রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

তকদীর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) অবহিত ছিলেন-১

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৮ এএম

বিষয়টি জটিল। এটি আলোচনা করতে গেলে একজন মোমেন মুসলমানেরও ঈমান হারানোর আশঙ্কা থাকে। খোদ রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন: ‘ইযা অছালাল কালামু ইলাল কাদরি ফামসিকু’। অর্থাৎ তোমরা যখন আলাপ আলোচনায় লিপ্ত হও, তকদীরের বিষয় এসে গেলে তা থেকে বিরত হয়ে যাও। হুজুর (সা.)-এর এ বক্তব্যের তাৎপর্য এই যে, এ বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক বাহাসের শেষ নেই, বড় বড় জ্ঞানী লোকদেরও এতে পদস্খলন ঘটতে পারে।

কথিত আছে যে, একজন জগদ্বিখ্যাত আলেম তার ওফাতের সময় আল্লাহর ‘ওয়াহদাত’ (একত্ব) সর্ম্পকে ইবলিশের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ইবলিশ তার প্রদর্শিত সকল যুক্তি খণ্ডন করতে থাকে। সে যুগের একজন বিখ্যাত সাধক ওই আলেম ও ইবলিশের মধ্যে চলমান বাহাস ‘কাশফের’ মাধ্যমে অবলোকন করছিলেন এবং তিনি তখন কোনো নামাজের জন্য লোটা বা পাত্রের দ্বারা ওযু করছিলেন। তিনি ইবলিশের সাথে তর্কে লিপ্ত আলেমের প্রতি ওযুর পাত্রটি নিক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘হে ইমাম! বলে দিন বিনা দলিলে আল্লাহ এক।’ পাত্রটি তার সামনে এসে পড়ে এবং তিনি উক্ত বাক্যটি শুনতে পান। তিনিও তাই ব্যক্ত করেন এবং ইন্তেকাল করেন। এইভাবে তিনি বড় বিপদ হতে রক্ষা পান।

কথিত আছে যে, ওই সময় সাধকের নিকট যারা উপস্থিত ছিলেন, তারা অস্বাভাবিক এ আচরণ প্রত্যক্ষ করে সাধককে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি যা বলেন, তার মর্ম এই যে, উক্ত আলেম সাধকের আচরণকে পছন্দ করতেন না। তিনি মনে করলেন যে, মৃত্যুর সময় আলেম ইবলিশের নিকট পরাজিত হয়ে ঈমান হারানোর বসেছেন। তাই তিনি শয়তানের খপ্পর থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য এ উপায় অবলম্বন করেন।

এখানে আমাদের আলোচনার বিষয় তকদীর নয়, তবে তকদীরের ব্যাখ্যা এবং সে সর্ম্পকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অবহিত করার ব্যাপারে শিকলপরা এক অপরিচিত ব্যক্তির দুলর্ভ ঘটনাটি বর্ণনা করা যা, মোতাজেলা সম্প্রদায়ের এক শায়খ সর্ম্পকিত। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনে খাল্লেকানের বরাতে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে, যা এইরূপ:

বসরার মোতাজেলা সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট শায়খ আবুল হোজায়ল মোহাম্মাদ ইবনে আল হোজায়ল আল আল্লাফ (মৃত্যু ২২৭ হিঃ), একবার বাগদাদের দিকে যাত্রা করেন। পথে শিকলে বাঁধা এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যাকে এক মহিলা বন্দি করে রেখেছে, যার নাম তিনি জানেন না। এ লোকটি একজন পরিচিত লোকের ন্যায় আবুল হোজায়লকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো কোনো প্রশ্নের জবাব দেন এবং কোনো কোনো বিষয়ে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি সকল প্রশ্নের জবাব খোদ প্রশ্নকর্তাকেই দিতে অনুরোধ করেন। লোকটি বলেন, আগে মহিলাকে বল আমার শিকল খুলে দিতে, মহিলাকে বলা হলে সে শিকল খুলে দেয় ।

আবুল হোজায়ল লোকটির বক্তব্য উদ্ধত করে বলেন যে, তকদীর সৃষ্টির পর তকদীর সংক্রান্ত সকল বিষয় সর্ম্পকে আল্লাহ তা’আলা তাঁর হাবীব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ওয়াকেফহাল করেন, যার ফলে তাঁর কোনো পাপ কর্ম ছিল না ।

আবু হোজায়ল আল্লাফ বসরি সরাসরি ঘটনাটির নায়ক হিসেবে লোকটির এক অদ্ভুত বিষয়ের অবতারনা করেন, যেমন তার নাম পরিচয়, ওই ব্যক্তির নিজ পক্ষ হতে বলে দেয়া, নিদ্রা সম্পর্কে প্রশ্ন করা এবং নিজেই জবাব দেয়া। রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্ম্পকে তাঁর (মোতাজেলাদের) আকিদা বিশ^াস বলে দেয়া এবং হুজুর (সা.) কর্তৃক তাঁর ওফাতের পরে পরবর্তী তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি সম্পর্কে উপদেশ এবং তকদীরের ব্যাখ্যা করা। মোতাজেলা শায়খ আল্লাফ বসরীর ঘটনার বিবরণ:

তিনি একবার বসরা হতে টাট্টুতে (সাওয়ার) হয়ে খলিফা মামুনুর রশীদের দরবারে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের এবাদত খানা পড়ে। তিনি দেখতে পান, এক ব্যক্তিকে এবাদতখানার দেয়ালের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি তাকে দেখে সালাম জানান। লোকটি সালামের জবাব দিয়ে গভীরভাবে তার (আবুল হোজায়ল) দিকে তাকাতে থাকেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি মোতাজেলী? তিনি জবাবে বললেন, জ¦ী হ্যাঁ। আমি মোতাজেলী। তুমি কি আমার সামনে? বললেন, জ¦ী, আমি আপনার সামনে (এতে মনে হয় লোকটি অন্ধ ছিলেন)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Borhan Uddin ২১ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৪৪ এএম says : 0
আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা আমাদের তকদিরের সঠিক জ্ঞান এবং সঠিক আকিদায় মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দান করেন। আমীন।
Total Reply(0)
Habibul Nabi ২১ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৪৫ এএম says : 0
রাসূলুল্লাহ সা: স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তোমার তকদিরে যা ছিল তাই তুমি পাবে আর যা নেই তা তোমার সাথে হবে না। যখন তোমার সাথে খারাপ কিছু হবে। তখন বলবে না যদি এমন এমন করতাম তবে এমন হতো, তখন তুমি বলবে আল্লাহ আমার তকদিরে এটাই রেখেছেন, তাই এটাই হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, তুমি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। না, বরং তুমি যেটাকে কল্যাণকর মনে করো সেটার জন্য চেষ্টা করবে।’ অর্থাৎ আমরা যেটাকে কল্যাণকর মনে করি আমরা সেটার জন্য চেষ্টা করব। চেষ্টা করার পর যদি আমরা পাই আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করব, যদি না পাই তাহলে আমরা বলব, আমাদের তকদিরে এটা ছিল না তাই আমরা এটা পাইনি।
Total Reply(0)
Nadim Mostofa ২১ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৪৩ এএম says : 0
তকদির এমন একটি বিষয় আমরা জানি যে, সেটা গায়েবি বিষয়। এখানে আমরা শুধু ততটুকুই বলতে পারব যতটুকু আল্লাহ এবং তার রাসূল সা: বলেছেন। এর ব্যতিক্রম আমরা কিছুই বলতে পারব না, আমরা এর ব্যতিক্রম কিছুই জানি না।
Total Reply(0)
Md.Rashadujaman ২১ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৪২ এএম says : 0
তকদিরে বিশ্বাস ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঈমান আনার জন্য তকদিরে বিশ্বাস জরুরি।
Total Reply(0)
Nagir Ahmed ২১ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৪৩ এএম says : 0
আমরা তকদিরের আলোচনা সম্পর্কে কোনো যুক্তি দিয়ে, তর্ক দিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না।
Total Reply(0)
Kazi ২১ নভেম্বর, ২০২১, ১০:১২ এএম says : 0
Takdeer can be changed by dua & dua will be accepted only after prayer. Please pray 5 times everyday, make long dua & receive good rewards from Allah (SWT) in sha Allah.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন