ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ইসলামী জীবন

বৈধ-অবৈধ পেশা ও উপার্জন

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৬ এএম

চৌদ্দ

যে ব্যক্তি ১৮ বছরের কম বয়স্কা কোন ব্যক্তি যে কোন বয়সে বেশ্যাবৃত্তি বা অন্য কোন লোকের সহিত অবৈধ যৌন সম্পর্ক অথবা কান-বে-আইনি ও অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়োজিত বা ব্যবহৃত হইবে এই উদ্দেশ্যে কিংবা অনুরূপ ব্যক্তি যে কোন উদ্দেশ্যে নিয়োজিত বা ব্যবহৃত হইবে এইরূপ সম্ভাবনা জানিয়া তাহাকে ক্রয় করে, ভাড়া দেয় বা প্রকারন্তরে হস্তান্তর করে সেই ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদন্ডে যাহার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হইতে পারে দন্ডিত হইবে তদুপরি অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবে। “প্রাগুক্ত, ধারা-৩৭৩।”
মানবপাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ : ‘পাচার’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Trafficking, Kidnapping, Smuggling. æBangla English Dictionar,, ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ২০০৫, পৃ. ৪১৮।” শব্দটির প্রচলিত অর্থ হচ্ছে, অন্যায় ও অবৈধ উপায়ে কোন জিনিস যথাযথ স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া। “ঞযব ঝঅঅজঈ The SAARC Convention on Preventing and Combating Trafficking in Women and Children for Prpstitution. Articles- 1. Definitions,
অবৈধ উপার্জনের অন্য আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে মানবপাচার। নারী ও শিশু পাচারের মত জঘন্য অপরাধের প্রবণতা আগেও ছিল, “আল-কুরআনের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, ইউসুফ আ. কে খ্রিস্টপূর্ব কয়েক বছর পূর্বে একদল ব্যবসায়ী কূপ থেকে তুলে মিসরে পাচার নিয়ে যয় এবং বিক্রি করে দেয়। আল্লাহ্ বলেন: আল-কুরআন, ১২: ১৯-২০।” বর্তমানেও আছে। জাহিলী যুগে আরবেও শিশু পাচারের ঘটনা দেখা যায়। “উদাহরণস্বরূপ যায়িদ ইবনে হারিছার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তিনি পাচার হয়ে দাস জীবন যাপন করেন। পরে রসূলুল্লাহ স. ক্রয় করে মুক্ত করে দেন। ইবনে হাজার ‘আসকালানী, তাহযীবুত তাহযীব, খ. ২, বৈরত: দারু ইহইয়ায়িত তুরাসিল ‘ইলমিয়্যাহ, তা.বি, পৃ. ২৩৪-২৩৫; ইবনে কাসীর, আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, বৈরত: দারুল কুতুবিল ‘ইলমিয়্যাহ, তা.বি., পৃ. ২০৩-২০৪।” অবশ্য শিল্প বিপ্লবের পর এর বিস্তার এত বেশি হয়েছে যে, তা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগে অর্থ উপার্জনের সহজ মাধ্যম হিসেবে একটি দেশী-বিদেশী দুষ্টচক্র লোক পাচার করার কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের শাস্তির বিধান রয়েছে ইসলামে। অপরাধগুলোকে শাস্তির স্তরভেদে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: ১. হুদূদ “হুদুদ সংক্রান্ত অপরাধ: হুদুদ সংক্রান্ত অপরাধ বলতে ঐসব অপরাধকে বুঝায় যার জন্য আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যেমন: ব্যভিচার, মদ্যপান, চৌর্যবৃত্তি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ করা, মিথ্যা অপবাদ, ধর্ম ত্যাগ ও বিদ্রোহ/ রাষ্ট্রদ্রোহিতা। -ইমাম আল-মাওয়ারদী, আহকাম আস-সুলতানিয্যাহ, বৈরূত: ফিকর, পৃ. ১৯২-১৯৫।” সংক্রান্ত অপরাধ ২. কিসাস ও দিয়াত “কিসাস ও দিয়াহ সংক্রান্ত অপরাধ: কিসাস ও দিয়াত সংক্রান্ত অপরাধ বলতে ঐসব অপরাধকে বুঝায় যার জন্য হুবহু অপরাধ প্রতিশোধ গ্রহণ কিংবা নির্ধারিত জরিমানা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। মযলুম ব্যক্তি নিজে কিংবা তার উত্তরাধিগণ তা ক্ষমা করে দেবার অধিকার রাখে। যেমন: ইচ্ছাকৃত হত্যা, প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা, ভুলে হত্যা, ইচ্ছাকৃত শারীরিকভাবে আহত করা, ভুলে শারীরিক ক্ষতি সাধন করা। আল-মাওয়ারদী, আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ ওয়াল বিলায়াতিদ দ্বীনিয়্যাহ, মিসর: মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাভী, ১৩৯৩, পৃ. ১৮২।” সংক্রান্ত অপরাধ এবং ৩. তা’যীর “তা’যীর সংক্রান্ত অপরাধ হচ্ছে ঐসব অপরাধ যার ব্যাপারে শরী’আতে সুনির্দিষ্টভাবে কোন শাস্তির উল্লেখ করে নি, যা নির্ধাণ করার ক্ষমতা সরকারকে প্রদান করা হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার জনসাধারণকে সতর্ককরণ করা থেকে শুরু করে শাস্তির ভয়াবহতা অনুযায়ী সবশেষে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত যে কোন শাস্তি প্রদান করতে পারে। এ ধরণের অপরাধের সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। যেমন- সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, গালমন্দ করা ইত্যাদি।-ইবনে কুদামা, আল-মুগনী ফিল-ফিকহ বৈরূত: দারুল ফিকর, ১৪০৫, পৃ. ৪৮০।” সংক্রান্ত অপরাধ।
ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে অপরাধ যাই হোক না কেন তা উল্লেখ তিন প্রকারের শাস্তি পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাচার কিসাস এর শাস্তি আরোপ করার মত অপরাধ নয়, আবার হুদূদ সংক্রান্ত যতটি অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে তারও আওতাভূক্ত নয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন