাকারীদের প্রতি সদয় হন, মার্জনা করেন ও তাদের বিপদমুক্ত করেন। আল্লাহপাক আমাদের প্রার্থনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, এটাই আজকের একান্ত প্রত্যাশা।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Ala Uddin ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০০ এএম says : 0
আল্লাহ চাহিলে ১ সেকেন্ডের চেয়েও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হতে পারে।
Total Reply(0)
S Ahomad Sayd ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০০ এএম says : 2
এটা মানুষ্য সৃষ্টি সমস্যা, মানুষকেই এর সমাধান খুজে বের করতে হবে,এরকম চলতে থাকলে আধুনিক সবকিছু বাদদিয়ে ৩০০বছর পিছনে চলে যেতে হবে।
Total Reply(0)
Mohammad Rafiqul Islam ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০১ এএম says : 0
•মহান আল্লাহ্ পাক উনার পক্ষ থেকে লকডাউন, যা গযবস্বরূপ• সূরা আন'আম-৪৪-৪৫ -৪৪-৪৫/ অতঃপর যখন মহান আল্লাহ্ পাক উনার পক্ষ থেকে তাদেরকে উপদেশ এবং দিক-নির্দেশনা দেওয়া হলো, তারা তা ভুলে গেল (মহান আল্লাহ্ পাক উনার কথাকে তুচ্ছ ভেবে প্রত্যাখ্যান করলো), তাদের এই সীমালংঘনের পর আমি তাদের জন্যে প্রতিটি কল্যাণকর বস্তুর দরজা খুলে দিলাম অর্থাৎ তাদের জন্যে ভোগ বিলাসিতা, খাদ্য সরঞ্জাম, প্রত্যেক সেক্টরে সফলতা, উন্নতি এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির দরজা সমূহ খুলে দিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন তারা আমার দানকৃত কল্যাণকর বস্তু সমূহ পাওয়ার পর আনন্দিত, উল্লাসীত এবং গর্বিত হয়ে উঠলো, তারপর হঠাৎ একদিন আমি সমস্ত কল্যাণকর বস্তুর দরজা সমূহ বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দরজাসমূহ বন্ধ করে দিলাম। আর তারা সেই অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়লো। তারপর এই অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কর্তিত হয়ে গেল এবং সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ্ পাক উনার জন্যেই র‌ইলো, যিনি বিশ্বজগতের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী বা সবকিছুর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী "রব"। সুবহান'আল্লাহ্!
Total Reply(0)
Md Shamim Ahmed ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
দৈনিক পাঁচ বার ফজর,যোহর,আছর,মাগরিব,এশা অজু করে নামাজ কায়েম করুন করোনা ভাইরাস স্যালুট দিয়ে পালাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনার শাষক রাতের ভোটে না দিনের ভোটে? যদি রাতের ভোটে হয় তাহলে তাহার পাপের ফল আপনাকেই ভোগ করতে হবেই হবে। আল্লাহ সকলকে হেফাজত করুন।
Total Reply(0)
Faruq Hossain ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০২ এএম says : 0
যারা বিজ্ঞান ও ধর্মকে আলাদা করে ভাবতে চায় তারা বুঝুক , বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পর বিরোধী না।এটা একে অন্যের পরিপূরক।অতি নাস্তিকদের দূরে থাকতে অনুরোধ করছি।
Total Reply(0)
Md Ayub Hossain ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
আল্লাহর রহমত ছাড়া কোন কাজই হবেনা।
Total Reply(0)
Masud Rana ২৮ মার্চ, ২০২০, ১:০৩ এএম says : 0
কি যে হবে একমাত্র মহান রব্বুল আলামীন জানে। হে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দাও।
Total Reply(0)
Anwar ২৮ মার্চ, ২০২০, ১১:৫১ এএম says : 0
বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিরা যখন কায়মনে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বেশি বেশি পাঠ করে ও আল্লাহপাকের সকাশে আত্মসমর্পণ করে, তখন আল্লাহপাকের পক্ষ হতে তাদের ওপর তার আশীষ ও দয়া বর্ষিত হতে থাকে।
Total Reply(0)
Zakiul Islam ৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০৪ এএম says : 0
When the Inhabitants of the world will abstain from all evil deeds and will repent for all their past evil deeds, then pray forgiveness to Almighty Allah hope that Mankind will get relief from Corona punishment.
Total Reply(0)
Md titu ১১ এপ্রিল, ২০২০, ১:৩৯ এএম says : 0
এটা একটা পাগল ছাড়া আর কেউ বলবে না যে এটা মনুষ্য দারা সমস্যা।।।রোগ দেওয়ার মালিক আল্লাহ এবং রোগ ভালো করার মালিক আল্লাহ।।।ডাক্তারগন ঊছিলা মাত্র।।যা কিছু ভালো সব উপরওয়ালার দান আর যা কিছু মন্দ তা মানুষের দু-হাতের কামাই।।আল্লাহর গজব পুর্ব থেকেই সেট করা আছে যখন মনুষ্য সীমা লংগন করেন।তখনি তাদের উপর আজাব আরোপিত হয়।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন