মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ধর্ম দর্শন

ইসলামে নামের গুরুত্ব

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

জন্মের পর প্রত্যেক পিতা-মাতাই চান তার সন্তানের সুন্দর নাম হোক, সবাই তার সন্তানকে ভাল নামে ডাকুক। এমনকি ব্যক্তি নিজেরও তার নাম সুন্দর হোক তা চান। একজন মুসলিমের সর্বোত্তম নাম কি হবে, কোন ধরনের নাম প্রশংসনীয়, কোন ধরনের নাম বৈধ বা অপছন্দনীয়, ইসলাম এ ব্যাপারে সুম্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামের আগমনের পর থেকে মুসলিমদের মধ্যে নামকরণের ইসলামী নীতি অনূসৃত হয়ে আসছে। মুসলিম সংস্কারক, আলিম-ওলামা এ ব্যাপারে মুসলিমদের সংস্কার করে আসছেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় মুসলিমদের মধ্যে যা অনুশীলিত হয়ে আসছিল, বর্তমানে ইসলামী রীতিনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব, আধুনিকতার প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঝোঁক বা অতি বাঙালী সাজার প্রবণতার কারণে অনেকাংশে এর অনুশীলনের ব্যাপারে শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয়ের ক্ষেত্রে নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য যারা বলেন, নাম নয়; বৃক্ষ তার ফলে পরিচয়, তারাও কিন্তু নামহীন মানুষ নন। তাছাড়া ফল দেখার জন্য বৃক্ষের পাশে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করাও কঠিন। তাই আগে তার নাম জানা দরকার। নাম ছাড়া কোন ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয় দেয়া সম্ভব নয়। তাই মানব সমাজে সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর তার নাম রাখা একটি সর্বজনীন রীতি। এ পৃথিবীতে নামহীন একজন ব্যক্তিও পাওয়া যাবে না। ইসলামের নামের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তার নামের মাধ্যমেই সৃষ্টিজগতের নিজের পরিচয় দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সা. এর প্রতি নাযিলকৃত সর্বপ্রথম ওহীতেও তাঁর নামে পড়ার নির্দেশ রয়েছে।

অমুসলিম পন্ডিতগণও বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাহিত্যিক ও দার্শনিক William Hazlitt বলেন, A name is anchored in the deep abyss of time, as like a star twinkling in the firmament cold, distant, silent, but eternal and sublime.

এভাবে শিশুসন্তান জন্মগ্রহণের পর তার নামকরণের ক্ষেত্রেও ইসলাম অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম সুস্পষ্টভাবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি প্রণয়ন করেছে। রাসূল স. নিজেই অনেক সাহাবীর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন। আবার কোন নাম রাখা যাবে, কিরুপ নাম রাখা যাবে না তা সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এদেশের মুসলিমগণ ইসলামী নিয়মানুসারে নামকরণের এ বিষয়টি নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে অনুসরণ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে মুসলিমদের একটি অংশ অজ্ঞতাবশত অথবা বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে ইসলামী রীতি ভুলে বিভিন্ন বিকৃত পদ্ধতির অনুসরণে এ বিষয়টি নিজেদের মধ্যে চর্চা করছে। এ থেকে উত্তরণ প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য।

নামকরণ শব্দটি বাংলা। শব্দটি ‘নাম’ ধাতু থেকে উদ্ভুত। নাম বলতে বাংলায় আখ্যা, অভিধা, সংজ্ঞা, যে শব্দ দ্বারা কোন বস্তু বা ব্যক্তিকে নির্ধারণ করা যায় ইত্যাদিকে বুঝায়। ইংরেজীতে শব্দটির প্রতিশব্দ হিসেবে ঘধসব, Name, appellation, personal name, title, designation, identity ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।
আরবীতে শব্দটির প্রতিশব্দ হচ্ছে ইসম। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- যা দ্বারা বস্তুকে চেনা যায় অথবা যা দ্বারা বস্তুর ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করা হয়। অবশ্য আরবী ব্যাকরণে (নাহু শাস্ত্রে) এর ভিন্ন অর্থও রয়েছে।

আর নামকরণ বলতে অভিধানে রাখা, সন্তানের নাম রাখা, নবজাত শিশুর একাদশ বা দ্বাদশ দিনে নাম রাখার সংস্কার বিশেষ ইত্যাদি অর্থ করা হয়েছে।

বিষয়টি দ্বারা একাদশ দিনে নবজাতকের নাম রাখার অনুষ্ঠানের বুঝানো সম্ভবত হিন্দু ধর্মীয় একটি রীতি থেকে প্রচলিত হয়েছে। নামকরণ বলতে হিন্দুদের একটি ধর্মীয় সংস্কারকে বুঝায় অর্থাৎ হিন্দু ধর্মে নবজাতকের নামকরণের অনুষ্ঠান। জন্মের দিন অথবা জন্মের দশম, একাদশ বা দ্বাদশ দিনে পালিত হয়। দশম বা দ্বাদশ দিন হচ্ছে এ কাজের জন্য প্রশস্ত সময়। ইংরেজীতে এর প্রতিশব্দ Naming, Name giving, Nomenclature ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। আর আরবীতে তাসমিয়া এর প্রতিশব্দ। এর অর্থ নবজাতক বা কোন বস্তুর চিহ্নসূচক নামকরণ করা। যেমন আরবীতে বলা হয় ‘ছাম্মাহু কুন্না’ অর্থাৎ সে তার এরূপ নামকরণ করল। এর সাথে সংশ্লিষ্ট শব্দ তাকনিয়াহ্- উপনাম নির্ধারণ, তালক্বীব- উপাধি প্রদান ইত্যাদিও ব্যবহৃত হয়। আর নবজাতক বলতে সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া সন্তান বা সদ্যজাত শিশুকে (ঘবনিড়ৎহ নধনু) বুঝায়। অতএব নবজাতকের নামকরণ বলতে সদ্যজাত শিশুর নাম রাখাকে বুঝায়।

ইসলাম ব্যক্তির নামকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। যথার্থ নামকরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরার ব্যাপারে ইসলামের দিক নির্দেশনা সুস্পষ্ট।

মহান আল্লাহ তাঁর নিজের পরিচয় দেয়ার জন্য নিজেকে নিজেই নামকরণ করেছেন। তিনি তাঁর অসংখ্য নাম রেখেছেন। আমরা উম্মতে মুহাম্মাদীর নিকট তাঁর নিরানব্বইটি নাম প্রকাশ করা হয়েছে। রাসূল স. তাঁর একটি দু‘আয় এভাবে উল্লেখ করেছেনে যে, ‘হে আল্লাহ... আমি তোমার সকল নামের উসিলায় তোমার কাছে প্রার্থনা করছি, যে নামে তুমি তোমাকে নামকরণ করেছ...’।

আল্লাহ্র নাম গুণাবলির একত্বের প্রতি ঈমান আনা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ্র একত্বকে আক্বীদার কিতাবসমূহে সাধারণত ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর অন্যতম ভাগ হচ্ছে ‘তাওহীদুল আস্মা ওয়াস্ সিফাত’ অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলির একত্ব। তাঁর নামসমূহে কোন প্রকার বিকৃতি, তুলনা, সাদৃশ্য, হ্রাসবৃদ্ধি করা সম্পূর্ণরূপে ঈমানের পরিপন্থী। মহান আল্লাহ্ বলেন, এবং আল্লাহর আছে সুন্দরতম নামসমূহ। তোমরা এ নামসমূহ দ্বারা তাকে ডাকবে। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করবে। তাদের কৃতকর্মের ফল শ্রীঘই তাদেরকে প্রদান করা হবে।

আল্লাহর নামসমূহের উসিলা করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করা এবং তাঁর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁকে ডাকার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বলুন, আল্লাহ বলে ডাক কিংবা রহমান বলে, যে নামেই ডাকনা কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই।

ঈসা আ. এর মধ্যমে পূর্ববতী জাতির নিকট মুহাম্মাদ স. এর আগমনের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, আর স্মরণ কর, যখন মরিয়ম তনয় ঈসা আ. বলল, হে বনী ইসরাঈল- আমি তোমাদের নিকট থাকা তাওরাতের সত্যায়নকারী, তোমাদের প্রতি প্রেরিত আল্লাহ্র একজন রাসূল এবং এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন তাঁর নাম আহমদ।

আল্লাহ কিছু ক্ষেত্রে তাঁর প্রিয় বান্দাদের নিজেই নামকরণ করে দিয়েছেন। এটি আল্লাহ্র পছন্দনীয় নাম। যেমন ইয়াহ্ইয়া আ. এর ব্যাপারে আল্লাহ্ বলেন, হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহ্ইয়া। ইতঃপূর্বে এ নামে আমি কারো নামকরণ করিনি।

মহান আল্লাহ আদম আ. কে সৃষ্টি করে তাকে সৃষ্টি জগতের সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। নাম শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি জগৎ সম্পর্কে তাকে জ্ঞাত করান এবং যার মাধ্যমে ফিরিশতাকূলের উপর তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মহান আল্লাহ বলেন, আর তিনি (আল্লাহ) আদমকে সকলবস্তু সামগ্রীর নাম শিক্ষা দিলেন।

একটি বস্তু বা একজন ব্যক্তির পরিচয় তার নামের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ব্যক্তির নাম, গোত্র, বংশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজে ব্যক্তি স্বতন্ত্র সত্তা নিয়ে টিকে থাকে। অন্যথায় ব্যক্তি সমাজের সাথে একাকার হয়ে যেত। তাকে নির্দিষ্ট করে পরিচিত করার কোন উপায় থাকত না। মহান আল্লাহ্ বলেন, হে বিশ্বমানব, আমি তোমাদেরকে নারী-পুরুষে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে বিভিন্ন দল-গোত্রে বিভাজিত করেছি, যাতে তোমরা পর¯পর পরিচিত হতে পার।
ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিচয় সে নামেই হবে যে নামে তাকে পৃথিবীতে ডাকা হত। যদি ভাল নাম হয় তাহলে ভাল নামে, অন্যথায় তার খারাপ নামে তাকে ডাকা হবে।

রাসূলল্লাহ স. বলেন, (মৃত্যুর পর) ফিরিশতারা যখন ওটাকে (কোন রূহ) নিয়ে ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ করে, তারা যখনই কোন ফিরিশতাদের দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে তখন ভাল রূহের ক্ষেত্রে বলা হয়- কে এই ভাল রূহ? ফিরিশতা তার উত্তম নামের মাধ্যমে বলেন, অমুকের পুত্র অমুক, যে নামে তাকে পৃথিবীতে ডাকা হত।...অতপর ওটাকে (অন্য কোন রূহ) নিয়ে ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ করে, তারা যখনই কোন ফিরিশতাদের দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে তখন খারাপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফিরিশতারা তার নিকৃষ্ট নামের মাধ্যমে বলেন- অমুকের পুত্র অমুক, যে নামে পৃথিবীতে মানুষ তাকে ডাকত। প্রত্যেক কাজ আল্লাহ্র নামে শুরু করা মুসলিম জীবনাচরণের অন্যতম অনুষঙ্গ। এমনকি আল্লাহর নামে শুরু না করা কাজ হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী বরকত-শূন্য বিবেচিত হবে। আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ ব্যতীত জবাইকৃত পশু মুসলিমের জন্য খাওয়া হালাল নয়। আল্লাহ বলেন, যার উপর (জবাইয়ের সময়) আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়নি তা তোমরা খাবে না। তাই ইসলামে নামের গুরুত্ব অপরিসীম।

ইসলামে সন্তানে নামকরণ পিতামাতার আবশ্যকীয় কর্তব্য হিসাবে গণ্য। সকল মাযহাবে এটিকে পিতামাতার উপর সন্তানের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম ইবনু ‘আরাফা আল-মালিকী [৭১৬-৮০৩ হি.] রহ. উল্লেখ করেছেন, মূলনীতির দাবি হচ্ছে নামকরণ করা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে মাতার তুলনায় পিতা অগ্রগণ্য। নামকরণে পিতা-মাতার মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে পিতা অগ্রাধিকার পাবেন। আল্লাহ তাআ‘লা বলেন, তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। এছাড়া সুন্দর নামে ব্যক্তিকে ডাকা ইসলামে মুস্তাহাব। যে নাম ব্যক্তির পছন্দ এবং প্রিয় সে নামেই ডাকা উচিত। খারাপ বা নিকৃষ্ট নামে কাউকে নামাঙ্কিত করা বা কাউকে ডাকা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটাকে ইসলামে কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । আল্লাহ্ বলেন, তোমার একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না, কেউ ঈমান আনলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গুনাহ, যারা এরূপ কাজ থেকে তাওবা করে না তারা জালিম।

ব্যক্তির নামের অর্থ ব্যক্তির জীবনাচরণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে যা হাদীস দ্বারা স্বীকৃত। ৬ষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ স. ও কাফিরদের মধ্য প্রচন্ড উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে দু’পক্ষের মধ্যে দূত আগমন-প্রস্থান চলছিল। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ কাফিরদের পক্ষ থেকে সুহাইল (অতি সহজ) বিন আমর আগমন করলে তার সাথে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। তার আগমন প্রত্যক্ষ করে রাসূল সা. বলেন, তোমাদের কাজ সহজ হয়ে গেল।

এছাড়া সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তার দাদা হায্ ন রাসূলুল্লাহ স.-এর নিকট আগমন করলে তিনি তার নাম জিজ্ঞাসা করেন। তার নাম হায্ন (দুঃশ্চিন্তা) শুনে রাসূল সা. তার নাম পরিবর্তন করে বললেন, তোমার নাম সাহল (সহজম স্বাভাবিক)। তিনি তার পিতার দেয়া নাম পরিবর্তন করতে চাইলেন না। ফলে হার নাম হায্ নই থেকে গেল। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহ. বলেন, আসাতের পরিবারে এখন পর্যন্ত দুঃশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা লেগেই আছে। তাই ব্যক্তির নাম রাখার সময় ভাল অর্থবোধক নাম রাখা উচিত।

লেখক : শিক্ষাবিদ, গবেষক, কলামিষ্ট।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন