ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

চিঠিপত্র

| প্রকাশের সময় : ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫১ পিএম

বিশ্বমানবতা মুক্তি পাক
করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে ভূমিকা নিষ্প্রয়োজন। মাত্র ৩ মাসে বিশ্বের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও গবেষেণা ক্ষেত্রে বাঘা বাঘা সব দেশকে ইতোমধ্যে কাবু করে ফেলেছে এটি। বিশ্বে এক ধরনের মানবিক বিপর্যয় দৃশ্যমান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের নানা উপায় বলতে পারলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখনও তার প্রতিষেধক তৈরিতে ব্যর্থ। যেখানে উন্নত ও সক্ষম রাষ্ট্রগুলোর মানুষজন এখন করোনাভাইরাসের থাবা থেকে রক্ষা পেতে কার্যত ঘরবন্দি সেখানে উন্নয়নশীল আর অপেক্ষাকৃত অনুন্নত রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়। তবে এই বিশ্ব বিপর্যয়ে আক্রান্ত দেশসমূহের নিজেদের মধ্যে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও যথাসাধ্য সাহায্য-সহযোগিতার চেষ্টা সত্যিই অনন্য দৃষ্টান্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী যত মানুষ মারা গিয়েছে তার চেয়েও ঢের বেশি মানুষ প্রতিদিন মারা যায় ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর যুদ্ধের কারণে! যুদ্ধাস্ত্র কিংবা নিত্য নতুন মরণাস্ত্র নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা রাষ্ট্রগুলো আজ বুঝতে পারছে জীবন নেওয়ার চেয়ে জীবন বাঁচানোই বেশি কঠিন। করোনার কারণে বিশ্বে অঘোষিতভাবে যুদ্ধ বিরতি চলছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গরিব, অসহায়দের দেওয়া হচ্ছে খাবার ও নিরাপদ পানি। এ যেন নতুন এক সভ্যতার দৃশ্য যেখানে শক্তি প্রদর্শনের ধারাবাহিক ছবি বন্ধ করে চলছে মানবপ্রেমের মহড়া। প্রকৃতি এটাই চায়। প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ে নানা মহল নানা মত প্রচার করছে। তবে সব মহলের বক্তব্যের সারমর্ম একটাই। আর সেটা বিশ্বভাতৃত্ব ও মানবতার চর্চা। এছাড়া, কেবল একক ক্ষমতায় কেউ প্রকৃতির নেওয়া কঠিন সব পরীক্ষায় জয়ী হতে পারবে না। টিকতে পারবে না প্রকৃতির অসীম ক্ষমতার সামনে। তাই তো সবার এখন একটাই চাওয়া। প্রকৃতির সাথে লড়াই না করে প্রকৃতির দেওয়া সম্ভারের মাঝে মানবতার বিস্তার হোক দেশ হতে দেশান্তরে। কেবল করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন নয়, বিশ্বমানবতা অক্ষণ্ণ থাকুক আজ হতে আগামীর প্রতিটি ক্ষণে।
আবু ফারুক
সহকারী শিক্ষক, ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন