শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ০৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

শিক্ষাঙ্গন

ছুটির দিনে বন্ধ ইবির লাইব্রেরী, জিমনেশিয়াম, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

ইবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০২২, ১:০৬ পিএম

সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটিতে বন্ধ থাকছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ও জিমনেসিয়াম। ছুটির দিনে বন্ধ থাকার ফলে নিয়মিত লাইব্রেরী ও জিমনেসিয়ামের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ছুটির দিনে খোলা নিয়ে বারবার অভিযোগ করেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। সাপ্তাহিক যে দুইদিন ছুটি রয়েছে এই দুইদিনই আমরা লাইব্রেরী ও জিমনেসিয়াম খোলার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

তথ্য সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। বাকী ৫ দিন চলে ক্লাস-পরীক্ষা। ক্যাম্পাস চলমান অবস্থায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী-জিমনেসিয়াম খোলা থাকলেও সাপ্তাহিক দুই দিন থাকে বন্ধ। করোনার পূর্বের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী ও জিমনেসিয়াম সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার খোলা থাকত। পরবর্তীতে করোনাকালীন পরের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলমানের ১ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই একদিনও বন্ধ থাকছে লাইব্রেরি-জিমনেসিয়াম। ফলে ছুটির দিনগুলোতে লাইব্রেরী ও জিমনেসিয়ামের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এদিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বই নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ক্যাটালগ থেকে বই খুঁজতেই ২০-২৫ মিনিট সময় পার হয়ে যায়। গ্রন্থাগারে বিভাগভিত্তিক বই সাজানো থাকে না। কোনো সুযোগ-সুবিধা না পওয়া গেলেও নিয়মের গ্যাঁড়াকলে গ্রন্থাগারে যাওয়া হয় না। এসব সমস্যার কারণেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রতি শিক্ষার্থীদের অনীহা প্রকাশের কথা উঠে এসেছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শরীরচর্চার জন্য যন্ত্রণাংশ থাকলেও ট্রেইনার না থাকার কারনে সঠিক নিয়মে শিক্ষার্থীরা শরীরচর্চা করতে পারছেনা বলে জানা গেছে। নিয়ম না জানার ফলে শরীরচর্চায় নিজেদের দক্ষতার ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।

আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাফায়েত হোসেন আকাশ বলেন, পড়ালেখার ক্ষেত্রে সবসময় লাইব্রেরী নির্ভর থাকতে হয়। কোন বিষয় খুঁজে না পেলে লাইব্রেরীতে চলে যাই। লাইব্রেরী জ্ঞান অর্জনের স্থান, এটি থাকবে সবসময় শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো ছুটির দিনে লাইব্রেরী বন্ধ থাকে। ক্যাম্পাস খোলা অবস্থায় সময় কম দিতে পারি। এতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এদিকে লাইব্রেরীতে বই নিয়ে পড়ার ও সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি তারা যেন এ সমস্যার সমাধান করেন।

জিমনেসিয়াম নিয়ে আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মেজবাহুল ইসলাম বলেন, মানুষের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন শরীরচর্চা। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক হতাশা দূর করতে জিমনেসিয়ামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাস খোলা থাকাবস্থায় ক্লাস-পরীক্ষাসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় জিমনেসিয়ামে সময় কম দিতে পারি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে খোলা থাকলে আমরা জিমনেসিয়াম পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবো। এছাড়াও জিমনেসিয়ামে ইনডোরের ব্যবস্থাপনা একদম বাজে। সেখানে লাইট দুই তিনটা বাদে সবই নষ্ট। আর আমাদের পর্যাপ্ত সময় খেলার সুযোগ ও দেয়না জিমনেসিয়াম কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর উপ-গ্রন্থাগারিক শাহনাজ বেগম বলেন, লোকবল সংকটের কারণে ছুটির দিনে লাইব্রেরী বন্ধ রাখতে হয়। আমরা চাইলেও খোলা রাখতে পারিনা। বই নিয়ে লাইব্রেরীতে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে লাইব্রেরীতে বই নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সিট ও নোট খাতা নিয়ে পড়ার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বই নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে লাইব্রেরীর থেকে বই উধাও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাইব্রেরীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই বই নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।

জিমনেসিয়ামের পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহেল বলেন, লোকবল সংকটের কারণে আমরা জিমনেসিয়াম ছুটির দিনে খোলা রাখতে পারিনা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন