মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আজান : ইসলামী শেয়ার বা নিদর্শন-১

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুন্শী | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

আরবি ‘আজান’ শব্দটির মূল ধাতু হচ্ছে আলিফ, জাল, নুন, তথা ‘ইজনুন্’। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে অনুমতি, স্বীকৃতি, অনুমোদন। এই মূল ধাতু হতে গঠিত হয়েছে, ‘আজান’ শব্দটি। এই শব্দে চারটি বর্ণ রয়েছে। যথা: আলিফ, জাল, আলিফ, নুন। এই ‘আজান’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ঘোষণা দেয়া বা এলান করা।
আর ব্যবহারিক অর্থে আজান হচ্ছে ইসলামী শেয়ার, চিহ্ন ও নিদর্শন যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বাক্যাবলির দ্বারা আল্লাহপাকের সত্ত্বা, সর্ব শ্রেষ্ঠত্ব ও একত্বের ঘোষণা প্রদান করা হয়। এবং বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদ মোস্তাফা (সা.) -এর বিশ্বরিসালাতের দৃপ্ত ঘোষণা উচ্ছকিত করা হয়। একই সাথে সালাত অর্থাৎ নামাজে অংশ গ্রহণ করার প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যা মানুষের মুক্তি ও নিষ্কৃতির চিরভাস্বর পথের দিশা হয়ে আছে। এক্ষেত্রে দিশাহারা বা পথভ্রষ্ট হওয়ার কোনোই সুযোগ ও অবকাশ নেই।

‘আজান’ শব্দটি আল কোরআনে একবার ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনুলকারীমের ৯নং সূরা আত্ তাওবাহ -এর ৩ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মহান হজ্জের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এটি একটি ‘ঘোষণা’ যে নিশ্চয় মুশরিকদের সম্পর্কে আল্লাহ দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূল ও। সুতরাং তোমরা যদি তাওবাহ কর, তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রেখ যে, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না এবং কাফেরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।’ এই আয়াতে কারীমায় ‘আাজান’ শব্দটি ‘ঘোষণা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আর আরবি মূল ধাতু ‘ইজনুন্’ হতে উৎসারিত এবং আজজানা ‘ইউআজ্জিনু’ ক্রিয়া পদ হতে ‘মুয়াজ্জিন’ শব্দটির অর্থ হলো আজানদাতা বা আজান ঘোষণাকারী। এই শব্দটি আল কোরআনে দু’বার এসেছে। যথা : (ক) ইরশাদ হয়েছে : আর জান্নাতবাসীগণ জাহান্নামবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রভু তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরা তা’কি সত্য পেয়েছে? তারা বলবে হ্যাঁ। অত:পর একজন ঘোষণাকারী তাদের মধ্যে ঘোষণা করবে, জালিমদের উপর রয়েছে আল্লাহর লা’নত। (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-৪৪)।

(খ) ইরশাদ হয়েছে : অত:পর তিনি (হযরত ইউসুফ (আ.)!) যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিলেন, তখন তিনি স্বীয় মহোদয়ের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রেখেছিলেন। তারপর এক ‘ঘোষণকারী’ চিৎকার করে বললেন, হে যাত্রীদল! তোমরা অবশ্যই চোর। (সূরা ইউসুফ : আয়াত-৭০)। এই দু’টি আয়াতেই ঘোষক অর্থাৎ ‘মুয়াজ্জিন’ শব্দটির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (4)
M Shahadat Hossain Shahed ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৪:২৭ এএম says : 0
আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। আযানের সূচনা ধ্বনি। প্রতিদিন আমরা পাঁচবার এই আযান ধ্বনি শুনে থাকি। আযান ধ্বনিগুলোর অর্থ সবাই না বুঝলেও এ কথা সবাই বুঝে যে, এখন নামাযের সময় হয়ে গেছে। একটু পরেই জামাত শুরু হবে। তথাপি আযানের রয়েছে গূঢ় অর্থ ও মর্ম।
Total Reply(0)
Rabbul Islam Khan ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৪:২৭ এএম says : 0
দুনিয়াতে অনেক কিছুই আছে বড়। রয়েছে বড়ত্বের অহমিকা ও দম্ভ। কিন্তু আল্লাহর বড়ত্ব সব কিছুকে ছাপিয়ে। দুনিয়াতে কোনো কিছুকে বা কাউকে বড়ত্ব তিনিই দান করেন। মহা মহীম সেই আল্লাহর মহিমা ও বড়ত্ব দিয়ে সূচনা হয় আযান-ধ্বনির। মানুষ যেন বিনয়াবনত হয় আল্লাহর বড়ত্বের কথা ভেবে।
Total Reply(0)
Md Ali Azgor ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৪:২৮ এএম says : 0
আযানের ধ্বনিতে রয়েছে রিসালাতের সাক্ষ্য। রিসালাতের সাক্ষ্য ছাড়া তাওহীদের স্বাক্ষ্য অর্থহীন। উভয় সাক্ষ্য মিলে ঈমান পূর্ণ হয়। রিসালাতের সাক্ষ্য আমাদের এই বার্তাই দেয় যে, পৃথিবীর অন্য কোনো পথ ও মতে প্রকৃত সফলতা ও কামিয়াবী নেই। দৃশ্যত যতই তা যুক্তিযুক্ত ও হৃদয়গ্রাহী হোক না কেন। সুতরাং রাসূলের অনুসরণই আমাদের শিরোধার্য।
Total Reply(0)
Ismail Sagar ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৪:২৮ এএম says : 0
পৃথিবীতে বহু ধর্ম আছে। প্রত্যেক ধর্মের রয়েছে ইবাদত-উপাসনার নিজস্ব পদ্ধতি। কিন্তু নামাযের দিকে আহ্বানের এই পদ্ধতি -আযান- এক অনন্য অনুপম আদর্শ। তাৎপর্য-মণ্ডিত এক শিক্ষা ও ঐশীপ্রেরণাজাত এক নিদর্শন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন