ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

২ মাসে ২৩৮ কোটি টাকার পণ্য আটক

চট্টগ্রামে চোরাচালান

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০১৯, ১২:০২ এএম

গত দুই মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ২৩৮ কোটি টাকার চোরাই পণ্য উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক টাস্কফোর্সের সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় চোরাচালানের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসহ আদালতে বিচারাধীন সব মামলা দ্রæত নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেয়া হয়। আর এ লক্ষ্যে মামলার দ্রæত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতে সাক্ষীরা হাজিরা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেয়া হয়।
এদিকে আদালতে আসা মামলার সাক্ষীদের যাতায়াত ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্তও হয় সভায়। আদালতে বিভিন্ন মামলার সাক্ষীদের যাতায়াত ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা পান না। সভায় এ ভাতা প্রদানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম জেলার সকল পাবলিক প্রসিকিউটরকে অনুরোধ করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান সভাপতিত্বে সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার জেলা প্রশাসক, মামলা পরিচালনাকারী পিপিগণসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর আদালতে ২২ শতাংশ বিচারকের শূন্যতা রয়েছে। এর ফলে মামলা পরিচালনায় ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রæতসময়ে আদালতে বিচারকশূন্যতা দূর করতে সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়। সভায় আরও জানানো হয় যে, জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন আদালতে ৪১ হাজার ৪২৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, চোরাচালান প্রতিরোধে স্থল ও নৌপথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা জুন মাসে ৩১ হাজার ৬১১টি এবং জুলাই মাসে ৩২ হাজার ১৯৫টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জুন মাসে এক হাজার ৭৩টি মামলা ও জুলাই মাসে এক হাজার ২৩৩টি মামলা রুজু করা হয়। উক্ত অভিযানের মাধ্যমে জুন মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি ও জুলাই মাসে প্রায় ১০৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আটক করা হয়। এ অভিযানের মাধ্যমে জুন মাসে ৭৮৫ জনকে এবং জুলাই মাসে ৯৩৮ জনকে আটক করা হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, জুন মাসে ৭ হাজার ৮০২টি চেকপোস্টের মাধ্যমে ৬০ হাজার ৫৮২টি যানবাহনে এবং জুলাই মাসে ৭ হাজার ৭৩৬টি চেকপোস্টের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৮৮০টি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সংক্রান্তে জুন মাসে ৪৮২টি এবং জুলাই মাসে ৫২২টি মামলা দায়ের করা হয়। তল্লাশিকালে জুন মাসে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের এবং জুলাই মাসে ৬১ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আটক করা হয়। এ ঘটনার দায়ে জুন মাসে ৬২২ জন ও জুলাই মাসে ৫৯৮ জনকে আটক করা হয়।
চোরাচালান নিরোধ কার্যক্রমকে কার্যকর ও গতিশীল রাখার লক্ষ্যে আবাসিক এলাকা, ব্যবসাকেন্দ্র ও গুদাম ইত্যাদিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ জুন মাসে ৩ হাজার ৯৫৭টি ও জুলাই মাসে ৪ হাজার ৬৪টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের ফলে জুন মাসে ১৮৭টি ও জুলাই মাসে ২৩২টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মাধ্যমে জুন মাসে ৯২ লাখ টাকা মূল্যের ও জুলাই মাসে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আটক করা হয়। এ ঘটনায় জুন মাসে ২২২ জনকে এবং জুলাই মাসে ২৬৪ জনকে আটক করা হয়।
চোরাচালান বিরোধী অভিযানকে আরও কার্যকর করার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনার অনুরোধ করা হয়। জুন ও জুলাই মাসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জুন মাসে ৬০ হাজার দুইটি অভিযানে এক হাজার ৭৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এতে ১৪২ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য এবং এক হাজার ৬০৮ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক হাজার ২৪৬টি মামলা রুজু করা হয়। জুলাই মাসে ৬০ হাজার ৮০৬টি অভিযানে এক হাজার ৯৮৭টি মামলা দায়ের করা হয়। এতে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য ও এক হাজার ৮৩১ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে এক হাজার ৩৬৩টি মামলা রুজু করা হয়।
কৌশলে ইয়াবা পাচার হচ্ছে
সভায় বিভাগী কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে নতুন কৌশলে সড়ক ও নৌ পথে ইয়াবা পাচার করছে। মাদকের বিরুদ্ধে আরো বেশি নজরদারী বাড়াতে হবে। এছাড়া কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে তেল পাচার রোধে সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথে বিজিবি কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল আরো জোরদার করতে হবে। ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রত্যেক জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালানরোধ, জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন