ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি এইচআরডব্লিউর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২০, ১০:৫৪ এএম

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, সরকারের সমালোচক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ‘নির্যাতনমুলক’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার করছে বাংলাদেশ। তাই মুক্ত মত প্রকাশের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে অবিলম্বে এই আইনটি সংশোধন অথবা বাতিল করা উচিত।

বুধবার (১ জুলাই) নিউ ইয়র্ক থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক এই সংগঠন। এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্রাড এডামস বলেছেন, সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সমালোচক মনে হলেই যেকাউকে খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা করছে বাংলাদেশ।

কোভিড-১৯ এর বিস্তারের বিরুদ্ধে জেলখানায় যখন বন্দি কমিয়ে আনা উচিত, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু মন্তব্য করার কারণে সেই জেলে আরো মানুষকে ঢোকানো হচ্ছে। ২৮শে জুন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের জামিন আবেদন আবারও প্রত্যাখ্যান করে তাকে ২ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়, যাতে তার বিরুদ্ধে আনীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে করা তিনটি মামলার একটিতে তথ্য পাওয়ার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কর্তৃপক্ষ।

এইচআরডব্লিউ আরো বলেছে, তদন্তের জন্য আসামীকে রিমান্ডে নেয়া হয়। কিন্তু সেই রিমান্ডে লোকজনের ওপর নির্যাতনের প্রামাণ্য তথ্য আছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। সে অনুযায়ী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে জেলখানার ভিতরে কাচের দেয়ালে তৈরি একটি কক্ষে, যেখানে তার আইনজীবী এবং আত্মীয়রা পর্যবেক্ষণে আশপাশে থাকতে পারেন। কিন্তু এই নির্দেশনা পালন করা, এমনকি কখনো পালন করার বিষয় বিরল।

সাংবাদিক কাজলকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে অভিযুক্ত করার আগে ৫৩ দিন জোরপূর্বকভাবে গুম করা হয়েছিল। তারপর তাকে ফৌজদারি দন্ডবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। এটা হলো নির্যাতনের একটি বড় ফাঁকফোকর। কারণ, এর অধীনে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই যেকাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে এবং তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই ১৫ দিন পর্যন্ত আটক রাখতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো বলেছে, প্রায় দুই মাস কাজলকে বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে ৫৪ ধারার অধীনে, যা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক আইনের বেঁধে দেয়া সীমারও অনেক বেশি।

আরেকটি ঘটনায় ২৪শে জুন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, অধিকারকর্মী মুস্তাক আহমেদ ও দিদারুল ভুইয়া, এবং ব্যবসায়ী মিনাজ মান্নান ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দু’দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ভার্চুয়াল কোর্ট। ফেসবুকে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এক মাসেরও বেশি সময় আগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কারণ, তারা কোভিড-১৯ নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক আইন, এমনকি ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফের অধীনে যে প্রতিশ্রুতি আছে বাংলাদেশের, তা ভঙ্গ করা হচ্ছে অনির্দিষ্ট সময় বিচারের আগে বন্দি রাখার ঘটনায়। বাংলাদেশে প্রায় ৯০ হাজার বন্দির মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশিকে আটক করা হয়েছে বিচারের আগে বা প্রিট্রায়াল ডিটেনশনে নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিচারের আগে এভাবে আটক করা যেতে পারে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রমে, সেটা আইনের শাসনের জন্য নয়। সেটা ব্যবহার করা যেতে পারে যতটা সম্ভব কম সময়ের জন্য এবং যদি প্রয়োজনীয় বিশেষ যৌক্তিক কারণ থাকে। যেমন ফ্লাইটে ঝুঁকি অথবা প্রত্যক্ষদর্শীর প্রতি হুমকি থাকা। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে বহু বন্দি তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলে যে শাস্তি পেতেন তার চেয়ে বেশি সময় বিচারের জন্য অপেক্ষমাণ।

সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে গ্রেপ্তার ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করা হচ্ছে, তাতে এটাই জোরালোভাবে ফুটিয়ে তোলে যে, ক্ষমতাসীন দল ও তার সমর্থকরা কোন পথে ব্যবহার করছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইনে মুক্ত মত প্রকাশের অধিকার ও সমালোচকদের কণ্ঠরোধের অস্পষ্ট এবং বিস্তৃত ব্যবস্থা রয়েছে।

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর মানহানী করার অভিযোগে ২০শে জুন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১৫ বছর বয়সী একটি বালককে। এ বিষয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের এক রাজনীতিক বলেছেন, ওই বালকটি আমাদের মায়ের মতো নেত্রীর সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছে। এরপর ওই শিশুটিকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে। পুলিশ বলেছে, সেখানে সে ততটা সময় থাকবে, যতদিন সে তার ভুল বুঝতে না পারবে এবং চরিত্র সংশোধন করতে না পারবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন