ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হবে -বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০১ এএম

সিন্ডিকেট চক্রের কারসাজিতে কোরবানির চামড়ায় ধস নামায় বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন,সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সিন্ডিকেট চক্র চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করে দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। চামড়া শিল্প ধ্বংস হলে এর প্রভাব কওমী মাদরাসাগুলোতেও পড়বে। চামড়া গরীব ও এতিমের হক্ব। এ শিল্পকে ধ্বংস করে গরীব ও মিসকিনদের হক্বও নষ্ট করা হচ্ছে। চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করতে সিন্ডিকেটভিত্তিক কাজ চলছে। এ সিন্ডিকেটকে ভেঙ্গে দিতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়খে চরমোনাই চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করে দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চামড়ার মূল্য বর্গফুট হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়া হলেও সেভাবে কেউ চামড়া কিনছে না। চামড়ার মূল্য বর্গফুট মূল্য হিসেবে বিক্রয় কার্যকর থাকলে চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট কাজ করতে পারবে না। তিনি চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে সকলকে সোচ্ছার হওয়ার আহŸান জানান।
মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, ভারতের চামড়া শিল্পের বাজার বহুলাংশে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চামড়ার উপর নির্ভরশীল। পাকিস্তান ভারতের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ায়, এ বছর ভারতকে বাংলাদেশের চামড়ার উপর অধিক নির্ভরশীল হতে হবে। ফলে বাজার চাহিদানুযায়ী চামড়ার দাম ভাল পাওয়ার কথা। কিন্তু এ বছর ঘটেছে সম্পূর্ণ উল্টো।

এখন গরুর চামড়া ২০-২০০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে অনেকেই ক্ষুদ্ধ হয়ে চামড়া পুঁতে, পুড়িয়ে বা নদীতে ফেলে দিয়েছেন এমন ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই প্রবণতা জনপ্রিয় বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ধংস হবে এবং বিদেশী কোম্পানীর পোয়াবারো হবে। সিন্ডিকেট চক্রের কারণেই কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের সাথে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ কওমী শিক্ষা ব্যবস্থাও জড়িত। চামড়া শিল্প ধ্বংস হলে এর প্রভাব কওমী মাদরাসাগুলোতেও পড়বে। চামড়া গরীব ও এতিমের হক্ব। এ শিল্পকে ধ্বংস করে গরীব ও মিসকিনদের হক্বও নষ্ট করা হচ্ছে। চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করতে সিন্ডিকেটভিত্তিক কাজ চলছে। এ সিন্ডিকেটকে ভেঙ্গে দিতে হবে।
নেজামে ইসলাম পার্টি

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, গুটি কয়েক ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটে কোরবানির কাঁচা চামড়া ব্যবসায় ধস নামছে। ভ্রান্ত নীতি-কৌশলের কারণে এবার চামড়া খাতে অনাকাংখিত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচা চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। দেশে উৎপাদিত কাঁচা চামড়া নিয়ে সৃষ্ট বিপর্যয়ে দেশবাসি হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাসের মিথ্যা অজুহাতে ট্যানারির মালিকরা সিন্ডিকেট করে পবিত্র ঈদুল-আজহা উপলক্ষ্যে উৎপাদিত কাঁচা চামড়ার হ্রাসকৃত মূল্য নির্ধারণ করায় এ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।

মাওলানা নেজামী এক বিবৃতিতে বলেন,পাকা চামড়া রপ্তানির মাধ্যমে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের যুক্তিতে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট কাঁচা চামড়া রাপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়ে চামড়া ব্যবসার ওপর তাদের একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে গত জুলাই মাসে ও প্রতি পাউন্ড চামড়ার দাম যেখানে ছিল ১০৭ ডলার, সেটা আগষ্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১ ডলার ১৭ সেন্টে।

তিনি আরো বলেন, দেশে উৎপাদিত সকল চামড়া ট্যানারি মালিকরা ব্যবহার করতে সক্ষম নয়। তাই উদ্বৃত্ত কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে প্রতিবেশি দেশ ভারত ও মিয়ানমারে পাচার হয়ে যায়।
কোরবানির গোশত বিতরণ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে মহানগরীর সকল থানায় গরীব, বঞ্চিত ও অসহায়দের মাঝে কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়। ঈদের দিন বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোরবানী বঞ্চিতদের মাঝে কোরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন