বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৬ মাঘ ১৪২৮, ১৬ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

বড় পীর আবদুল কাদের জীলানী (রহ.)

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী | প্রকাশের সময় : ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

গতকাল ছিল ১১ রবিউসসানী। ৫৬১ হিজরীর এই দিনে নশ্বর এই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন বড় পীর আবদুল কাদের জীলানী (রহ.)। পুরো পৃথিবীতে বিশেষ করে এই উপমহাদেশে দিনটি ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম নামে পালিত হয়। তাঁর পূর্ণ নাম মুহিউদ্দিন আবু মোহাম্মদ ইবনে আবু সালেহ মুছা জঙ্গী (রহ.)। তিনি একজন কামেল সুফী ধর্ম প্রচারক ছিলেন। তার নামে কাদেরিয়া তরীকার নামকরণ করা হয়েছে। ৪৭০ হিজরীতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। পিতৃকুলে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হাসান (রা.)-এর সরাসরি বংশধর ছিলেন। তার জননী ছিলেন আবদুল্লাহ আস মাউমেয়ী (রহ.)-এর কন্যা ফাতিমা (রহ.)। তারা উভয়েই সে যুগের শ্রেষ্ঠ দরবেশ ছিলেন। তিনি যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, তার নাম নীক বা নায়ক। তা কাম্পিয়াম সাগরের দক্ষিণে গীলান বা জীলান জেলায় অবস্থিত।

আঠার বছর বয়সে তিনি পড়াশুনার জন্য বাগদাদে প্রেরিত হন। তিনি আল্লামা তিবরিযা (রহ.)-এর নিকট ভাষাতত্ত্ব এবং কয়েকজন শায়খ বা উস্তাদের নিকট হাম্বালী মতান্তরে শাফেয়ী ফিকাহ অধ্যয়ন করেন। তার ৪৮৮ হতে ৫২১ হি. পর্যন্ত জীবন কাল সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তা হলো এ সময়ে তিনি হজ করেন ও বিবাহ করেন। কারণ তার পুত্র-কন্যার মধ্যে একজনের জন্ম হিজরী ৫০৮ সালে।

কোনো কোনো গ্রন্থাকারের মতে, তৎকালীন সময়ে তিনি ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাজারের খাদিমও ছিলেন। তিনি আবু খায়েরের মোহাম্মাদ ইবনে মুসলিম (রহ.)-এর নিকট সুফীবাদ শিক্ষা করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্থির দৃষ্টিতে তাকাতেই আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) সুফী মতে দীক্ষিত হয়ে পড়েন। উস্তাদ আবুল খায়ের (রহ.)-এর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করতে তাকে যথেষ্ট শ্রম স্বীকার করতে হয়। আবুল খায়ের (রহ.)-এর খানকাহ্্র মধ্যে একজন আইনজ্ঞ ব্যক্তির অনুপ্রবেশ অন্য শিক্ষারত সাধকদের ক্ষোভ প্রকাশের কারণ হয়েছিল বলে জানা যায়।

কিছুকাল পর আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) সুফী পরিচ্ছদ লাভের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। বাগদাদে হাম্বলী ফিকহের একটি মাদ্রাসা ছিল। সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাযী আবু সাঈদ মাখযুমী (রহ.) তাকে শিক্ষাদান করেন। ৫২১ হি. সালে সুফী ইউসুফ আল হামযানী (রহ.)-এর পরামর্শে তিনি প্রকাশ্যে প্রচার কার্য আরম্ভ করেন। প্রথমে তার শ্রোতার সংখ্যা ছিল অল্প। ক্রমশ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বাগদাদের হালবা দ্বারের বিখ্যাত কক্ষে আসন গ্রহণ করেন। কিন্তু শ্রোতার সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলায় তাকে দরজার বাইরে যেতে হয়। যেখানে তার জন্য একটি বিরাত বা খানকাহ নির্মিত হয়।

৫২৮ হিজরী সনে জনসাধারণের চাদায় পার্শ্ববর্তী অট্টালিকাগুলো মুবারাকুল মাখযুখীর মাদ্রাসার অন্তর্ভুক্ত করে আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-কে তার অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়। তার কার্যপ্রণালীর প্রকৃতি ছিল সম্ভবত জামালুদ্দিন আয জাওমীর অনুরূপ। শুক্রবার প্রাতে ও সোমবার সন্ধ্যায় তিনি তার মাদ্রাসাতে ওয়াজ করতেন। রবিবার প্রাতে করতেন খানকায়। তার অসংখ্য ছাত্রের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীকালে দরবেশ বলে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

তার ধর্মোপদেশ শ্রবণে অনেক ইহুদি ও খ্রিষ্টান ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল বলে জানা যায়। এতে অনেক মুসলমানও উচ্চতর জীবন লাভে ধন্য হয়। বহু স্থানে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার ফলে বহু স্থান হতে তার নিকট নজর নিয়াজ আসত। এর দ্বারা তিনি প্রার্থীদের চাহিদা পূরণ করতেন এবং সর্বদাই গৃহদ্বার খোলা রাখতেন। দেশের সকল অংশ হতে তার নিকট ইসলামী আইন সংক্রান্ত প্রশ্ন প্রেরিত হতো। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই এগুলোর উত্তর দিতেন। এতে অনুমতি হয় যে, তৎকালীন খলিফাগণ তার অনুরক্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তন্মধ্যে বিখ্যাত (১) ফাতহুল গায়ের আল গুনিয়াতুত তালেবীন (২) আল ফাতহুর রাব্বানী, (৩) ফতুহুল গায়ব, (৪) সিবরুল আসরার প্রভৃতি। আল্লাহপাক তাকে কুরব ও মানজেলাতের আ’লা হতে আলা দারাজাত দান করুন। আমীন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Md.Rashadujaman ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৪ এএম says : 0
সমকালে মানুষের মুখে আজও উচ্চারিত হয় একটি নাম—বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)। তাঁকে নিয়ে অনেক কথা, কিংবদন্তি বিদ্যমান সমাজে। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভক্তরা তাঁকে স্মরণ করেন।
Total Reply(0)
MD Year Ali Sikder ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৪ এএম says : 0
প্রচলিত পীরের যে ধারণা, তার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে শায়খ আবদুল কাদের জিলানির মিল নেই। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত এক আলোর সারথী।
Total Reply(0)
Bijoy Mojumder ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৫ এএম says : 0
তিনি মুসলিম মিল্লাতের, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধঃপতন দূর করে তাদের সিরাতুল মুস্তাকিমে পুনঃস্থাপনের জন্য চালিয়েছিলেন বিরামহীন সংগ্রাম।
Total Reply(0)
Nazmul Hasan ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৬ এএম says : 0
আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)- বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে ইসলামি দর্শনকে মুক্ত করার জন্য করেছিলেন আমরণ সাধনা। প্রমাণ করেছিলেন এর শ্রেষ্ঠত্ব। গ্রিক ও ভারতীয় অনৈসলামি পরিবেশ থেকে ইসলামি তাসাউফকে উদ্ধার করে ভাস্বর করে তুলেছিলেন স্বকীয় মহিমায়। শরিয়তকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
Total Reply(0)
Jahidul Islam ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৬ এএম says : 0
প্রতিবছর এই মনীষীর মৃত্যুর দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিনটি ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম হিসেবে পালিত হয়।
Total Reply(1)
Muhammad Munir Uddin ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ৫:১৮ এএম says : 0
আউলিয়ায়ে কেরামগণের মৃত্যুর নেই, এমনকি মুমিনদেরও মৃত্যুর নেই।
সাইফুল ইসলাম ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১১:৩৩ এএম says : 0
লেখাটি থেকে অনেক কিছু জানতে পালাম। আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুক
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন