ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

খোদার পরে তুমিই শ্রেষ্ঠ-১

হাফেজ মুহাম্মাদ ছানী | প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০৪ এএম, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

বিশ্বজাহানের গৌরব, নবীকুলের শিরোমনি বিশ্বশান্তির দূত হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। পৃথিবীর প্রতিটি অণু-পরমাণুই তাঁর বিশ্বময় মর্যাদা এবং খ্যাতি ও মাহাত্মের সাক্ষী। আরব-আজমের সর্দার, শ্রেষ্ঠ রাহবর হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর অনন্য ব্যক্তিত্ব ও অনুপম জীবন আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত প্রতিটি যুগ ও স্থানজুড়েই ব্যাপৃত। বিশ্বজাহানের সবকিছুই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়ত ও রিসালাতের সীমাহীন মাহাত্ম্য ও মাধুর্যের দ্বারা প্রভাবিত। পৃথিবীর প্রতিটি অণু-পরমাণুই তাঁর খ্যাতি ও মাহাত্মের সাক্ষী।

‘ইন্না আ’ত্বাইনা কাল কাউসার এবং ওরাফা’না লাকা যিকরাকা’ এর চিত্তাকর্ষক ধ্বনি গোটা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে প্রতিধ্বনিত। সৃষ্টির সেই শ্রেষ্ঠ মানবের সম্মানিত নাম ‘মুহাম্মাদ’ রাসূলুল্লাহ। আর তাঁর খ্যাতি এতই সমুচ্চ যে, স্থান-কালের সকল উচ্চতা ও বুলন্দি এই পবিত্র নাম ও ব্যক্তিত্বের তুলনায় নেহাৎ তুচ্ছ। পাতাল-ভূমি থেকে উর্ধ্ব আরশ পর্যন্ত সবকিছুই তাঁর স্মরণে মুখর। এত উচ্চ মর্যাদা গোটা জগতে তিনি ছাড়া আর কেউ পায়নি। কেউ পাবেও না।

এই অমোঘ সত্য কী সুন্দর করে বলেছেন কবি সাইয়েদ সাবীহ রাহমানী, ‘কুয়ী মিছাল মোস্তফা কা কাভী থা নাহ হে, নাহ হো গা, কেছী আওর কা ইয়েহ রাতবাহ কাভী থা নাহ হে না হো গা’, অর্থ : মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মতো কখনো কেউ ছিল না, এখনও নেই আর ভবিষ্যতেও হবে না। এই মর্যাদা অন্য কারো কখনো ছিল না, এখনও নেই আর ভবিষ্যতেও হবে না।

প্রসিদ্ধ মুফাসসির আল্লামা সাইয়েদ মাহমুদ আলূসী রাহ. ‘ওরাফা’না লাকা যিকরাকা’ এর তাফসীরে লেখেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদা ও সমুচ্চতা, তাঁর অনুপম আদর্শ ও নামের খ্যাতি এর চেয়ে অধিক আর কী হবে যে, আল্লাহ তাআলা নিজের নামের সঙ্গে কালিমায়ে শাহাদাতে তাঁর প্রিয়তমের নামটিও যুক্ত করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করাকে নিজেরই আনুগত্য ঘোষণা করেছেন। ফেরেশতাগণের সাথে তিনিও রাসূলের প্রতি দুরুদ প্রেরণ করেছেন এবং মুমিনদেরকেও তাঁর প্রতি দুরুদ পাঠের আদেশ দিয়েছেন। আর যখনই সম্বোধন করেছেন অতি সম্মানিত ও সুন্দর উপাধিসহ সম্বোধন করেছেন। যেমন, হে মুদ্দাছছির! (চাদর আবৃত), হে মুযযাম্মিল! (কম্বল আবৃত), হে প্রিয় নবী!, হে প্রিয় রাসূল! ইত্যাদি

পূর্বের আসমানী কিতাবগুলোতেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সপ্রশংস উল্লেখ করেছেন এবং সকল নবী ও উম্মত থেকে তাঁর প্রতি ঈমান আনার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। এক ঐতিহাসিক ও অনস্বীকার্য বাস্তবতা এই যে, ভূ-পৃষ্ঠে এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে দিনরাত সরওয়ারে দো আলম (সা.)-এর রিসালাত ঘোষিত হয় না। চব্বিশ ঘণ্টার ১৪৪০ মিনিটেই পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে, কোনো না কোনো অঞ্চলে আযানের ধ্বনি বাজতে থাকে।

আর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার নামের সাথে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হতে থাকে। সুতরাং তাঁর নামের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য এদিক থেকেও প্রোজ্জ্বল যে, আযানের ধ্বনি যতদিন পৃথিবীতে বাজবে ততদিন আল্লাহর নামের সাথে তাঁর প্রিয়তম পয়গম্বর, সাইয়্যেদুনা মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র নামটিও প্রেমিক-হৃদয়ে সুধাবর্ষণ করবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
মোহাম্মদ কাজী নুর আলম ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 1
আল্লাহর হাবিব প্রিয় রাসুল আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই ধরায় শুভাগমন করেন আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে, সৌদি আরবের মক্কা নগরে। ভোরের সমীরণ নিয়ে তিনি এসেছিলেন স্নিগ্ধ প্রাতঃকালে।
Total Reply(0)
তাসফিয়া আসিফা ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 1
অন্ধকার যুগের পশুসুলভ জীবনাচার ও জুলুম, নিপীড়ন–নির্যাতনের সামাজিক অন্যায়–অবিচার ও অত্যাচারের তমসা থেকে মানবতাকে সভ্যতার আলোর দিকে এগিয়ে নিতে; তিনি ভোরের সমীরণপ্রবাহ সঙ্গে নিয়ে, প্রভাত রবির রঙিন আলোয়, সকালের সূর্যের হাসি হয়ে উষার আকাশে উদিত হলেন মুক্তির দূতরূপে।
Total Reply(0)
দর্শন ই ইসলাম ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 1
তখন চলছিল আইয়ামে জাহেলিয়াত, মানে অন্ধকার যুগ। অজ্ঞানতা, মূর্খতা, কুসংস্কার ও পাপাচারে নিমজ্জিত ছিল জাজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ। এ সময় জ্ঞানের আলো নিয়ে, মুক্তির বাণী নিয়ে পৃথিবীতে আসেন মানবতার মহান বন্ধু হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
Total Reply(0)
তোফাজ্জল হোসেন ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৭ এএম says : 1
চিরপ্রশংসিত ‘মুহাম্মদ’ তাঁর নাম। মুহাম্মদ নামটি কোরআন কারিমে রয়েছে চারবার। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) একজন রাসুল; তাঁর আগে বহু রাসুল গত হয়েছেন। সুতরাং যদি তিনি ইন্তেকাল করেন অথবা শাহাদতবরণ করেন, তবে তোমরা কি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে? এবং কেউ পৃষ্ঠ প্রদর্শন করলে সে কখনো আল্লাহর ক্ষতি করতে পারবে না; বরং আল্লাহ শিগগিরই কৃতজ্ঞদিগকে পুরস্কৃত করবেন।’ (সুরা-৩ আল ইমরান, আয়াত: ১৪৪)। ‘মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা-৩৩ আহজাব, আয়াত: ৪০)।
Total Reply(0)
রাজিব ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৭ এএম says : 1
বিশ্বের সেরা নাম ‘মুহাম্মদ’। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রিয় নবী (সা.)–এর আলোচনা সমুন্নত করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আর আমি আপনার স্মরণ ও আলোচনা উন্নত করেছি।’ (সুরা-৯৪ ইনশিরাহ, আয়াত: ৪)।
Total Reply(0)
তাসফিয়া আসিফা ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৭ এএম says : 1
তিনি আহমাদ, অর্থাৎ সর্বাধিক প্রশংসাকারী। আহমাদ নামটি কোরআনে রয়েছে একবার।
Total Reply(0)
গাজী মোহাম্মদ শাহপরান ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 1
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ব্যক্তিজীবনে, সমাজ ও রাষ্ট্রে একমাত্র তাঁর অনুকরণ–অনুসরণই দিতে পারে মুক্তির দিশা।
Total Reply(0)
কায়সার মুহম্মদ ফাহাদ ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 1
মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট। তাঁর আদর্শ অশান্ত সমাজে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে পারে। তার চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ''নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে মহত্তম আদর্শ '' (আল-কোরআন)
Total Reply(0)
saiful ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ৯:৫৫ এএম says : 1
সন্মানিত লেখক সাহেব এবং ইনকিলাব সংশ্লিষ্ট সকলকে অনেক ধন্যবাদ এতসুন্দর বিষয় নিয়ে লিখার জন্যে এবং তা প্রকাশ করে আমার মত অধমকে তা পড়ার শুযোগ করে দেয়ার জন্যে। আল্লাহ্‌ তায়ালা আপনাদেরকে এর উত্তম প্রতিদান অবশ্যই দেবেন। আসলে প্রিয় হাবীব তাজেদারে কায়েনাত (সাঃ) এর শান, মান, গুনাগান প্রকাশ করার শাধ্য কারইবা আছে, যার শান মান গুনগান স্বয়ং রাব্বে জুলজালাল নিজেই করেন। সৃষ্টি কুলতো কেবল সেই মহান আল্লাহ্‌ -র অনুকরন করার ছেষ্টা করে নিজেদেরকেই সন্মানিত করে। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে তাঁর প্রিয় হাবীব (সাঃ) এর উসিলায় হিদায়েতের আলো দিয়ে আলোকিত করুন এবং দুনিয়ায় ও আখেরাতে কামিয়াবদের দলভুক্ত করুন। কত মহান সেই আল্লাহ্‌ যার কুদরতে আমাদের সকলের প্রান।
Total Reply(0)
habib ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১০:১৯ এএম says : 1
Allah nam ta na bole khuda bola jabe kina.... kew janale upokar pabo?
Total Reply(0)
Jack Ali ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৪৭ পিএম says : 0
we must not say Khuda.. We must Say Allah.
Total Reply(0)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ২৬ অক্টোবর, ২০২০, ১:০৯ পিএম says : 0
বিশ্বনবী(সাঃ)আগমনে পৃথিবীর জমিনজুড়ে আল্লাহর দ্বীন আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্টা হয়েছে প্রীয় নবী (সাঃ)জীবন্ত মোজেজা মহাপবিত্র আল কোরান। বর্তমানে জ্ঞানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রগতির চরম শিষ‍্যে অবস্থান করেছেন মানুষ। মুসলমানদের জীবন কেমন হবে। দুলনা থেকে কবর পযর্ন্ত ইসলাম পরিপূর্ণ ভাবে পবিত্র কোরান সুন্নাহে পরিস্কারভাবে লিপিবদ্ধ আছে বাংলাদেশের মুসলমান সহ বিশ্বের মুসলানরা বিভিন্ন দলে দলে বিবক্ত। মহানবী(সাঃ) বলেছেন বণি ইসরাইল ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে করতে ৭২ফেরকা হয়েছে। আমার উম্মতেরা৭৩হবে ফেরকা হবে।কঠিন ভয়ংকর বাণী তার মধ্যে৭২ফেরকা জাহান্নামী একটি হকের মধ্যে থাকবে জান্নাতি। এই হকের মধ্যে থাকা দল কোনটি আল্লাহর জমিনে এদের পরিচয় কিভাবে পাবেন গুরুত্বপূর্ণ ঈমানী প্রশ্ন। একটি দলতো অবশ্যই আছে। পরিপূর্ণ আল্লাহ্ রাসুল(সাঃ)দৌদ্দশত বসর আগের নুরের ইবাদতে আছে। আল্লাহর জমিনে আলেমদের অবশ্যই জানা আছে ছবি সংক্রান্তে অনেক গুলো হাদীস আছে। ছবি তুলা প্রকাশ করা কবিরা গুনাহ টিভি মোবাইলে ইন্টারনেটে ইউটিউবে আলেমদের ওয়াইজ পবিত্র কোরান সুন্নাহমতে শরিয়তের বিধান মতে করা যাবে কিনা? এইগুলিতে ছাওয়াব আছে কিনা? মুসলমান প্রীয় নবী(সাঃ)এর অনুসৃত সুন্নত সাহেবায়ে সুন্নতের পরিপন্থী হতে পারেননা। ফ্রান্সে প্রীয় নবী(সাঃ)ছবি প্রকাশ নিয়ে সারা পৃথিবীর মুসলমানদের কলিজায় আঘাত করেছে। আমরা মুসলমানদের ঈমান আকিদায় মৃত্যুর চায়তে বড়কষ্ট হচ্ছে। মহানবী(সাঃ)ছবি নিসিদ্ধ করেছিলেন।ছবি তোলা প্রকাশ করা কবিরা গুনাহের কাজ ছবি জায়েজ হলে প্রীয়নবী(সাঃ)সাহেবায়ে কেরামের ছবি হীরা স্বর্নখচিত করে আল্লাহর ঘরে ঘরে মানুষের বাড়িতে শোভা পেতেন নিশ্চিতরূপে। স্রোতের বাহিরে গিয়ে মতামত নয়। পবিত্র কোরান সুন্নাহের পক্ষের মতামত। ঈমানদার হওয়া মোমিন হওয়া আল্লাহর পথে সহজ সরল ভাবে চলা ভিষন কষ্টের। আল্লাহ্ আলেম সমাজ মুসলমানদের পকৃত মুসলমানের মতো চলার তৌফিক দেওয়ার প্রার্থনা করছি। শিরোনাম মহান আল্লাহর প্রীয় বন্ধু আল্লাহর পরে তুমি এ শ্রেষ্ঠ। আমিন আমিন আমিন। চুম্মা আমিন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন