শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩ আশ্বিন ১৪২৮, ১০ সফর ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

রাতের শাখারিয়া এখন আলোয় ঝলমল করে

ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তি উদ্যোগ

বগুড়া ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১ আগস্ট, ২০২১, ১২:০১ এএম

নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে সরকারি বরাদ্দের শতভাগ ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পদক্ষেপে ফলাফল ভালো হয়। আর এমন ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার শাখারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক কামরুল হুদা উজ্জল।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চেয়ারম্যান জানান, ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মোড় এবং সড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ স্পটে ব্যক্তিগত খরচে ১৫০টি বৈদ্যুতিক বাতি লাগিয়েছেন। এতে করে পুরো শাখারিয়ায় এখন রাতে আলোয় আলোয় ঝলমল করে। এই খাতে খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে বিল আসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এর পুরোটাই তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বহন করেন।
শাখারিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন জানান, বাতির বদৌলতে সড়ক থেকে রাতের আধার কেটে যাওয়ায় অপরাধ নেই বললেই চলে। ইউনিয়নের লোকজনও বলছেন, সড়ক বাতি অনেক সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে।
গত ২৫ জুলাই ইউনিয়নের উপনির্বাচনে জয়লাভের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি সরকারি বরাদ্দের শতভাগ কাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নকেই তিনি ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। দুই বছরের স্বল্প মেয়াদেই এলজিউডির অর্থায়নে রাস্তা নির্মাণ ও সংষ্কারে ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রাম হবে শহর’ প্রকল্পের আওতায় এডিবি, এলজিএসপি, উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় আরসিসি রোড, ব্রিক সোলিং, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণ, সংষ্কার, মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল ও কলেজের উন্নয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ব্রিজ।
এদিকে ইউপি সচিব জানান, প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দুই বছরে ৫০০ বয়ষ্ককে ভাতা দেওয়া হয়েছে। একই পরিমাণ টাকা পেয়েছেন ২৫০ জন বিধবা। ২৩০ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন ৭৫০ টাকা করে। ১৭০ নারী গর্ভবতী বাতা পেয়েছেন জনপ্রতি ৩২ হাজার টাকা করে।
সচিব আরো জানান, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ২৬৭ জনকে মোবাইলের মাধ্যমে আড়াই হাজার করে তিন দফায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এই টাকা নিয়ে অভিযোগ উঠেেলও শাখারিয়ায় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কঠোর নজরদারিতে কোন নয়ছয় হতে পারেনি।
কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকাসক্তি, ইভটজিং, যৌতুক সমস্যা মোকাবিলায় চেয়ারম্যান উজ্জল শাখারিয়ায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অলস বসে থাকা গ্রাম পুলিশ এখন পুরো ইউনিয়েনে নিয়মিত টহল দেয়। ভূমি ও বালু দস্যুতা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কারনে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে শাখারিয়া ইউনিয়ন।
ইউপি সদস্যরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সৎ ও আন্তরিক হলে সরকারি বরাদ্দের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তার উদহারণ হচ্ছে বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়ন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন