ঢাকা সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৪ মাঘ ১৪২৭, ০৪ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও তার কার্যক্রম

| প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সৌমিক হাসান : দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে সংরক্ষিত চলচ্চিত্রকে ডিজিটাল ফরমেটে সংরক্ষণ করার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি বিশেষ করে ফিল্ম স্ক্যানার, কালার কারেকশন ইউনিট, সাউন্ড ফলোয়ার, ফিল্ম চেকিং ও ক্লিনিং মেশিন, ডিজিটাল এডিটিং মেশিন ও ডিজিটাল প্রজেক্টর বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করে ৩৫ মিমি., ১৬ মিমি. ফরমেটের চলচ্চিত্রকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুপারস্ট্রাকচার সমৃদ্ধ ফিল্ম আর্কাইভ ভবন নির্মাণ করা হয়। এরইমধ্যে ফিল্ম আর্কাইভ শাহবাগ বেতার ভবন থেকে আগারগাঁও নতুন ভবনে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে চলচ্চিত্র সাহিত্য সৃষ্টির লক্ষে প্রতিবছর নিয়মিত জার্নাল ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রকাশনা বের করছে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ফিল্ম ইনভেস্টিগেটর ফখরুল আলম দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নিকট হতে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে আসছে। গত কয়েক মাসে ফিল্ম আর্কাইভে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি সংগ্রহ করা হয়। আলমগীর পিকাচার্স প্রযোজিত পরিবেশিত ৩৫ মিমি., ৮৫টি চলচ্চিত্রের প্রিন্ট ও নেগেটিভ, নভেম্বর মাসে ববিতা মুভিজ প্রযোজিত ৮টি ছবির প্রিন্ট ও নেগেটিভ, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত পরিবেশিত ১০৪টি ছবির ১৫২টি প্রিন্ট ও ৩৭টি ছবির পিকচার ও সাউন্ড নেগেটিভ, ১ ডিসেম্বর ১৭টি ছবি ডিজিটাল ফরমেটে (হার্ডড্রাইভ) সংগ্রহ করা হয়। শামীম ফিল্মস থেকে ৪৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ডিজিটাল ফরমেটে সংগ্রহ করা হয়। গত ৩১ জানুয়ারি সালে মুন ফিল্মস এন্ড মিডিয়ার মৃনাল কান্তি থেকে ৬২টি ছবির ৩৫ মিমি. প্রিন্ট ও ৬টি ছবির সাউন্ড নেগেটিভ ও পিকচার নেগেটিভ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। ফিল্ম আর্কাইভ উল্লেখিত ৫টি প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ৪১৩টি ছবি সংগ্রহ করেছে গত তিন মাসে। এ ছাড়া বিভিন্ন ছবির পোস্টার, ফটোসেটসহ চলচ্চিত্রের বেশ কিছু দ্রব্যাদি সংগ্রহ করেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ও আলোচিত ছবি হলো দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, কিত্তণখোলা, চন্দ্রকথা, গেরিলা, দুরত্ব, মেহের নিগার, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, আহা, কাবুলি ওয়ালা, ঘানি, নিরন্তর, আমার বন্ধু রাশেদ, শংখনাদ, আগুনের পরশমণি, অবুঝ বউ, গঙ্গাযাত্রা, ঘেটুপুত্র কমলা, মনের মানুষ, গহীনে শব্দ, দিপু নাম্বার টু, মৃত্তিকা মায়ার, জালালের গল্প, অজ্ঞাতনামা, প্রিয়া তুমি সুখি হও, কৃষ্ণপক্ষ, চকোরী, স্মৃতিটুকু থাক, ঝড়ের পাখি, সাধারন মেয়ে-র মতো উল্লেখযোগ্য ছবি রয়েছে এবারের সংগৃহীত ছবির মধ্যে। বর্তমানে ফিল্ম আর্কাইভের জনবল সংকট রয়েছে। এই জনবল সংকট সমস্যার সমাধান হলে এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে আধুনিক ফিল্ম আর্কাইভ হবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। উল্লেখ্য, দেশ বিদেশের চলচ্চিত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ১৯৭৮ সালে ফিল্ম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে চলচ্চিত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি সংগ্রহের পাশাপাশি ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স পরিচালনা করে। নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন দিবসে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করে থাকে। চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি সংরক্ষণের জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান ফিল্ম আর্কাইভ থাকার পরও দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সচেতনতার অভাবে অনেক চলচ্চিত্রের কপি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফিল্ম আর্কাইভের পক্ষ থেকে দেশে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি কপি জমা দেয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও অনেকেই ফিল্ম আর্কাইভে ছবি জমা দিচ্ছে না। ২০০৫ সালে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কপিরাইট আইন পাস করা হয় এবং ২০১২ সালে এই আইনের সংশোধন করা হয়। যে কোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তার নির্মিত চলচ্চিত্রের একটি কপি বাধ্যতামূলকভাবে ফিল্ম আর্কাইভে জমা দিতে হবে। এ আইন অমান্য করলে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা ও দুই বছরের জেল হওয়ার বিধান রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন