শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

মসজিদের সাথে সম্পর্ক

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহমান | প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

মসজিদ আল্লাহ তা’আলার ঘর, এতে তাঁর জিকির ও ইবাদত হয়। তাঁর বড়ত্ব ও মহিমার বর্ণনা হয়। তাঁর তাওহীদ ও রুবুবিয়াতের আলোচনা হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন , সেইসব গৃহে, যাকে মর্যাদা দিতে ও যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ আদেশ করেছেন। তাতে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ করে সেইসব লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বেচাকেনা আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং নামাজ কায়েম ও জাকাত আদায় থেকে গাফেল করে না...। (সূরা নূর : ৩৬ ও ৩৭)। এক বেদুইন মসজিদে প্রস্রাব করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মসজিদে প্রস্রাব বা কোনো ধরনের ময়লার কোনো অবকাশ নেই। এ তো শুধু আল্লাহর জিকির, নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের জন্য। (সহীহ মুসলিম : ২৮৫)।

পৃথিবীতে জায়গার কোনো শেষ নেই এবং সবখানে আল্লাহ তা’আলার জিকির করা যায়। কিন্তু এসবের মধ্যে মসজিদ এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এতে শুধু তাঁর জিকিরই করা যায়। জিকির পরিপন্থি কোনো কিছু তাতে জায়েজ নয়। এগুলো মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি। হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি মসজিদে কাউকে হারানো বস্তু সন্ধান করতে শোনে সে যেন বলে, আল্লাহ তোমার কাছে তা না ফেরান। কেননা, মসজিদ এ কাজের জন্য বানানো হয়নি। (সহীহ মুসলিম : ৫৬৮ )।

এজন্য মসজিদ আল্লাহ তা’আলার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এবং দিনরাত তাঁর রহমত নাজিলের ক্ষেত্র। হাদীসের ভাষায় : ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থান বাজার।’ (সহীহ মুসলিম : ৬৭১)। এ থেকেই উপলব্ধি করা যায়, মসজিদের সাথে মুমিনের কী গভীর সম্পর্ক থাকা উচিত এবং সেটা তার জন্য কী উপকারী ও কল্যাণকর!

বস্তুত মসজিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন আত্মিক প্রশান্তি লাভ, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও ঈমান-আমল উন্নত করার এক পবিত্র ও বরকতময় উপায়। সুতরাং মুমিনের কর্তব্য, মসজিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং একে জ্ঞান ও আলো, হেদায়েত ও সফলতার কেন্দ্র মনে করা।

মসজিদের সাথে সম্পর্কের অনেক দিক আছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক আলোচনা করা হল : এক. অন্তরগত সম্পর্ক। অন্তরগত সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আছে। যেমন : (ক) মসজিদের স্বরূপ উপলব্ধি ও বিশ্বাস। আগে মসজিদের যে স্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে সেটি গভীরভাবে উপলব্ধি ও বিশ্বাস করা কর্তব্য। মসজিদের সাথে যাবতীয় সম্পর্ক নির্ভর করে এই উপলব্ধি ও বিশ্বাসের উপর। এটা যত গভীর ও আলোকিত হবে সম্পর্ক তত দৃঢ় ও সুন্দর হবে। তাই মসজিদের স্বরূপের যথার্থ উপলব্ধি ও বিশ্বাস অতি জরুরি।

আল্লাহর জিকিরের বিস্তৃত অর্থ ও নানা অধ্যায় এবং আল্লাহর জিকির পরিপন্থি বিষয়াদি সম্পর্কেও সঠিক জ্ঞান ও উপলব্ধি অর্জন করা প্রয়োজন। যাতে মসজিদের হক আদায় হয় আর না-হক কাজ থেকে মসজিদ পবিত্র থাকে।

(খ) মসজিদের সার্বিক কল্যাণ কামনা। মসজিদের সার্বিক কল্যাণ কামনার অর্থ, প্রতিটি গ্রামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা হোক, এসব মসজিদ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হোক, মুসল্লি ও জিকিরকারী দ্বারা পরিপূর্ণ হোক এবং এর মাধ্যমে সবখানে হেদায়েতের আলো ছড়িয়ে পড়ুক এ প্রত্যাশা করা। এটা মসজিদের সাথে সম্পর্কের শুধু গুরুত্বপূর্ণ দিকই নয়, ঈমানের অংশ। পক্ষান্তরে মসজিদের কোনোরূপ অকল্যাণ কামনা এর প্রতি চরম বেয়াদবি ও কুফরের পরিচায়ক।

তামীম দারী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কার কল্যাণকামিতা? উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহর, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসূলের, মুসলমানদের ইমামদের এবং সকল মুসলমানের। (সহীহ মুসলিম : ৯৫)।

এখানে যেসব ক্ষেত্রে খুলূস ও কল্যাণকামিতাকে দ্বীন বলা হয়েছে, তার মধ্যে সবার আগে রয়েছে আল্লাহ তা’আলার প্রতি খুলূস ও কল্যাণকামিতা। আর এতে তাঁর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছু শরীক না করা যেমন রয়েছে, তেমনি মসজিদের কল্যাণকামনাও। কেননা, মসজিদ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
Ismail Sagar ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৪২ এএম says : 0
নবীদের অন্যতম কাজ হ’ল মসজিদ নির্মাণ করা ও তা আবাদ করা।
Total Reply(0)
Golam Kibria ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৪২ এএম says : 0
কা‘বা ঘর প্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেন। অতঃপর আদম (আঃ) তা পুনঃনির্মাণ করেন। কা‘বা নির্মাণের ৪০ বছর পর আদম (আঃ) অথবা তাঁর কোন সন্তানের দ্বারা বায়তুল মুক্বাদ্দাস নির্মাণ করা হয়
Total Reply(0)
Md Parves Hossain ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৪৩ এএম says : 0
মসজিদ নির্মাণের পর মুমিনদের দায়িত্ব হ’ল মসজিদে গমন করে মসজিদের হকগুলো আদায় করা। মসজিদ গমনের অনেক ফযীলত রয়েছে।
Total Reply(0)
Md Ali Azgor ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৬:৪৩ এএম says : 0
‘কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে তারপর (ছালাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মসজিদে উপস্থিত হয়, তাহ’লে মসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। (আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন) আমরা মনে করি, যার মুনাফিকী সর্বজনবিদিত এমন মুনাফিক ছাড়া কেউই জামা‘আতে ছালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যামানায় এমন ব্যক্তি জামা‘আতে উপস্থিত হ’ত যাকে দু’জন মানুষের কাuঁধ ভর দিয়ে এসে ছালাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হ’ত’।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন