সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯, ০৯ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

সারা বাংলার খবর

দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের মাওয়া ফেরি সেক্টরে শুনশান নিরবতা

পাটুরিয়াতেও গাড়ীর জন্য ফেরির অপেক্ষা দীর্ঘ দিনেও বিআইডব্লিউটসি বিকল্প ফেরি রুট চালুর উদ্যোগ না নেয়ায় চরম আর্থিক বিপর্যয় আসন্ন

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৬ জুন, ২০২২, ৫:১২ পিএম

দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় রাজধানী সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে সংযুক্ত দেশের প্রধান দুটি ফেরি সেক্টরে এখন বিষাদের সুর। মাওয়া সেক্টরে পদ্মার দু পাড়ের ঘাটগুলোতে রোববার সকাল থেকে শুনশান নিরবতা। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১টি গাড়ীও পার হয়নি মাওয়া সেক্টরের কোন ফেরিতে। থেমে গেছে স্পীড বে বোটের ভো ভো শব্দের সাথে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর হুইসালও। অলস পড়ে আছে বিআইডব্লিউটিসি’র ৯টি ফেরি। পাটুরিয়া সেক্টরেও যানবাহনের লম্বা লাইন এখন অতীত।

গত ৬০ বছরেরও বেশী সময় ধরে দৌলতদিয়া-আরিচা/ পাটুরিয়া এবং ১৯৮৩ সাল থেকে মাওয়া সেক্টরের মাওয়াÑচরজানাজাত, পরবর্তিতে কাঠালবাড়ীÑশিমুলিয়া রুটে কয়েক কোটি যানবাহন ফেরি পারাপারের পরে এখন নিরব শূণ্যতা। রোববার সকালে সেতু পদ্মা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ায় সেখানে দুপাড়ের সব কর্ম ব্যস্তাতা থেমে আছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আনন্দের বণ্যার সাথে পদ্মার দু পাড়ে ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে ছোট বড় সব ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা থেমে যাবার সাথে নিরব হাহাকার।
রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান, বিআইডব্লিউটিসি এতদিন ফেরির অভাবে যানবাহন পারাপারে হিমশীম খেলেও রোবাবার সকাল থেকে আর কেউ ফেরিঘাট মুখি হচ্ছেনা। ফলে দেশের বৃহত্বম মাওয়া ও আরিচা ফেরি সেক্টরে সংস্থাটির মনোপলি ব্যাবসা বন্ধের সাথে জনগনের দূর্ভোগের সাথে হয়রানীও বন্ধ হয়েছে। ফেরিঘাটগুলোতে অনেকটাই হীমঘরের নিরবতা নেমে এসেছে।
শণিবার সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর সাথে দক্ষিন ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী দেশের সর্ববৃহত ফেরি সেক্টর পটুয়ারিয়াÑদৌলতদিয়া রুটে মাত্র দেড় হাজার যানবাহন পারাপার হলেও অপক্ষেমান ছিলনা ১টিও। অথচ মাত্র একদিন আগেই এ সেক্টরে প্রায় ৮শ যানবাহন পারাপারের অপেক্ষার প্রহর গুনছিল।
অপরদিকে ২১ জেলার সাথে রাজধানীর সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের মাওয়া সেক্টরে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে গত তিনদিন বন্ধ থাকলেও রোববার সকাল থেকে শুধুমাত্র পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য ফেরি চালু থাকলেও সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত একটি যানবাহনও ফেরিঘাট মুখি হয়নি। অথচ অন্য সময়ে এ সেক্টরে পারপারের জন্য অপক্ষোর দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ত। এমনকি একটি লাশবাহী এ্যম্বুলেন্সকেও পদ্মা পাড়ি দিতে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এখন যানবাহনের অপক্ষোয় ফেরি দাড়িয়ে আছে ঘন্টার পর ঘন্টা।
দেশের প্রধান দুটি ফেরি সেক্টরে এ বিপর্যয় রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটিকে খুব শিঘ্রই যথেষ্ঠ আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল। তবে অদুর ভবিষ্যতেই সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন কয়েকটি রুটে ফেরি সার্ভিস ‘চালু করার চেষ্টা চলছে’ বলে জানান হয়েছে। কিন্তু গত প্রায় ৬ বছরেরও বেশী সময় ধরে পদ্মায় সেতু নির্মান কাজ চললেও এতদিনেও কেন রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটি বিকল্প নতুন ফেরি পথের সন্ধান করতে পারেনি তা বলতে পারেন নি কেউ।
এব্যাপারে বিঅইডব্লিউটিসি’র পরিচালক-বানিজ্য আশিকুজ্জামান জানান, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ফেরি পথের সন্ধান করছি’। পাশাপাশি বিদ্যমান চাঁদপুরÑশরিয়তপুর ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেক্টরেও ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করে বাড়তি যানবাহন পারপারের কথা জানান তিনি। তবে পদ্মা সেতু চালু করার চুড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যেও বিআইডব্লিউটিসি এতদিনে তার বহরের ৫৪টি ফেরির জন্য বিকল্প নৌপথে যানবাহন পারাপার চালুর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির ব্যাবস্থা কেন করেনি সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেন নি। এমনকি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তরবঙ্গের সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের রাজবাড়ী ও পাবনার মধ্যবর্তি পদ্মায় নাজিরগঞ্জ-জৌকুড়া রুটে সংস্থাটির ফেরি সার্ভিস চালু করতে আন্তঃ মন্ত্রনালয়ের সভায় আরো ৫ বছর আগে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলেও সংস্থাটি সে ব্যাপারেও কোন পদক্ষপ গ্রহন করেনি। এখন সংস্থাটিকে প্রায় অর্ধেক ফেরি বসিয়ে রেখে প্রশাসনিক ব্যায় মেটাতে গিয়ে লোকশানের বোঝা ভারি হবে বলে ক্ষুদ্ধ সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারীগনও।
অথচ ফেরি সেক্টরই বিআইডব্লিউটিসি’র আয়ের মূল উৎস। গত অর্থ বছরে সংস্থাটির সর্বমোট ৩৯৫ কোটি টাকা আয়ের মধ্যে ফেরি সেক্টরেরই অবদান ছিল প্রায় ৩৯০ কোটি। যার সিংহভাগই আয় হয়েছে মাওয়া ও আরিচা সেক্টর থেকে। এমনকি চলতি অর্থ বছরের গত মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে সংস্থাটির ৩০৯ কোটি টাকা আয়ের ২৮৫ কোটি এসেছে ফেরি সেক্টর থেকে।
পদ্মা সেতু চালু হবার পড়ে দেশের প্রধান এ দুটি ফেরি সেক্টরের আয় অন্তত ৯০ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পাবার আশংকার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহল। কিন্তু বিশাল জনবলের এ সংস্থাটির আয়ের প্রায় ৯৫ ভাগ উৎসই বন্ধ হয়ে গেলেও এতদিনে বিকল্প কোন আয়ের পথ নিশ্চিত করতে পারেনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।
এ ব্যাপারে রোবববার দুপুরে বিআইডব্লিউটসি’র চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আহমদ শামীম আল রাজী’র সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, আমরা বিকল্প কয়েকটি ফেরি রুট চালুর লক্ষে ইতোমধ্যে সম্ভব্যতা সমিক্ষা করেছি। পাশাপাশি ভোলাÑলক্ষ্মীপুর এবং চাঁদপুরÑশরিয়তপুর সেক্টরেও ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে যানবাহন পারপার বৃদ্ধি সহ সংস্থার আয় বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন