সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ছাতকে প্রবাসী যুবকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা

বলির পাঠা ডায়না সুন্দরী!

ছাতক (সুনামগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ জুলাই, ২০২১, ৯:০৫ পিএম

সুনামগঞ্জের ছাতকে ডায়না সুন্দরী নামের এক যুবতীকে জিম্মি করে বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালী একাধিক যুবকদের সাথে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে পরিবারের লোকজনরা হাতিয়ে নিতো লাখ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী বাঙালী যুবকরা ডায়নার ফান্দে পড়ে নি:স্ব হয়ে ঘুরছেন। আলোচিত ডায়না সুন্দরী উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মুলতানপুর গ্রামের ফনা উল্যাহর কন্যা।

জানাযায়, ফনা উল্লা ও দিলা বেগম দম্পতির ৫ কন্যা ও ৩ পুত্র। এদের মধ্যে ডায়না সুন্দরীর বড় বোন রিনা বেগম গৃহকর্মী হয়ে থাকেন সউদী আরবে। প্রবাসে থেকে ইমু, হোয়াটসাট ও ফেসবুকের ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালী একাধিক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন রিনা। যুবকদের সাথে নিজের ছোট দুই বোনকেও ভিডিও কলে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

এক পর্যায়ে দেশে থাকা তার স্বামী, উজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের মামনপুর গ্রামের আলী হোসেন, ভাই জয়নাল ও ইমাদ উদ্দিনের মাধ্যমে নিজের ছোট দুই বোন রোবেনা ও ডায়নাকে জিম্মি করে গঠন করে একটি প্রতারক চক্র। এ চক্রটি ভিডিও কলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১২টি দেশে বসবাসরত বাঙালী অসংখ্য যুবকদের সাথে রোবেনা, ডায়না ও রিনারা প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে। ভিডিওকলে যুবকদের সাথে নিজেদের শরীর বিবস্ত্র করে স্পর্শকাতরসহ লজ্জাস্থান দেখিয়ে যুবকদের আকৃষ্ট করতো। এতে যুবকরাও তাদের বিশেষ অঙ্গ যুবতীদের দেখিয়ে ফায়দা লুঠতো। যখন যুবকরা যৌবনের জ্বালা নেভানোর চেষ্টা করতো ভিডিও কলে তখন এ সুযোগে যুবতীরা স্কিনশর্টে ভিডিও ও ফেইসসহ তাদের বিশেষ অঙ্গের ছবি সংগ্রহ করে টাকার জন্য হুমকি দিতো। অন্যথায় ভিডিও ও ছবিগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে মান সম্মানের হানী করবে এমন ব্ল্যাকমেইল করে যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করতো এ প্রতারক চক্রটি।

এ চক্রে প্রতারিত হওয়া যুবকরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সউদী আরব প্রবাসী আবদুল জলিল, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গ্রীস প্রবাসী হাছান তালুকদার, মালয়শিয়া প্রবাসী আবদুর রহিম, পর্তুগাল প্রবাসী তোফায়েল আহমদ, কাতার প্রবাসী রুকন উদ্দিন, দুবাই প্রবাসী আলী আকবর, ওমান প্রবাসী নোমান আহমদ, ইতালী প্রবাসী ছাদিকুর রহমান, ইরান প্রবাসী মকবুল আলী, ইরাক প্রবাসী মিছবাহ উদ্দিন ফকিরসহ দেশ ও প্রবাসের অসংখ্য যুবক। এদের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আলী হোসেন-জয়নাল প্রতারক চক্র।

এদিকে, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ডায়না আক্তার ওরফে ডায়না সুন্দরী পরিবারের জিম্মিদশা থেকে সুকৌশলে রাতের আঁধারে পিত্রালয় থেকে পালিয়ে মৌলভীবাজার জেলাধীন বড়লেখা উপজেলার আবদুল গফুর’র ছেলে সউদী আরব প্রবাসী আবদুল জলিল’র কাছে চলে যায়। পালিয়ে গিয়ে সে তার প্রেমিক জলিলের সাথে বিয়েও করেছে।

অপরদিকে, কন্যা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার মাতা দিলা বেগম বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি অপহরণের এজাহার দাখিল করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই এলাকার খাদিজা বেগম ও সাবানা বেগম নামের দুই গৃহবধূকে। অথচ পালিয়ে যাওয়া সেই ডায়না সুন্দরী অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও করে জানান দিচ্ছেন, তিনি পরিবারের জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য পালিয়ে বিয়ে করে সংসার নিয়ে বেশ সুখেই আছেন। তাকে অহেতুক খোঁজাখুঁজি না করতে অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি তিনি তার ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেছেন বড় বোন রিনা বেগম ও তার স্বামী আলী হোসেন, ভাই জয়নাল ও ইমাদ উদ্দিন কর্তৃক তাকে জিম্মি করে যুবকদের সাথে অপকর্ম ও অসামাজিক কার্যকলাপের কথা। ব্ল্যাকমেইল করে যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে ডায়না বলেন, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চক্রের সদস্যরা ভিডিওকলে শরীর উলঙ্গ করে স্পর্শকাতর স্থান দেখানো হতো এবং ব্ল্যাকমেইল করে যুবকদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা আদায় করতো তারা। পরে এ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিতো চক্রের সদস্যরা। সে আরও বলে, এক যুবকের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে ৫লাখ টাকা আদায়ের পর ইমাদ উদ্দিন নামের এক ভাইকে প্রবাসে পাঠিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা যুবকদের কষ্টের সবটাকাগুলো তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে ডায়না তার পরিবারের প্রতি আহবান জানান।

এসব তথ্যে এখন ওই চক্রটি ফেঁসে যাচ্ছে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসবে মুল রহস্যসহ চক্রটির নাম তালিকা ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের হিসাব। বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। অপহরণের ঘটনা এনে সাজানো মামলার বাদিনীও ফেঁসে যেতে পারেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এহতেশাম তালুকদার জানান, নিখোঁজ মেয়েটির সঙ্গে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত একাধিক যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কে একটি ছেলের সাথে সে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, নিখোঁজ ভিকটিমকে উদ্ধারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাকে উদ্ধার করলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন