ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

শিক্ষাদিক্ষা

গণরুমে দুর্বিষহ জীবন কুবি শিক্ষার্থীদের!

কুবি থেকে মেহেদী হাসান মুরাদ | প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৩৮ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের থাকার পর্যাপ্ত স্থান না থাকলেও মানবেতরভাবে কোনোমতে দিনপার করছেন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের নিচতলায় গিয়ে দেখা হয় গণরুমে থাকা এমদাদের সাথে। নিয়ে গেলেন তার গণরুমে। গণরুমের সামনেই বিশাল অংশ জুড়ে দেখা গেল একগাদা জুতো। রুমের ভেতরে যেতেই তিনি শোনালেন তার মাথা গোঁজার ঠাঁই গণরুমের গণজীবনের করুণ কথা। এমদাদের মতো নবীন ব্যাচের ১৬ জন শিক্ষার্থী এক রুমে অর্থাৎ দত্ত হলের দুটো ছোট রুমে প্রায় ৩২জন বসবাস করছেন। যেখানে কেউ পড়ছে, কেউ গান শুনছে, আবার কেউবা একই বালিশে গাদাগাদি করে শুয়ে আছে। দরজা বরাবর একটি বেঞ্চ। ছোট রুমের দেয়ালে ঝুলছে উপচে পড়া কাপড় চোপড়, পুরো রুমে ছিটিয়ে আছে বই খাতা ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। পুরো রুমজুড়ে বিছানা পেতে এক বালিশে দুজন মাথা গোজে এভাবেই দিন পার করছেন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীরা। ক্লাস শেষে রুমে আসা আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী যখন বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন তখন দেখা গেল সেখানেও ব্যস্ততা। গণরুমের অসহ্য জীবন সম্পর্কে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এমদাদ বলেন, ‘কুমিল্লাতে থাকার মতো আমার কোনো আত্মীয় বাড়ি নেই। তাছাড়া বিভিন্ন সমস্যা ও সঙ্কটের কারণে হলে বাধ্য হয়েই থাকছি’।

কাজী নজরুল ইসলাম হলেরও একই অবস্থা, তাদের ছোট দুই রুমে ২৬জন শিক্ষার্থী থাকছেন। যে রুমে নেই কোনো পড়ার টেবিল। পুরো রুম জুড়ে রয়েছে বিছানা যেখানে গাদাগাদি করে পড়াশুনা করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে নিত্য প্রযয়োজনীয় সামগ্রী রাখার কোনো লকার ব্যবহারের সুযোগ কিংবা ঠিকঠাক পড়ার পরিবেশ পাচ্ছেন না তারা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গণরুমে গিয়ে দেখা গেলো সেখানেও একই চিত্র। এই হলে সিট সংখ্যার তুলনায় ছাত্র বেশি ব্যবস্থা রয়েছে গণরুমের। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ১২ জন থাকার মত তিনটি রুমে প্রায় ৬০ জন ছাত্র একসাথে থাকেন। সেখানেও গিয়ে দেখা গেলো, হাসপাতালের বেডের মতো পাশাপাশি সারি সারি বিছানা। তাতে কেউ শুয়ে আছেন, কেউ কেউ আবার গল্প করছেন। তাদের আড্ডায় যোগ দিয়েই জানা গেল তাদের দুঃসহ গণরুমের গণজীবন সম্পর্কে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের গণরুম সর্ম্পকে খোজ নিয়ে জানা যায়, এক রুমে ১২ জন শিক্ষার্থী আসনের অভাবে বাধ্য হয়ে কষ্ট করছে। নাম না প্রকাশ করা র্শতে গণরুমের একজনের সাথে কথা বলেন, তার নির্দিষ্ট কোনো সিট নেই। র্ভতি হওয়ার পর থেকে কোনো রুমে ব্যবস্থা হয়নি বলে গণরুমে দুঃসহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ আহসান উল্যাহ বলেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম আছে এ বিষয়টি সর্ম্পকে আমি অবগত নই”
রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মোঃ আবু তাহের বলেন, আবাসিক হলগুলোতে পর্যাপ্ত আসন নেই। তাই শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে এক রুমে থেকে পড়াশোনা করছেন যা আমরা সবাই জানি। আশাকরি, প্রকল্পের কাজের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন