গরু একটি গৃহপালিত পশু। গরুকে গরুর মালিক বেঁধে রেখেছে। এমতাবস্থায় গরুর প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। পাশেই একজনের ধানক্ষেত। গরুটি ক্ষুধার জ্বালায় দড়ি ছিঁড়ে ওই ক্ষেতের ফসল খাওয়া আরম্ভ করল। ক্ষেতের মালিক তা জানতে পেরে দৌড়ে এলো। গরুটিকে তাড়া করল এবং গরুর মালিককে যা-তা বকতে শুরু করল। মালিক এ অবস্থা দেখে গরুটিকে মজবুতভাবে বাঁধল এবং খুব মারধর করল। এমন ঘটনা আমাদের সবারই জানা। এখন যদি দু’য়েক দিন পর গরুটিকে আবার ছাড়া হয়, ক্ষুধার্ত হলে আবার ওই ক্ষেতে হামলে পড়বে। অথচ এ ক্ষেতে আসার কারণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এটা একটা চতুষ্পদ জন্তুর কাজ। সে তার মালিকের মারধর এবং তাকে একবার ছাড়া ও আরেকবার বাঁধার উদ্দেশ্য বোঝে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুনাফেকের অবস্থাও ওই উটের মতোই। অর্থাৎ উট যেমন বোঝে না তার মালিক তাকে কেন ছাড়ল আর কেন বাঁধল, তেমনই মুনাফেকও তার রবের পক্ষ থেকে তাকে যে অসুস্থতা দেয়া হয়, পরে সুস্থ করা হয়, এর উদ্দেশ্য বোঝে না। একজন মুমিন অসুস্থতা থেকে শিক্ষা নেয়। ভবিষ্যতে গোনাহ থেকে বিরত থাকে। পক্ষান্তরে একজন মুনাফেক অসুস্থতার সময় অক্ষমতার কারণে অন্যায় থেকে বিরত থাকলেও সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় অন্যায়ের পথে ফিরে যায়।
হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি. একজন মর্যাদাবান সাহাবী। তিনি একবার অসুস্থ অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বে। তাতে সক্ষম না হলে বসে পড়বে। বসে নামাজ আদায়েও যদি সক্ষম না হও, তাহলে শুয়ে নামাজ আদায় করবে। সহীহ বুখারী : ১১১৭
হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাযি. খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চলাফেরা করতে পারেন না। এমনকি বসতেও পারেন না। নামাজ আদায় করতেন শুয়ে শুয়ে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অত্যন্ত কষ্ট স্বীকার করেছেন। সবর করেছেন। মাওলায়ে পাকের ফয়সালার ওপর রাজি থেকেছেন। এভাবে অসুস্থ অবস্থায় যখন তিনি মৃত্যুর কাছাকাছি, মুমূর্ষু অবস্থায়, তখন দেখা যেত তিনি শুয়ে শুয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে হাসতেন। পরিবারের লোকজন দীর্ঘ ৩০ বছরের রোগেশোকে আক্রান্ত মৃত্যুপথযাত্রী এ সাহাবীকে দেখে আশ্চর্য হলেন। ব্যাপার কী? তিনি কেন হাসেন?
তার কাছে এর কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সুস্থ অবস্থায় আমি যে আমল করেছি তার দ্বারা ততটুকু মর্যাদা লাভ করতে পারিনি যতটুকু মর্যাদা লাভ করেছি এ অসুস্থ অবস্থায় সবর করে। আল্লাহ পাক আমাকে সে মর্যাদা দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি যখন উপরের দিকে তাকাই তখন সপ্তম আসমানের ওপর আল্লাহ পাকের আরশ পর্যন্ত দেখতে পাই। আমি ঊর্ধ্বজগতের সবকিছু দেখছি। জান্নাতের নেয়ামত দেখছি আর শুয়ে শুয়ে হাসছি। সুবহানাল্লাহ!
মোটকথা, রোগশোক, অসুখ-বিসুখের দ্বারা মুমিন বান্দা উপকৃত হয় আর মুনাফেক চতুষ্পদ জন্তুর মতো বঞ্চিতই থেকে যায়। অতএব আমরা যেন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে বিচলিত হয়ে না পড়ি। সবর করব এবং আল্লাহর কাছে দুআ করব।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
মন্তব্য করুন