রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই সম্ভব কল্যাণকর সমাজ গড়া খুৎবা পূর্ব বয়ান

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ১৫ জুলাই, ২০২২, ৩:৪৩ পিএম

আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই সম্ভব একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল, শান্তিময়, কল্যাণকর সমাজ গড়া। মানবজাতির সভ্যতা ও আত্মিক পবিত্রতার জন্য নাযিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন। এ গ্রন্থের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনের পথ ও পদ্ধতি। আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম এসব কথা বলেন। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার প্রাচীন দেউলবাড়ী গাজীবাড়ী জামে মসজিদের অতিথি খতিব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মানুষকে আল্লাহ তায়ালা দুটি জিনিস দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। দেহ এবং আত্মা। এ দুটি জিনিস সুস্থ থাকলেই একজন মানুষকে পরিপূর্ণ সুস্থ মানুষ বলা হয়। মানুষের যেরূপ দৈহিক রোগব্যাধি রয়েছে, তেমনি আছে আত্মিক রোগব্যাধি। দৈহিক রোগব্যাধির জন্য আমরা চিকিৎসা গ্রহণ করি, ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। আত্মিক রোগব্যাধির চিকিৎসা গ্রহণের জন্যও আত্মার ডাক্তার তথা একজন নিসবতওয়ালা বুযুর্গের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। মানুষ আত্মিক রোগে আক্রান্ত হলে শুধু নিজে নয় বরং জাতি ও সমাজও ধ্বংস করে। তাই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে অনেক বেশি তাগিদ প্রদান করেছেন এবং যারা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে তাদের সফলকাম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আ'লার ১৪ নং আয়াতে তিনি বলেন "নিশ্চয়ই যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে সে সফলতা লাভ করবে।"

খতিব আরও বলেন, মানবজাতির সভ্যতা ও আত্মিক পবিত্রতার জন্য নাযিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন। এ গ্রন্থের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনের পথ ও পদ্ধতি। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করা, কোরআনের শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করা, জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুন্নতে রাসূলের সা. অনুসরণ করা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই সম্ভব একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল, শান্তিময়, কল্যাণকর সমাজ গড়া। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করেন, আমীন।

রাজধানীর ফুলবাড়িয়া রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব আল্লামা মুহিউদ্দীন রাব্বানী জুমার খুৎবায় বলেন, মহান রাব্বুল আ'লামিন যেসব পশু পাখি এবং তরুলতা-উদ্ভিদ খাওয়া হালাল ও হারাম তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি মানবজাতির জন্য কোনটি কল্যাণকর আর কোনটি অকল্যাণকর তা নিজেই ঠিক করে দিয়েছেন।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে মাছ ব্যতীত অন্যান্য মৃত প্রাণীর গোশত ভক্ষণ করা হারাম। এছাড়াও কিছু হিংস প্রাণী যেমন শুকর, কুকুর, বিড়াল, সিংহ, চিতা ও বাঘ ইত্যাদির গোশত ভক্ষণ করাও হারাম। আমরা বুঝি বা না বুঝি, এসব প্রাণীর গোশত মানুষের জন্য অকল্যাণকর। তাই এসব প্রাণীর গোশত মানুষের জন্য হারাম করা হয়েছে।

কেন বিভিন্ন পশু পাখিকে খাবারের জন্য হালাল এবং হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, এসব বিষয়েও জীববিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা বিস্তর গবেষণা কর্ম পরিচালনা করেছেন। তাদের গবেষণা কর্ম এখনো অব্যাহত আছে। স্থান কাল পাত্র ভেদে সেসব গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের জীবনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দেয় বলেই নির্দিষ্ট পশুপাখি ভক্ষণ হারাম এবং বাকিগুলো নানাবিধ উপকার ও প্রয়োজন বিবেচনায় হালাল ঘোষণা করা হয়েছে। নিম্মে কোরআন ও হাদীসের আলোকে হালাল হারাম প্রাণীর বর্ণনা দেয়া হলো। খতিব বলেন, কিছু কিছু প্রাণী যেমন শুকর, গৃহপালিত গাধা, মৃত প্রাাণীর গোশত, প্রাণীর রক্ত ইত্যাদিকে সরাসরি কোরআন ও হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। সূরা মায়েদা-এর ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মৃত প্রাণীর গোশত, রক্ত এবং শুকরের গোশত তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে’। এছাড়া মাছ ব্যতীত সকল জলজ প্রাণী খাওয়া হারাম। প্রাকৃতিকভাবে মারা যাওয়া মাছ খাওয়াও হারাম।

পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রহ.) জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, আল্লাহর রহমতে মুসলিম মিল্লাতের মাঝে অত্যন্ত আগ্রহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার খুশি উদযাপিত হয়। ধনী গরীব, রাজা প্রজা সকলেই এ খুশি ভাগাভাগি করে নেয়। পরস্পরের মধ্যে কোন ঝগড়া বিবাদ পরিলক্ষিত হয়না। কাদে কাদ মিলিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করে। কোলাকুলি করতেও দেখা যায় অনেককে । কিন্তু ঈদ চলে গেলে আবার শুরু হয় পূর্বের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক কলহ, দ্ব›দ্ব ও সংঘাত। কোথাও কোথাও শান্ত পরিবেশ আবার অশান্তও হতে দেখা যায়। খতিব বলেন, ঝগড়া বিবাদ কলহ দ্ব›দ্ব অশান্তির মূল। এর কারণেই পরস্পরে মারামারি কাটাকাটি, এমনকি প্রাণ নাশের ঘটনা ঘটতেও দেখা যায়। নবীজি সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ জারি করে বলেন, খবরদার! তোমরা পরস্পরে ক্রোধাম্বিত হয়ো না, কলহ বিবাদ করনা, পরস্পরে এক আল্লাহর বান্দা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নিয়ে বসবাস করো। (আল হাদিস )। আল্লাহ তায়ালা সকলকে ঈদের শিক্ষা গ্রহণ করে দ্ব›দ্ব সংঘাত ভুলে গিয়ে ভাই ভাই হিসাবে মিলে মিশে শান্তিতে বসবাস করার তৌফিক দান করেন । আমিন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন