ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

তবু কি মানুষ শিক্ষা নেবে না?-১

মুনশী আবদুল মাননান | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হওয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে পরিগণিত। তাকে সর্বাধিক সুরক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয়। তার দৈহিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সার্বিক নিরাপত্তা সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে। এজন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কত লোক যে নিয়োজিত, তার তালিকা করা রীতিমতো গবেষণার বিষয়। তিনি যাতে সুস্থ থাকেন এবং কোনো রোগব্যাধি তাকে স্পর্শ করতে না পারে, সে জন্য সেরা ডাক্তার-চিকিৎসাবিদ সর্বক্ষণ নিয়োজিত আছেন। তার খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রিত। সেই তিনি স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত হলেন, এটা তো বিস্ময় জাগাতেই পারে।

একটা কথা আমাদের দেশে প্রচলিত হয়েছে: করোনা কাউকে করুণা করে না। কথাটি অন্য অনেকের মতো ডোলান্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে। শুধু তিনিই নন, ইতোমধ্যে ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন, গুয়েতামালার প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো জিয়াস্মাতি, বলিভিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জিনাইন আইনেজ, হন্ডুরাসের প্রেসিন্ডেন্ট হুয়ান ওরলান্দো, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সুখ্যাত, সম্মানীয় ও প্রভাবশালী অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মারাও গেছেন কেউ কেউ। করোনা যে হেলাফেলা বা অবজ্ঞার বিষয় নয়, এটা প্রমাণিত। শুরুতে করোনা নিয়ে অনেকেই অবজ্ঞা করেছেন, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন। বিশ্বের তাবৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ যখন বলেছেন, এটা ভয়ঙ্কর এক ছোঁয়াচে ভাইরাস, এর স্পর্শ বা সংক্রমণে মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রেই অবধারিত, তখন যারা এসব কথায় পাত্তা দেননি, তাদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যতম। তিনি করোনা নিয়ে মনগড়া মন্তব্য করে তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করেছেন, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেছেন। পরস্পর দূরত্ব বজায় রাখা এমনকি মাস্ক পর্যন্ত ব্যবহার করেননি। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে অহংও উদ্ধতভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। অবশেষে তার অহং ধুলায় মিশে গেছে। করোনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে তাকে খাতির করেনি। তার আক্রান্ত হওয়াই কেবল নয়, করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে আছে। বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি, সবচেয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ করোনার মতো অদৃশ্য ভাইরাসে কয়েক মাস ধরে একটানা নাস্তানাবুদ, দিশেহারা। এর মধ্যে কী শিক্ষা রয়েছে, স্বাভাবিক বোধসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের তা ভাবা উচিত।

পুরো বিশ্বে ইতোমধ্যে করোনায় লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ মহামারি থেকে সহসা রেহাই মিলবে, এমনটা ধারণা করা যাচ্ছে না। এখনো এর কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। অনেকেই স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন, করোনা বিশ্ব মানবের জন্য একটা বড় রকমের বিপদ। এর জন্য মানুষই দায়ী। প্রকৃতির ওপর মানুষ যে অনাচার ও অবিচার করছে, এটা তারই ফল। মানুষের পাপ ও দুষ্কর্মের প্রতিফল হিসাবে এই প্রাণঘাতী বালা নেমে এসেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বলেছেন: তোমাদের যে বিপদআপদ ঘটে, তা তো তোমাদের কৃতকর্মের ফল। আর তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন। সুরা শুরা: ৩০।
আল্লাহ বিপদাপদ ও বালা মুসিবত দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন: নিশ্চয় আমি তোমাদের (কাউকে) ভয় ও ক্ষুধা দিয়ে আর (কাউকে) ধনে-প্রাণে বা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে পরীক্ষা করব। আর যারা ধৈর্য ধরে, তুমি তাদের সুখবর দাও। সুরা বাকারা: ১৫৫। অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন: আমি তোমাদের ভালো ও মন্দ দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি। সূরা আম্বিয়া: ৩৫।

মানুষ ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, প্রভাব, অর্থ ও বিত্তের বড়াই করে, নিজেকে অপ্রতিরোধ্য পরাক্রমশীল বলে মনে করে। ধরাকে সরাজ্ঞান করে। অথচ সে যে কত অসহায়, দুর্বল ও নিরালম্ব, তা বুঝা যায় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস, ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত, দাবানল ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বিভিন্ন রোগব্যাধি, মারি-মহামারিতে। আসলেই মানুষের গর্ব করার, অহংকার করার, ঔদ্ধত্য দেখানোর কিছু নেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
জয়নাল চৌধুরী ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৬:২৭ এএম says : 0
আমাদের আশপাশে অনেকে না ফেরার দেশে যাচ্ছে তা দেখে শুধু আফসোস করলে হবে না, এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর পথে চলতে হবে। সকল গুনাহ থেকে মুক্ত থেকে সুন্দর জীবন যাপানের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে হবে।
Total Reply(0)
গাজী মোহাম্মদ শাহপরান ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৬:২৮ এএম says : 0
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেই পাপমুক্ত জীবনের দিকে ফিরে আসা সম্ভব হবে।
Total Reply(0)
নাসিম ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৬:২৮ এএম says : 0
চারপাশে অনেক প্রিয়জনকে আমরা হারাচ্ছি। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরকালীন জীবনের সফলতা লাভের জন্য সাধনা চালিয়ে যেতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ, মানুষকে ধোঁকা দেয়া ও প্রতারণাসহ যাবতীয় পাপাচার থেকে বিরত থাকার প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
Total Reply(0)
তাসফিয়া আসিফা ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৬:২৯ এএম says : 0
কিছু কিছু মানুষ করোনা ভাইরাসের মধ্যে অপকর্ম করে তাদের অন্তরও কঠোর হয়ে গেল, এ বিষয়ে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, আমি তাদের কে অভাব অনটন ও রোগব্যাধি দিয়ে পাকড়াও করে ছিলাম, যাতে তারা আমার নিকট কাকুতিমিনতি করে, অতঃপর তাদের নিকট যখন আমার আজাব এলো, তখন তারা কোনো কাকুতিমিনতি করল না? প্রকৃতপক্ষে তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল। সুরা আনয়াম আয়াত ৪২, ৪৩।
Total Reply(0)
কামাল রাহী ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৬:৩০ এএম says : 0
করোনা ভাইরাস থেকে যারা আল্লাহকে চিনতে পেরেছে তারাই ইহকাল ও পরকালে সাফল্যমণ্ডিত। আর যারা পাপকাজে লিপ্ত তারাই ইহকাল ও পরকালে বিপর্যস্ত। করোনা ভাইরাসের শিক্ষাটা হলো মূলত কিয়ামত দিবসের ইয়া নাফসিটাকে অনুভব করা।
Total Reply(0)
himmat ali ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৮:০৪ এএম says : 0
মানুষ যেটা শেখার সেটা শিখে নিচ্ছেই। আপনারা দেড় হাজার বছর ধরে শিখেই যাচ্ছেন কই মানুষতো হননি।
Total Reply(0)
করিম ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৪:০০ পিএম says : 0
আল্লাহ ছড়া কোন মাবুদ নাই। এই কথাই মানতে হবে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন