ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নৌপথে নতুন সম্ভাবনা

চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌপথ উন্নয়ন ও নাব্য রক্ষায় ৩২শ’ কোটি টাকার প্রকল্প

| প্রকাশের সময় : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সাখাওয়াত হোসেন বাদশা : চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে আশুগঞ্জ পর্যন্ত দেশের প্রধান নৌপথটির উন্নয়ন ও নাব্য রক্ষায় সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত এই প্রকল্প নৌপথ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সোনালি দিগন্তের সূচনা করবে।
স্বল্পব্যয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য সরবরাহ ও যোগাযোগের মাধ্যম হলো নৌপরিবহন। দেশের নৌপথের গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা-আশুগঞ্জ-চট্টগ্রাম নৌ-করিডোর বাংলাদেশের প্রধান অভ্যন্তরীণ  নৌ-বাণিজ্যিক রুট, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ।
৩০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই রুটে বরিশালসহ অন্যান্য রুটের সংযোগ রয়েছে। এ রুটের সঙ্গে সংযুক্ত নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশাল যুক্ত হলে মোট নৌপথের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০০ কিলোমিটারের কিছু ওপরে।
এ লক্ষ্যেই দেশের নৌ-বন্দরগুলোকে আরো আধুনিক করে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার নৌপথের এই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। চলতি অর্থবছরের শেষের দিকে এই উন্নয়নমূলক কর্মকা- শুরু হবে বলে জানা গেছে।
গত ২১ ডিসেম্বর প্রকল্পটি কিছুটা সংশোধন সাপেক্ষে একনেক অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় এই প্রকল্পটিতে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ থাকবে ২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা। আর সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হবে ৪শ’ কোটি টাকা।
জানা যায়, প্রকল্পটিতে একনেক যেসব সংশোধনী আনতে বলেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে সেসব সংশোধনী পাঠানো হয়েছে। এসব সংশোধনীসহ প্রকল্পটি নিয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের আদেশ জারির পরই কাজ শুরু হবে বলে জানান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-আশুগঞ্জ নৌপথের গভীরতা বৃদ্ধি, জেটি, ঘাট ও পন্টুন স্থাপন, বিভিন্ন স্থানে নৌবন্দর উন্নয়ন, যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ এবং সদরঘাট নৌ- টার্মিনালের ওপর চাপ কমাতে অত্যাধুনিক করে ঢাকায় শ্মশানঘাট যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এই টার্মিনাল নির্মাণ হলে সদরঘাটের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যাবে।
এছাড়াও নৌপথে বেশ কয়েকটি লিঙ্করোড স্থাপন করা হবে। যার মধ্যে রয়েছেÑ নারায়ণগঞ্জ-ঘোড়াশাল, বরিশাল-ঝালকাঠি লিঙ্করোড। এই প্রকল্পের আওতায় যেসব স্থানে ফেরিরুট উন্নত করা হবে সেগুলো হচ্ছেÑ ভোলা-লক্ষ্মীপুর, লাহারহাট-ভেদুরিয়া ও চাঁদপুর-শরীয়তপুর। আরো উন্নত করা হবে চাঁদপুর নৌঘাটটি। নারায়ণগঞ্জ নৌবন্দরটির আধুনিকায়ন ও বরিশাল নৌবন্দরটি এক্সটেনশন করা হবে।
প্রকল্পের সারসংক্ষেপে আরো বলা আছে, কার্গো টার্মিনালসহ ১৪টি লঞ্চঘাট উন্নত করা হবে। এছাড়াও নৌপথে যাত্রীদের যাতায়াত ও ভ্রমণ নিরাপদ করার জন্য ৬টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র নৌপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নির্মাণ হবে। যাতে করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যাত্রীরা লঞ্চ ঘাটে ভিড়িয়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এই প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদ হাসান সেলিম গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশ রিজিওনাল ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট-১’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এই ঋণের অর্থ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। ছয় বছরের রেয়াতকালসহ ৩৮ বছরে মাত্র দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যাতে ইআরডির জ্যেষ্ঠ সচিব  মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন এবং বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিওয়াও ফান স্বাক্ষর করেন।
এ ব্যাপারে গতকাল ইআরডি সচিব জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের  ক্ষেত্রে সড়কপথ অগ্রাধিকার পেলেও রেল ও নৌপরিবহন অবহেলিত ছিল। এখন সরকার রেল ও নৌপরিবহনেও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপরিবহন বিশাল অবদান রাখতে পারে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্যই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
এই প্রকল্পের ডিপিপিতে বলা হয়েছে, স্বল্পব্যয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য সরবরাহ ও যোগাযোগের মাধ্যম হলো নৌপরিবহন। গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা-আশুগঞ্জ-চট্টগ্রাম নৌ-করিডোর বাংলাদেশের প্রধান অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যিক রুট, যা আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিপিপিতে আরো বলা হয়েছে, এ করিডোরের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় দুই লাখ যাত্রী চলাচল করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বছরব্যাপী ঢাকা-আশুগঞ্জ-চট্টগ্রাম নৌপথের নাব্য নিশ্চিতকরণ, করিডোরের উন্নয়ন এবং বিআইডব্লিউএর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী ২০২৪ সালে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Samsul ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ৮:৩৩ এএম says : 0
Very good
Total Reply(0)
তানিয়া ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:২৭ পিএম says : 0
সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
Total Reply(0)
লোকমান ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:২৭ পিএম says : 0
এই সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে হবে।
Total Reply(0)
ফিরোজ ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:২৯ পিএম says : 0
আসলে নৌপথে পণ্য পরিবহনে সবচেয়ে কম ব্যয় হয়।
Total Reply(0)
Mamun ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:২৯ পিএম says : 0
ata sune khub valo laglo
Total Reply(0)
Mohammed Shah Alam Khan ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১০:৩১ পিএম says : 0
ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক বাহাউদ্দিন সাহেব সুন্দর ব্যাখ্যা সহ দেশের উন্নয়ন মূলক সংবাদ পরিবেশনের করেছেন তাই তাকে জানাই ধন্যবাদ। এভাবে প্রতিটি পত্রিকা সব ধরনের কাজে ভাল মন্দ সততার সাথে তুলে ধরতে থাকে তাহলে জনগণের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে খুবই সহজ হবে। আমাদের দেশে প্রকৃত সাংবাদিকতার অভাব বহু বছর ধরে দেখে আসছি। এখন মাঝে মধ্যে কিছু পরিবর্তনও দেখি না ঠিক তা নয় তারা লিখেন কিন্তু কতটা গুরুত্ব দেন সেটাই দেখার বিষয়। আমরা পত্রিকা খুলেই দেখতে পাই শুধুই সমালোচনা, আলোচনা দেখি না। আমি ইনকিলাবের পাঠক কখনো ছিলাম না, কিছুদিন যাবত নিয়মিত পড়ছি কারন এখন আমার প্রচুর সময় এবং পত্রিকা পড়তেও পয়সা লাগেনা তাই প্রতিদিন ৫/৬ টা পত্রিকা পড়ছি এবং মন্তব্য লিখছি। আজ কয়দিন ধরে দেখছি ইনকিলাব আমার দৃষ্টি আকর্ষন করছে কারন তারা দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের গুরুত্বও দিচ্ছেন এবং আজ সংবাদের পত্রের প্রথম পাতায় শির্ষ সংবাদ দিয়েছেন বলে আমি আবার বাহাউদ্দিন সাহেবকে আমার অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ নদী মাত্রিক দেশ, শস্য শ্যামলা সবুজের দেশ এবং ভাতে মাছে বাঙ্গালী এসব পড়ে আসছি ছোট বেলা থেকেই। শুধু পড়াই নয় বাস্তবতায়ও দেখে আসছিলাম আর এটাই ছিল বাঙ্গালীর ঐতিহ্য। ........ এখন নদী মাত্রিক দেশ এটাও ফিরে আসছে তাই খুবই ভাল লাগছে। আবারও ইনকিলাবের সবাইকে ধন্য বাদ। প্রাকৃতিক সম্পদ আল্লাহ্‌ দিয়েছেন এখন আমরা এটা যদি আমরা বুঝি তাহলে আমাদের বুঝতে হবে আল্লাহ্‌ যাহা দিয়েছেন সেখান থেকেই আমাদেরকে আমাদের উন্নতি বের করে আনতে হবে। তাই আজ দেখছি দেশ আল্লাহ্‌র দেয়া নেয়মতকে ব্যবহার করতে যাচ্ছে সঠিক ভাবে। ইতিমধ্যে ভাত ও মাছ আমরা পেয়েছি এখন এই নদীগুলোকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে আমরা অবশ্যই উন্নয়নের চূড়ায় বসতে পারব কারন এই সম্পদ আল্লাহ্‌ আমাদেরকে দান করেছেন এবং এটা আমরা বিশ্বাস করে আল্লাহ্‌র নিয়ামত থেকে আমাদের শুখ ও শান্তির সন্ধান করছি তাই আল্লাহ্‌ আমাদেরকে তার দয়ায় আমাদেরকে ভাষীয়ে দিবেন এটাই চির সত্য সন্দেহ নেই। সাথে সাথে আল্লাহ্‌ আমাদের মাথা উচু করে ধরবেন বিশ্ববাসীর কাছে। ইতিমধ্যে আমরা বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছি আল্লার কৃপায় এখন আমরা যদি সঠিক পথে থেকে আল্লাহ্‌র নির্দেশ মত চলতে থাকি তাহলে আমার বিশ্বাস আল্লাহ্‌ আমাদের জয় দিবেনি যেমন দিয়েছিলেন নবী করিম সাল্লাহু আলাইহেছছালেমকে। আল্লাহ্‌ বাঙ্গালীদেরকে তাদের আবস্থার পরিবর্তন করার সুযুগ দিন এই দোয়াই করছি। আমীন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন