সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

আখেরাতের জীবনই উত্তম ও অবিনশ্বর

খুৎবা-পূর্ব বয়ান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাক। অথচ আখেরাতের জীবনই উত্তম ও অবিনশ্বর। নিশ্চয়ই এ কথা (শুধু কোরআনেই নয়) পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহেও বিদ্যমান আছে।’ সূরা আলা : ১৬-১৮। গতকাল জুমার খুৎবা-পূর্ব বয়ানে এসব কথা উঠে এসেছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, পৃথিবীতে সবাই চায় সফল হতে, প্রত্যেকেই চায় বুদ্ধিমান হিসেবে নিজেকে জাহির করতে। অথচ আমরা জানি না, প্রকৃত সফল এবং বুদ্ধিমান কারা। যাদের অঢেল ধন সম্পদ আছে এবং ক্ষমতা আছে তাদের আমরা সফল ভাবি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য সে কি ঐ ব্যক্তির সমান, যে অন্ধ? তারাই বোঝে, যারা বোধশক্তি সম্পন্ন। আল্লাহ স্বীয় নবীকে বলেন, হে মুহাম্মদ যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে বলে যে স্বীকার করে আর যে সত্য বলে স্বীকার করে না তারা কখনো সমান হতে পরে না। আল্লাহ তায়ালা ঐ মহান ব্যক্তিদের প্রশংসনীয় গুণাবলি বর্ণনা করেছেন যারা আখেরাতে জান্নাতের মালিক হবেন এবং দুনিয়াতেও তারা উত্তম প্রতিদান পাবে।

যারা আল্লাহর (সাথে কৃত) প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না। আর আল্লাহ যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন তা বজায় রাখে এবং স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবের আশঙ্কা রাখে। আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কি জানো, আল্লাহর সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে কারা প্রবেশ করবে?’ সবাই বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সৃষ্টিকূলের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে দরিদ্র মুহাজিররা। যাদের মাধ্যমে সীমান্তের প্রহরা নিশ্চিত করা হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এ সকল বিষয়গুলোর ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জামে মসজিদ এর খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী গতকাল জুমার খুৎবা-পূর্ব বয়ানে বলেন নেক সন্তান আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব নিয়ামত। পবিত্র কোরআনে সন্তানকে দুনিয়ার জীবনের শোভা এবং হাদিস শরীফে তাদেরকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ধন সম্পদ এবং সন্তান সন্তুতি পার্থিব জীবনের শোভা সৌন্দর্য মাত্র। (সূরা কাহফ, আয়াত নং ৪৬)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় বান্দার সাতটি আমলের প্রতিদান সদকায়ে জারিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকে। যা হচ্ছেÑ ইলমে দ্বীন শিক্ষা দেয়া, মানব কল্যাণে নদী খননের ব্যবস্থা করা, কূপ খনন করা, কোনো (খেজুর) গাছ রোপণ করা, মসজিদ নির্মাণ করা, কোরআন (তিলাওয়াতের জন্য অথবা এর আহকাম জীবনে বাস্তবায়নের জন্য) কাউকে দান করা, এমন সন্তান রেখে যাওয়া, যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। (সহিহুত তারগিব, হাদিস নং : ৭৩)। তাই সন্তানকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই প্রাণপন চেষ্টা করা। আর এ জন্যে সময়মতো তার সঠিক পরিচর্যা করা। অন্যথায় এই সন্তানই মাতা পিতার ইহকাল পরকালের অশান্তির কারণ হতে পারে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষা করো। (সূরা তাহরীম, আয়াত : ৬)। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বসর হয় তখন তাদের নামাজের নির্দেশ দাও। আর বয়স ১০ বছর হলে তখন (নামাজ আদায় না করলে) প্রয়োজনে মৃদু প্রহার করো এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দাও। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)। আল্লাহ তায়ালা সকলকে তার স্বীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সন্তানকে নেক ও সৎ চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার তৌফিক দান করেন। আমীন।
ঢাকা শেওড়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি সিফাতুল্লাহ রহমানি জুমার নামাজের পূর্বে বয়ানে বলেন, পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘হে রাসূল আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলো আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন যদি আপনি এরুপ না করেন, তবে আপনি তার পয়গাম কিছুই পৌঁছালেন না’ (সূরা মায়িদা ৬৭)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, এটি (পবিত্র কোরআন) এমন একটি গ্রন্থ যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আপনি এর মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন করেন। আর এটি বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ। অতএব এটি পৌঁছে দিতে আপনার মনে সঙ্কীর্ণতা থাকা উচিত নয়। তোমরা অনুসরণ করো যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের অনুসরণ করো না’ (সূরা আ’রাফ, ২৩)। ‘এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন’ (সূরা ইবরাহিম, ১)। কুফর শিরক এবং মন্দ কাজের অন্ধকারসমূহ থেকে মানুষকে মুক্ত করে ঈমান এবং নেক আমলের আলোর দিকে এনে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে আল্লাহর নির্দেশ পালন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

গুলিস্তান রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী গতকাল জুমার বয়ানে বলেন, সূরা ফাতিহা মূলত একটি বিশেষ দোয়া বা প্রার্থনা। এ সূরায় মানবজীবনের মূল আকুতি ফুটে উঠেছে। নামাজের প্রতি রাকাতে এ সূরার তেলাওয়াত বাধ্যতামূলক করে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে লাগাতার চিন্তা ভাবনা ও আল্লাহ তায়ালার কাছে তা চাওয়াকে চেতনায় বদ্ধমূল করেছেন। যেমন পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কোনো কিছু ইচ্ছাই করতে পারো না, যদি না সে ব্যপারে আল্লাহ ইচ্ছা করে থাকেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা দাহার : ৩০)। আল্লাহ যা পছন্দ করেন ও ভালোবাসেন এমন প্রত্যেকটি প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের নাম হচ্ছে ইবাদাত। (মাজমু ফাতাওয়া)। সুতরাং কোনো কিছু আল্লাহর দরবারে ইবাদত হিসেবে কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত অবশ্যই থাকবে। প্রথমত: সেটা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হতে হবে। তাতে থাকবে পরিপূর্ণ ভালোবাসা, বিনয় ও ভীতি। যাকে ইখলাস বলা হয়। দ্বিতীয়ত: সেটা হতে হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
M A Badsha ২২ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৪৪ এএম says : 0
আমরা দুনিয়ার পিছনে এমনভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে মৃত্যুকে পর্যন্ত ভুলে গেছি। শুধু দুনিয়া আর দুনিয়া করছি, পরকালকে বেমালুম ভুলে রয়েছি।
Total Reply(0)
Mahabub Alam ২২ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৪৫ এএম says : 0
জীবনের বিচিত্র স্রোতধারা নিষিদ্ধ অঞ্চলের দিকে কেবলই ধাবমান অত্যন্ত নির্বোধভাবে। অন্য কিছু নিয়ে ভেবে দেখার ফুরসত যেন কারো নেই।
Total Reply(0)
Kajal Motahar Alam ২২ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৪৫ এএম says : 0
সামরকি বাহিনীর বিপদ সংকেতের অংশত শুনতে পেলেও দিশেহারা হয়ে ছুটতে থাকে সবাই অজানা গন্তব্যের দিকে, পক্ষান্তরে বিশ্ব-পালক যে বিপদের ঘোষণা দিলেন সে ব্যাপারে কাউকে সামান্যতম উদ্বিগ্ন বলে মনে হয় না। ঐশী বিপদঘন্টা শুনে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে ছুটে যাওয়ার আগ্রহ যেন কারুরই নেই। এর কারণ কী ?
Total Reply(0)
H M Moniruzzaman Mohsin ২২ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৪৬ এএম says : 0
আসলে মৃত্যুর পর মানুষ যখন সমাহিত হয় তখন মূলত: সে সমাহিত হয় না, চলে যায় আরেক জগতে। এ-সত্যটি অনুধাবন করলে ছেলে-মেয়ের নৈসর্গিক ভবিষ্যত নয়, নিজের পরকালীন ভবিষ্যৎ নিয়েই উৎকন্ঠিত হতো সবচেয়ে বেশী।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন