ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মৃত্যু দেয়ার মালিক আল্লাহ

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

কোরআন কারীম যেভাবে বিনয়, নম্রতা, ক্ষমা, অনুকম্পা ও দয়ার শিক্ষা দান করে, তেমনিভাবে যথাস্থানে বীরত্ব, বাহাদুরি ও সাহসিকতা প্রদর্শনেরও দীক্ষা দেয়।

উদাহরণত সত্য ও মিথ্যা এবং ন্যায় ও অন্যায়ের সংগ্রামের ক্ষেত্রে কোরআন মাজিদ তার অনুসারী ও মান্যকারীদের লৌহপুরুষের মতো পরিপূর্ণ বীরত্ব ও দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দান করে। এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালা তার সে সমস্ত বান্দাকে ভালোবাসেন, যারা তার পথে কাতারবন্দি হয়ে এমনভাবে যুদ্ধ করে, যেন তার একটি সীসাঢালা প্রাচীর।’ (সূরা সফ : আয়াত ৪)।

অন্য আরেক জায়গায় রাসূলুল্লাহ সা. এর সাহাবায়ে কেরামের সে ঈমানি শক্তি ও বীরত্বের আলোচনা বিশেষ প্রীতি ও প্রশংসার ভঙ্গিতে করা হয়েছে। যখন তাদেরকে প্রভাবিত ও ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলার জন্য এ সংবাদ পৌঁছানো হলো যে, তোমাদের শত্রুপক্ষ তোমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার উদ্দেশে বিপুল আয়োজন করেছে এবং বিরাট সমরোপকরণ সংগ্রহ করেছে, তখন তারা আদৌ প্রভাবিত ও সন্ত্রস্ত হয়নি। বরং তারা তাতে করে তাদের ঈমানি শক্তি অধিকতর শাণিত হয়ে উঠে।

তারা বলে, আমাদের জন্য আমাদের আল্লাহই যথেষ্ট। এসব কিছু আমরা দেখে নেবো। সূরা আল ইমরানে ইরশাদ হয়েছে : ‘আমার সে সমস্ত ঈমানদার বান্দা যাদেরকে লোকেরা বলল, (তোমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য) সমস্ত লোক সমবেত হয়েছে এবং তারা বিপুল উপকরণ সংগ্রহ করে নিয়েছে। তাদের প্রতি তোমাদের ভীত হওয়া প্রয়োজন। তখন এ বিষয়টি ঈমানি অবস্থা অধিকতর দৃঢ় করে দেয় এবং তারা বলে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট ও উত্তম কর্ম সম্পাদক।’ (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১৭৩)।

এ প্রসঙ্গে আরো একটি বিষয় উপলক্ষণীয় যে, মৃত্যুর ভয় কিংবা কোনো কষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা এমন বিষয়, যা সাহসিকতা ও সৌর্য বীরত্বের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং মানুষকে ভীরু বানিয়ে দেয়। কোরআন মাজিদ ভীরুতার এ মূলটিকেও উপড়ে ফেলেছে। বিভিন্ন স্থানে বলে দেয়া হয়েছে যে, মৃত্যুর জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। সে সময় উপস্থিত হয়ে গেলে কেউ বাঁচাতে পারে না। আর যদি সে সময় তখনো না আসে, তা হলে কেউ মারতেও পারে না।

এমনিভাবে নানা জায়গায় বলা হয়েছে, কোনো কষ্ট বা ক্ষতিসাধন করা না করা একান্তভাবেই আল্লাহর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। যতক্ষণ পর্যন্ত তার ইচ্ছা ও হুকুম না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ আমাদেরকে কষ্ট দিতে ও ক্ষতি সাধন করতে পারে না। আর যখন তার পক্ষ থেকে হুকুম হবে, তখন কেউ আমাদেরকে কষ্ট ও ক্ষতি থেকে রক্ষাও করতে পারে না।

এ প্রসঙ্গেও এখানে দু’চারটি আয়াত পাঠ করে নিন। সূরা আল ইমরানে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কারো মৃত্যু আসতে পারে না আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। (মৃত্যুর জন্য) নির্ধারিত সময় লেখা হয়ে গেছে।’ (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১৪৫)। অন্য আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘যখন তাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন না এক মুহূর্ত পেছনে থাকতে পারবে, না এগিয়ে যেতে পারবে (ঠিক নির্ধারিত সময়ে তুলে নেয়া হবে)। (সূরা ইউনুস : আয়াত ৪৯)।

এমনিভাবে অপর এক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কোনো বিপদই আসতে পারে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া।’ (সূরা তাগাবুন : আয়াত ১১)। সূরা তাওবায় ইরশাদ হয়েছে, ‘হে রাসূল বলে দিন, কখনো আমাদের কোনো বিপদ আসতে পারে না, তা ছাড়া যা আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের মালিক। আর যারা ঈমানদার তাদের সব কাজই আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করা উচিত। (সূরা তাওবাহ : আয়াত ৫১)।

লক্ষ করার বিষয় যে, যাদের অন্তরে এ শিক্ষা বদ্ধমূল হয়ে যাবে, তাদের ভীরুতার অবকাশ কোথায় থাকতে পারে এবং শৌর্য ও সাহসিকতার পথেই বা তাদের জন্য কি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে?

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Jafar Anwari ৭ জুলাই, ২০২০, ১:৪২ এএম says : 0
মৃত্যুর মতো সত্য আর কিছু নেই। সব আত্মাকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদের সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫; সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩৫; সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৫৭-তে বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ আর এ মৃত্যু হয়ে থাকে আল্লাহ তাআলার নির্দেশে। অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করতে পারে না। সে জন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে (সুরা আলে ইমরান : ১৪৫)
Total Reply(0)
Jamil Hosen Jon ৭ জুলাই, ২০২০, ১:৩৮ এএম says : 0
আল্লাহ ছাড়া আনুগত্য পাওয়ার মতো আর কেউ নেই, তিনি বাদশাহ, অতি পবিত্র, শান্তির আধার, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক, সবার ওপর বিজয়ী, নিজ হুকুম প্রয়োগে পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং প্রবল পরাক্রমশালী। সবকিছুর ওপর ক্ষমতাশালী এবং ক্ষমতার নিরঙ্কুশ মালিক।
Total Reply(0)
Umme Habiba Sauda ৭ জুলাই, ২০২০, ১:৩৮ এএম says : 0
এ জগতের সব শক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতা একমাত্র আল্লাহতায়ালার করায়ত্ত। সম্মান ও অপমান তারই নিয়ন্ত্রণাধীন। তিনি দরিদ্র ও পথের ভিখারীকে রাজ সিংহাসন ও মুকুটের অধিকারী করতে পারেন এবং প্রবল প্রতাপান্বিত সম্রাটের হাত থেকে রাষ্ট্র ও ঐশ্বর্য ছিনিয়ে নিতে পারেন।
Total Reply(0)
Badrul Islam ৭ জুলাই, ২০২০, ১:৩৯ এএম says : 0
সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন, যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নেন। মূলত আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। কেউ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সক্ষম হন, অনেকেই পারেন না। ক্ষমতার এই পালাবদলের মাঝে যারা বুদ্ধিমান, তাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা।
Total Reply(0)
Jabair Ahammad ৭ জুলাই, ২০২০, ১:৩৯ এএম says : 0
একমাত্র আল্লাহ তাআলাই অবিনশ্বর। অবশিষ্ট সব সৃষ্টি নশ্বর। আল্লাহ ছাড়া সব কিছু তার নির্দিষ্ট হায়াত পূর্ণ হওয়ার পর নিঃশেষ হয়ে যাবে।
Total Reply(0)
Mohammed Kowaj Ali khan ৭ জুলাই, ২০২০, ১০:২১ এএম says : 0
মোসলমান রাসট্র আক্রান্ত হওয়ার পরে রাস্ট্র প্রধান তাঁহার মাতাকে জিংগাসা করিলেন কি করা যায়? যদি যুদ্ধ করি শহীদ হইবো আর যদি চুক্তি করি বশ্যতা করিতে হইবে, আমার জনগণ রক্ষা পাইবে। আম্মু কি করিবো? মায়ের উত্তর যুদ্ধ করিয়া শহীদ হওয়ার এবং বলিলেন বকরি মরার পরে বকরির লুমের কি হইবে সেই চিন্তা তুমার করার দরকার নাই। আল্লাহু আকবার।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন