শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

নিরাপদ-হালাল বিনিয়োগের জন্য সুকুক বন্ড-২

উবায়দুর রহমান খান নদভী | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

আলেমদের উচিত শুধু হারাম ও নাজায়েজ বলে দায়িত্ব শেষ না করা। মানুষকে হালাল পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়া। ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ঋণ, ব্যাংক, বীমা, আমদানি-রফতানি, শিল্পস্থাপন ইত্যাদির সুদবিহিন, প্রতারণাবিহিন নিরাপদ পদ্ধতি নির্দেশ করা। হারাম উপার্জনের পাশাপাশি প্রতারণা থেকেও মানুষকে রক্ষা করা। হাদিস শরিফে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেন, আল মু’মিনু লা ইউলদাগু মিন জুহরিন ওয়াহিদিন মাররাতাইন’। (সহীহ বুখারী : ৬১৩৩)।

অর্থাৎ, একজন ঈমানদার এক গর্ত থেকে দুইবার দংশিত হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে মুসলমানরা একই ধরনের আর্থিক প্রতারণায় বার বার শিকার হয়। এমনকি অনেক সচেতন মানুষও লোভের বশবর্তী হয়ে এমএলএম কোম্পানি, প্রতারক সমবায় সমিতি, নিয়ম না মানা ই-কমার্স ইত্যাদিতে টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোম্পানির মূল সম্পদ, দায়, পুঁজি ও পারিচালনা, ভালো করে চেক না করে ধোঁকার শিকার হয়। শেয়ার বাজারে অবৈজ্ঞানিক বিনিয়োগ করে সর্বস্ব হারায়। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের সচেতন থাকা কর্তব্য। সন্দেহজনক, অনিরাপদ ও সুদের মিশ্রণ থাকা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে সকলেরই সতর্ক থাকা উচিত।

এদিকে লাভের নামে প্রদত্ত শরীয়তে নিষিদ্ধ ব্যাংকের সুদের অবস্থাও তেমন ভালো নেই। বর্তমানকালে ব্যাংকের সুদহার এই পর্যায়ে নেমে এসেছে যে, জমা টাকায় যে সুদ আসছে, তা দিয়ে মূল্যস্ফীতির ঘাটতিই মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে। এর ওপর বিভিন্ন মাশুল কাটার পর ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদহার বা মুনাফা মিলছে ৪ শতাংশ বা তার কিছু বেশি। কোনো কোনো ব্যাংকে এর চেয়ে কিছু বেশিও পাওয়া যায়। তবে তা শরিয়তে স্পষ্ট নিষিদ্ধ। গত ডিসেম্বরের শেষদিকে মূল্যস্ফীতি এসে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। যা নভেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তার মানে, দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে ব্যাংকে রাখা টাকা বছর শেষে কমে যাচ্ছে। এদিকে হালালভাবে ‘সুকুক’ বিনিয়োগে মুনাফা মিলছে ৯ শতাংশ। এটি আরো বাড়তে পারে।

উদাহরণস্বরূপ কেউ ব্যাংকে ১০০ টাকা জমা রাখলেন। সুদের হার যদি ছয় ভাগ ধরা হয়, তাহলে বছর শেষে তিনি পাবেন ১০৬ টাকা। এদিকে মূল্যস্ফীতির হারও ছয় ভাগ বা তার চেয়ে বেশি, এখন ১০০ টাকায় যে পণ্য বা সেবা পাওয়া যায়, বছর শেষে তার জন্য খরচ করতে হবে ১০৬ বা তার চেয়েও বেশি টাকা। এক্ষেত্রে আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা জমা রেখে আসলে সেই টাকার কোনো আয় পাচ্ছে না।

মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখে অথবা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে কিছু মুনাফার আশায়। কিন্তু কম সুদহার আর ঊর্দ্ধ মূল্যস্ফীতির কারণে বছর শেষে যে টাকা পাওয়া যাবে তাতে প্রকৃত আয় কমে যায়। সুদ ছাড়া মুদারাবা লাভের পরিমাণ সন্তোষজনক। অনেকের জাকাত দেয়ার পর টাকার কিছু আয় হাতে থাকে। সবকিছু বিবেচনায় দেশের মানুষের ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সেজন্য প্রতিদিনই ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ইসলামি ধারার ব্যাংকের সংখ্যা ১০। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানত ও ঋণের ২৭ শতাংশ হচ্ছে ইসলামি ব্যাংকগুলোর, যা প্রতিদিনই বাড়ছে। মানুষ বাস্তব কারণেই সুদী ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

কাতার ও মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশে মানুষের নিরাপদ ও হালাল বিনিয়োগের জন্য শরিয়াসম্মত সুকুক পদ্ধতি ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী অর্থনীতিবিদগণ প্রস্তাব করেছেন যাতে পুঁজি সংগ্রহের বিপরীতে স্থায়ী সম্পত্তি রয়েছে। কাল্পনিক ক্যাপিটেলের কাগুজে শেয়ার ও ডিবেঞ্চার নয়। যে সুকুকটির গায়ের মূল্য এক ডলার এর দাম কখনোই এক ডলারের নিচে নামবে না। কারণ এর বিপরীতে এক ডলার পরিমাণ স্থায়ী সম্পত্তি আছে। যদি দাম বাড়ে বা লভ্যাংশ দেয়া হয় তাহলে সুকুকধারীর লাভ হবে। তিনি ইচ্ছা করলে সুকুক যখন তখন বিক্রি করতে পারবেন। উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেলেও সুকুকের বিনিময়ে তিনি মূল সম্পদের ভাগ পাবেন।

সুকুকের ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই সুদকে এড়িয়ে চলতে চায়। এ জন্য ইসলামি ব্যাংকিং খুবই জনপ্রিয়। আর তাই দেশে আরো আগেই সুকুক ছাড়ার দরকার ছিল। তবে দেরিতে হলেও সুকুক চালু করা হয়েছে। এটাকে ভালো উদ্যোগ উল্লেখ করে প্রফেসর আবু আহমেদ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও সুকুক চালু করা হয়েছে, যা খুবই জনপ্রিয় হবে। যদিও এটি এমনিতেই আমাদের দেশে জনপ্রিয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (18)
সফিক আহমেদ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৪ এএম says : 0
আমাদের মত মুসলমাদের জন্য এটা একটা বড় সুখবর। আমি বিনিয়োগের বিষয়ে ভাবছি।
Total Reply(0)
তরিকুল ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৫ এএম says : 0
নিরাপদ-হালাল বিনিয়োগের জন্য সুকুক বন্ড এক নতুন মাইলফলক। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এটা আশার আলো দেখাচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোতে এই বন্ডের ব্যাপক চাহিদা আছে।
Total Reply(0)
নিলিমা জাহান তনুশ্রী ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৫ এএম says : 0
বাংলাদেশে হালাল ও নিরাপদ বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দেয়ায় বেক্সিমকোকে ধন্যাবদ। তবে টোটাল প্রক্রিয়া দ্রুততর ও স্বচ্ছ হতে হবে।
Total Reply(0)
হাসান আল মেহেদী ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৬ এএম says : 0
মুসলমানের কর্তব্য সুদবিহীন ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করা। সুকুক বন্ড সেরকম একটি সুযোগ
Total Reply(0)
হাসান আল মেহেদী ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৬ এএম says : 0
আমাদের দেশে এই ধরনের ইসলামী অর্থব্যবস্থা চালু করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। সুদের তুলনায় ব্যবসাকে উত্তম ও শোষণমুক্ত বিশ্বাস করে বহু অমুসলিমও বর্তমানে ইসলামী অর্থব্যবস্থাকে গ্রহণ করছে।
Total Reply(0)
আবদুর রহমান ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৬ এএম says : 0
যারা এই বন্ডটি এনেছে তাদের কাছে অনুরোধ, এটা যেনো পুরোপুরি ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়
Total Reply(0)
মিফতাহুল জান্নাত ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৭ এএম says : 0
ভালো খবর। কারণ বর্তমান বাজারে উচ্চ-মুনাফার সঞ্চয়ের মাধ্যম এমনিতেই সীমিত। সেই হিসেবে সুকুক নতুন বিনিয়োগের পথ উম্মুক্ত করবে।
Total Reply(0)
জি এম জাহাংগীর আলম ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৭ এএম says : 0
দেশের উন্নয়নে সুকুক বন্ড ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ বিনিয়োগ চালু হলে বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং জনগণও লাভবান হবে।
Total Reply(0)
জনিরুল ইসলাম ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৮ এএম says : 0
সুকুক বন্ড মুসলিম দেশগুলোতে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। আমাদের দেশে এই বন্ড নিয়ে আসায় ধন্যবাদ।
Total Reply(0)
বাহার বিন মুহিব ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৮ এএম says : 0
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামী অর্থনীতি সেই ইসলামী জীবনব্যবস্থার এক অপরিহার্য অংশ। ইসলামী অর্থব্যবস্থা মানব কল্যাণময়, বৈজ্ঞানিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ অর্থব্যবস্থা। ইসলামী অর্থনীতি পুঁজিবাদী বা সমাজবাদী যে কোন অর্থব্যবস্থার তুলনায় প্রগতিশীল এবং মানবতার জন্য কল্যাণকর।
Total Reply(0)
গাজী ফজলুল করিম ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:১৯ এএম says : 0
শরীয়াহ্ভিক্তিক সুককে বিনিয়োগে করে নিজেদের পুঁজি নিরাপদ রাখুন, লাভবান হোন। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে নিজেকে শরীক করুন।
Total Reply(0)
Ibrahim Khalil ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২০ এএম says : 0
আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং ব্যবসাকে হালাল করেছেন। ইহুদিদের প্রবর্তিত সুদ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিবর্তে সর্বস্তরে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং চালু করা উচিত।
Total Reply(0)
Md.Rashadujaman ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:২০ এএম says : 0
শুকরিয়া, এই বিষয়ে নদভি হুজুরের লেখা আশা করেছিলাম। এরকম সুযোগ যত বেশি তৈরি হবে, তত মানুষ হালাল আয়ের সুযোগ পাবে
Total Reply(0)
তোফাজ্জল হোসেন ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৪ পিএম says : 0
শরিয়াসম্মত বিনিয়োগের এরকম সুযোগ পেলে অনেকেই বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে।
Total Reply(0)
মোঃ নাজমুল ইসলাম ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৪ পিএম says : 0
সুকুক বন্ড জনগণের মাঝে ভালো সাড়া ফেলছে। আশা করি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে।
Total Reply(0)
নিয়ামুল ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৫ পিএম says : 0
এই ইসলামি বন্ড আরো আগে চালু করতে হতো।
Total Reply(0)
Mir Irfan Hossain ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৫ পিএম says : 0
Very good initiative. Well wishes for beximco
Total Reply(0)
Fahad Khan ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫৬ পিএম says : 0
I will invest in Sukuk bonds.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন