ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

নববী আদর্শ : জীবন পথের আলোকবর্তিকা

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২:০০ এএম

আমাদের জীবনের চলার পথ- তা যতই বিচিত্র হোক, সকল কাজ-কর্ম; তা যতই বিক্ষিপ্ত হোক, সবকিছুতেই আছে ইসলামের সঠিক নির্দেশনা। আমাদের ব্যক্তি-জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন, সবক্ষেত্রেই আছে ইসলামের সুমহান নীতি ও আদর্শ, যে আদর্শের অনুসরণে জীবনের সকল ব্যস্ততা, তার সকল বৈচিত্র্য সত্তে¡ও, ভিতরে-বাহিরে এক কল্যাণ-আদর্শের ছাঁচে-ঢালা হয়ে যায়। জীবনব্যাপী নানাবিধ কর্ম-তৎপরতার খন্ড খন্ড অংশগুলো একত্র হয়ে অপরূপ লাভ করে। জীবনের গতি হয় একমুখী। জ্বী, মহান আল্লাহমুখী।

জীবন ও কর্মের এই একমুখিতা, অখন্ডতা মানুষকে দান করে এক অনির্বচনীয় প্রশান্তি। বিক্ষিপ্ততা, বিচ্ছিন্নতা ও লক্ষ্যহীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে, ছোট-বড়, স্বকল্পিত, মানব-রচিত অসংখ্য প্রভুর দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ লাভ করে এক বেহেশতি অনুভূতি, যার তুলনা এই মাটির পৃথিবীর আর কোনো কিছুর সাথেই হতে পারে না। মানুষের মুক্ত-স্বাধীন, পরিতৃপ্ত হৃদয় থেকে তখন উৎসারিত হয়- আলহামদু লিল্লাহ; সকল প্রশংসা আল্লাহর।

এই পবিত্র আদর্শ মহান রাব্বুল আলামীনের অতি বড় দান। তাঁর রবুবিয়্যাতের সুমহান প্রকাশ। মানুষের জীবন-ধারনের জন্য যিনি চারপাশের প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য উপাদান তিনিই মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য দান করেছেন সুমহান আদর্শ- দ্বীন ইসলাম। এই মহান দ্বীন যে মহামানবের সূত্রে আমরা লাভ করেছি, তিনি আমাদের প্রিয়নবী (সা.)। তাঁর ওপর কোরবান আমাদের জান-মাল সবকিছু। কোরবান আমাদের সকল স্বজন-প্রিয়জন-প্রিয় বস্তু।

তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সমগ্র মানবতার মুক্তির দূত। এই পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত তাঁর আনীত আদর্শই অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। তাঁরই ওপর নাযিল হয়েছে সর্বশেষ আসমানী কিতাব আলকুরআন। আর তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম হচ্ছে আল কোরআনের প্রায়োগিক ব্যাখ্যা। তাঁর পবিত্র সীরাত কিয়ামত পর্যন্ত সকল আল্লাহমুখী বান্দার চোখের জ্যোতি, আত্মার দ্যুতি, হৃদয়ের আলো, জীবন ও কর্মের আলোকবর্তিকা। মানবজাতির জন্য তিনি মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিআমত।

তাঁর ওপর ঈমান আনা ছাড়া কেউ আল্লাহর কাছে মুমিন গণ্য হয় না। তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর ইবাদত হয় না। তাঁর ইত্তিবা ও অনুসরণ ছাড়া কোনো ভালো কাজ নেক আমল হয় না। তাঁর জীবনাদর্শের অনুসরণ ছাড়া কোনো জীবন আদর্শ জীবন হয় না। তাঁকে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। তাঁর আনুগত্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায়। তাঁর পবিত্র জীবনের অনুসরণ দুনিয়া-আখিরাতে সফলতার চাবিকাঠি। যে আদর্শের অনুসরণে জীবন আল্লাহমুখী হয়, মানুষ আল্লাহওয়ালা হয়, জীবনের সকল কাজ-কর্ম আল্লাহ মুখিতার আলোকিত সূত্রে সুবিন্যস্ত-আলোকিত হয়ে যায় তিনি সেই আদর্শের শ্রেষ্ঠ নমুনা।

যুগে যুগে তাঁরই পবিত্র সীরাতের স্পর্শে কত অর্থহীন জীবন হয়েছে অর্থপূর্ণ। কত সংকীর্ণ কূপমন্ডুক জীবন পরিণত হয়েছে কুলকিনারাহীন বিশাল সিন্ধুতে। কত লক্ষহীন অস্থির জীবন পেয়েছে স্থির লক্ষ্যের সন্ধান। কত বিচ্যুত জীবন উঠে এসেছে জীবন ও আদর্শের আলোকিত রাজপথে। শুধু নিজেই উঠে আসেনি বরং তুলে এনেছেন আরো অসংখ্য জীবনকে। মহান আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, চিরকাল!

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৬ এএম says : 0
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবজাতির অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় মহান উদার, বিনয়ী ও নম্র ব্যক্তিত্ব। তিনি উত্তম চরিত্র ও মহানুভবতার একমাত্র আধার। পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, প্রতিবেশী সবার অকৃত্রিম শিক্ষণীয় আদর্শ ও প্রাণপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নবী করিম (সা.) একাধারে সমাজসংস্কারক, ন্যায়বিচারক, সাহসী যোদ্ধা, দক্ষ প্রশাসক, যোগ্য রাষ্ট্রনায়ক এবং সফল ধর্মপ্রচারক। কল্যাণকর প্রতিটি কাজেই তিনি সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর অসাধারণ চারিত্রিক মাধুর্য ও অনুপম ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সূরা আল-আহজাব, আয়াত: ২১)
Total Reply(0)
মমতাজ আহমেদ ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৭ এএম says : 0
জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মতনির্বিশেষে সব মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠতর স্বভাব-চরিত্রের অতুলনীয় আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁর স্বভাব-চরিত্রের মধ্যে বিনয় ও নম্রতা ছিল সদা জাগ্রত। সর্বোত্তম আদর্শের বাস্তবায়নকারী ও প্রশিক্ষক হিসেবেই তাঁকে বিশ্বমানবতার কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি উত্তম চরিত্রের পরিপূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত)
Total Reply(0)
সোলায়মান ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৮ এএম says : 0
নবী করিম (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ থেকে মানুষের প্রতি সর্বোত্তম ব্যবহার, বিনয়ী চরিত্র, বিনম্র ব্যক্তিত্ব, আনুগত্যতা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসেবা ও মানবকল্যাণ সুনিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়।
Total Reply(0)
নাজিম ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৮ এএম says : 0
সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর ইবাদত হয় না।
Total Reply(0)
রুহান ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৯ এএম says : 0
মহানবী (সা.) সৎ স্বভাব, সত্যনিষ্ঠা, সৌজন্যবোধ, বিনয় ও নম্রতার যে অনুপম শিক্ষা দিয়েছেন, তা আমরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারি। তাঁর সাধারণ জীবনযাপন, বিনম্র আচার-আচরণ, উপদেশাবলি অনুশীলন করলে এবং আদর্শ গুণাবলি নিজেদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুশীলন করে চললে মানুষ ইহকালীন কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তি লাভে ধন্য হতে পারে।
Total Reply(0)
salman ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ৫:৪৩ এএম says : 0
Ameen, Summa AMEEEN
Total Reply(0)
Shafaeth Hossain ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ২:৪৫ পিএম says : 0
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ছিলেন সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ট রাসুল ।আল্লাহ যুগে যুগে অসখ্য নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন কিন্ত আমাদের নবী হচ্ছে শেষ এবং শ্রেষ্ট রাসুল , আমরা যদি তার আদর্শ এবং দেখানো পথে চলতে পারি তাহলে কখনো পথব্রষ্ট হব না ।
Total Reply(0)
Jack Ali ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ৮:২২ পিএম says : 0
How come we call ourselves Muslim whereas our country ruled by the Law of Kafir instead of Allah's Law as such they have destroy our people's morality and also our country.. Our Beloved country look like a dustbin look at the European country, how beautiful and clean. When Muslim used to rule by the Law of Allah we were best in Technology/Arithmetic/ Navigator/Astronomy/Medicine/arms and ammunition and more things and that time European people used to live in a cave.
Total Reply(0)
মুফতি আজহারুল ইসলাম আল ইমদাদী ২০ নভেম্বর, ২০২০, ৫:৫৯ পিএম says : 0
মাশাল্লাহ
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন