ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ২০ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সরিষাবাড়ীতে রেলের টিকিট কাউন্টারের পরিবর্তে পাওয়া যাচ্ছে পানের দোকানে

সরিষাবাড়(জামালপুর)সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১০ আগস্ট, ২০১৯, ৭:২৬ পিএম

সরিষাবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশনে ট্রেনের টিকিট পাওয়া না গেলেও বাইরে (কালোবাজারে) বিভিন্ন চা পানের দোকানে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এসব টিকিট উচিৎ মূল্যের চেয়ে তিন চার গুন দামে বিক্রি হচ্ছে। শনিবার সকালে দুপুরে ও বিকেলে ষ্টেশনে গিয়ে দেখা ষ্টেশন মাষ্টার তার আসনে নেই। কাউন্টারে শত শত যাত্রী টিকিটের জন্য হা হুতাম করিতেছে। সবারই প্রশ্ন মাষ্টার কোথায়। রেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাষ্টার সাব ভিতরে অন্দর মহলে সারাক্ষন ষ্টেশন চত্তরের কিছু বখাটে ছেলে পেলে নিয়ে সময় কাটায়। আর কাউন্টারে বসিয়ে রাখে মাষ্টার রোলের দু তিন জন ছেলেকে। টিকিট কাউন্টারে আশে পাশে তিন চারটি চা পানের দোকানদার প্রকাশ্য টিকেট কালোবাজারির সাথে যুক্ত। ষ্টেশন মাষ্টারের সাথে যোগ সাজসে ঐ দোকানদারেরা কৌশলে কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে চড়া মূল্যে দোকান দারির আড়ালে কালোবাজারে টিকেট বিক্রি করছে। বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতি নীতি নির্ধারকরা, উপজেলা প্রশাসন, জিআরপিসহ সংশ্লিষ্টরা জানলেও রহস্যজনক কারনে কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।

এক পর্যায়ে কথা হচ্ছিল নতুন এক রেল মাষ্টার জাহিদুল ইসলামের সাথে, তিনি জানান, বড় সাব ছাড়া আমরা কিছুই বলতে পারবনা। এ ষ্টেশনে টিকিট কয়টা, কয়টা আছে বা না আছে, এছাড়া রেলের কোন তথ্যই আমি বা আমরা দিতে পারবনা। বলা চলে সরিষাবাড়ী রেল ষ্টেশনের টিকিট মাষ্টার (বড় সাব) এর কাছে সবাই জিম্মি। আবার বড় সাবও স্থানীয় কিছু লোকের কাছে জিম্মি। এক কথায় বলতে গেলে সরিষাবাড়ী রেল ষ্টেশনের আওতাধীন সকল যাত্রীই টিকিট মাষ্টারের কাছে জিম্মি আবার মাষ্টার সাহেব স্থানীয়দের কাছে জিম্মি। এদিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার আঃ সামাদ, বাউসী বাজার এলাকার আঃ লতিফ, আরামনগর বাজারের সামসউদ্দিনসহ অনেক যাত্রীরা জানান, আগামী ১৮ তারিখের অগ্রীম টিকিট বিতরনের তারিখ ছিল ৯ আগষ্ট। আজ ১০ আগষ্টে বিতরন হচ্ছে ১৯ আগষ্টের টিকিট। কিন্ত সকাল থেকে বিকেল নাগাদ সারা দিন বসে থেকে একটি টিকিটও পেলামনা। অথচ বাইরে প্রায় সব দোকানে ১৯০ টাকার টা ৫০০ টাকা ২২৫ টাকার টা ৭শ থেকে ৮শ টাকা এবং প্রথম শ্রেনীর টিকিট ৩শ টাকারটা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে ষ্টেশনের বড় মাষ্টার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ষ্টেশন এলাকার কেন- যদি কোন সাধারন পাবলিকও লাইনে দাড়িয়ে টিকিট ক্রয় সেটা যদি বাইরে বেশী দামে বিক্রি করে সেক্ষেত্রে আমার করার কি আছে। মোট কথা সরিষাবাড়ীর ট্রেনের সাধারন যাত্রীদের নিপীড়ন নির্যাতন আর ভোগান্তির শেষ কোথায় কে জানে আর কেইবা আছে এসব দেখভালের।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন