বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯, ১৬ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

পবিত্র আশুরা সংখ্যা

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না

রূহুল আমীন খান | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০২১, ১২:০৬ এএম | আপডেট : ১২:১২ এএম, ২০ আগস্ট, ২০২১

হিজরি সনের পহেলা মাস ‘মুহররম’ শুরু হতেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে এ মাসের বিশেষ করে আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। মুহররমের ১ তারিখ হতেই আরম্ভ হয় এ আলোচনা এবং তা পূর্ণতা লাভ করে ১০ মুহররম অর্থাৎ আশুরার দিনে। মানব সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে শুরু করে হযরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত এই আশুরার দিনে বহু নবী-রাসূলদের জীবনে সংঘটিত হয়েছে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এমনকি এ পবিত্র দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে বলেও হাদীস শরীফের মর্মে অবগত হওয়া যায়। তাই মুসলিম জাতি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে ভাব-গম্ভীর পরিবেশে এ দিনটি উদযাপন করে থাকে। তবে সব ইতিহাস ছাপিয়ে মুসলিম মিল্লাতের অন্তরকে এ দিনের যে ঘটনা বেশি আলোড়িত করে তা হচ্ছে কারবালার মর্মান্তিক ও বিয়োগান্তক স্মৃতি।

সবাই জানেন, ইয়াজিদ খলীফা সেজে খিলাফতের ঐতিহ্যকে যখন ধ্বংস করে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রে রূপান্তরিত করেছিল তখন প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা.) তা মুখ বুজে বরদাশত করেননি। ইয়াজিদী জুলুমে অতিষ্ঠ কুফাবাসীর আমন্ত্রণে তিনি আবার কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শে খিলাফত প্রতিষ্ঠার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ইরাকের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। ইয়াজিদের ক্ষমতা, দাপট, কুফাবাসীদের বিশ্বাসঘাতকতার ঐতিহ্য এবং এই দুঃসাহসী কাজের করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মক্কা ও মদীনা শরীফের অনেক শুভাকাক্সক্ষী ও শুভানুধ্যায়ী তাঁকে এ কাজে নিরুৎসাহিত করেছিলেন, অনেকে প্রবলভাবে বাধাও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সকল পলায়নী পরামর্শ, আপসকামী উপদেশ, বন্ধুসুলভ বাধা অবলীলাক্রমে অগ্রাহ্য করে অটল অবিচল সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিকৃতির হাত থেকে ইসলামী আদর্শকে রক্ষা করা, খিলাফতকে আবার স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করা। কুফার পথে অগ্রসর হয়ে তিনি যখন সেখানে তাঁর দূত মুসলিম ইবনে আকিলের শাহাদাতের সংবাদ পেলেন, ইবনে জিয়াদের নৃশংসতা ও দুর্বল হৃদয় কুফাবাসীর স্বপক্ষ ত্যাগের ঘটনা শুনলেন তখনও তিনি হিমাচল দৃঢ়তা নিয়ে সংকল্পে অবিচল থাকলেন। এর বিষাদময় পরিণতি অবধারিত জেনেও সম্মুখে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত হলেন না। অবশেষে মরু কারবালা প্রান্তরে এসে যখন সরাসরি ইয়াজিদী সৈন্যের মুখোমুখি হলেন এবং হাজার হাজার দুশমন সৈন্য চারদিক বেষ্টন করে দাঁড়াল, ফুরাত নদী থেকে পানি আহরণের পথ বন্ধ করে দেয়া হলো, পবিত্র নবী পরিবারে পানির জন্য হাহাকার শুরু হলো তখনও তিনি আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলেন। পানি পান করাতে গিয়ে শিশু আলী আসগরের বুক যখন তীরের আঘাতে এফোঁড় ওফোঁড় হলো, তখনও তিনি সত্যের জন্য লড়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে অবিচল থাকলেন। পবিত্র নবী পরিবারের শিশু-কিশোর-যুবক নিয়ে পুরুষ সদস্য মাত্র ৪২ জন আর সঙ্গী সাথী মাত্র ৩০ জন, অপর দিকে ইয়াজিদী সৈন্য ৪ সহস্ত্রাধিক। শিবিরে পানি নেই, রসদ নেই। ১০ মুহররম আশুরার রাত, প্রভাতেই শুরু হবে চূড়ান্ত পরিণতি। এ সময়ে তিনি পরিবারের বাইরের সঙ্গীসাথী ও খাদেমদের ডেকে অবস্থার ভয়াবহতা বিশ্লেষণ করে রাতের অন্ধকারে তাদের সকলকে তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। কেউ যেন পালিয়ে যেতে লজ্জা-সংকোচ বোধ নাকরে সেজন্য তিনি শিবিরের বাতি নির্বাপিত করে দিয়ে তাদের পথ অবারিত করে দিলেন। কিন্তু নিজে জিহাদের সংকল্পে থাকলেন অনড় অটল। (অবশ্য কেউই তাদেরকে ছেড়ে গেলো না) আশুরার দিন আত্মসমর্পণের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তিনি শুরু করলেন অসম যুদ্ধ। পবিত্র পরিবারের কিশোর-যুবক এবং সঙ্গী-সাথী একে একে শহীদ হতে থাকলেন তবু তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না। যখন সব শেষ, মাত্র একাই তিনি জীবিত, সম্মুখে হাজার হাজার রক্ত লোলুপ সশস্ত্র ইয়াজিদী সেনা। তখন বিন্দুমাত্র দ্বিধা-সংকোচ না করে সেই উত্তাল বৈরী সেনা-সাগরে একাই ঝঁপিয়ে পড়লেন জিহাদে। যতক্ষণ সম্ভব টিকে থেকে বীর বিক্রমে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন। অবশেষে পান করলেন জামে শাহাদাত। ইয়াজিদকে নিজ খন্ডিত মস্তক দিলেন কিন্তু বায়াত গ্রহণের জন্য জীবন থাকতে হাত বাড়িয়ে দিলেন না। মানব ইতিহাসে এমন অসম যুদ্ধ, এমন শৌর্য-বীর্য, এমন আদর্শে অবিচল দৃঢ়তা, এমন ত্যাগ ও কুরবানীর নজির সত্যিই দুর্লভ। যুদ্ধ জয়ের আকাক্সক্ষা নয়, ত্যাগের নজির স্থাপন, কর্তব্যের পথ নির্দেশ রেখে যাওয়া এবং শাহাদাতের আকাক্সক্ষাই এখানে অভীষ্ট লক্ষ্য। আল্লাহর নবীর রক্তধারার যোগ্য উত্তরাধিকারী, ফাতেমা ও আলী নন্দন, জান্নাতের যুবকদের নেতা হযরত হুসাইন (রা.) ছাড়া নানাজানের উম্মতের জন্য পথ নির্দেশ ও ত্যাগের এমন অত্যুজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত আর কেই বা প্রতিষ্ঠা করতে পারে! তিনি দেখিয়ে গেলেন কোথাও আল্লাহর দ্বীন বিকৃত হতে থাকলে তা চোখ বুজে না দেখার ভান করা বা সয়ে যাওয়া বা সে অবস্থায় হাত গুটিয়ে বসে থাকা সত্যিকার ঈমানের পরিচয় নয়। তিনি দেখিয়ে গেলেন, পলায়নী মনোবৃত্তি, আপসকামিতা মুসলিমদের জন্য শোভনীয় নয়। তিনি দেখিয়ে গেলেন, সামান আছে কী নেই, লোকবল আছে কী নেই, পরিস্থিতি অনুকূল কী প্রতিকূল, কৌশলগত দিক দিয়ে অগ্রসর হওয়া যুক্তিযুক্ত হবে কি হবে না, পরিণতি জয়ে, না পরাজয়ে- এমন জরুরি অবস্থায় এর কোনটাই বিবেচ্য নয়, সর্বোচ্চ ত্যাগই এখানে ঈমানের দাবি। শাহাদাতই এখানে সর্বোচ্চ কামিয়াবী- ‘ফওজুন আজীম’।

তাই মুমিন বান্দা শাহাদতকে স্বাগত জানায়। বরণ করে হাসি মুখে। ইসলামী ইতিহাসে এরূপ উদাহরণের কোন অভাব নেই। তার দু ’একটি তুলে ধরা যেতে পারে। যেমন সাহাবী খোবায়েব রা.-এর ঘটনা। মক্কার কাফিররা তাঁকে ধরে এনেছিল। উন্মুক্ত ময়দানে উৎসব করে হত্যার ব্যবস্থা করে ছিল। তাঁকে শক্ত করে বেঁধে ছিল একটি সুদৃঢ় দন্ডের সাথে। চারদিক থেকে নিক্ষেপ করা হচ্ছিল ঝাঁকে ঝাঁকে তীর। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে পড়ছিল তার গোটা দেহ থেকে। প্রাণ ওষ্ঠাগত। এ অবস্থায়ও তিনি চিৎকার দিয়ে বলে চলছিলেন: ‘ফুজতু ওয়া রাব্বুল কাবা’- ‘কাবার প্রভূর শপথ, আমি কামিয়াব হয়েছি, সফল হয়েছি’। হযরত হুসাইন রা.ও সেরূপ কামিয়াবী হাসিল করলেন।

হযরত হুসাইন রা. দেখিয়ে গেলেন, দ্বীনের চরম নাজুক অবস্থায় যা আছে তাই নিয়ে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়ে, আল্লাহর দ্বীনের হেফাজতের জন্য সংগ্রাম করে যাওয়াই হচ্ছে মুমিনের কর্তব্য। কালের পরিক্রমা অব্যাহত থাকবে, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে দ্বীন এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হবে, তখন যেন উম্মতে মুহম্মদী পথ-নির্দেশ চেয়ে হতাশ না হয়, তাদের সামনে যেন থাকে কর্তব্যাকর্তব্য নিরূপণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মূলত এটাই ছিল হযরত ইমাম হুসাইন (রা.)’র লক্ষ্য। সত্যিই কারবালার এ বেনজির কুরবানীর ঘটনা মুসলিম উম্মার পথ পরিক্রমার বাঁকে বাঁকে উজ্জ্বল মাইলফলক হিসাবে কাজ করছে।
গরীব নেওয়াজ খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতীর র. ভাষায়-

‘ শাহ্ আস্ত হুসাইন, পাদশাহ্ আস্ত হুসাইন
দ্বীন আস্ত হুসাইন, দ্বীন পানাহ আস্ত হুসাইন
হক্্াঁকে বেনায়ে লাই’লাহা ইলাহা --আস্ত হুসাইন
সরদার সারদাদ, দাস্ত না দাদ বর দাস্তে ইয়াজিদ।’
অর্থাৎ ‘হুসাইন হলেন বাদশা, হুসাইন হলেন বাদশার বাদশা
হুসাইন হলেন দ্বীন, হুসাইন হলেন দ্বীনের নিরাপত্তার স্থল।
হুসাইন হলেন তৌহীদী কালেমার প্রতীক
হুসাইন ইয়াজিদের হাতে হাত দিলেন না, মাথা দিলেন।’
(অর্থাৎ শাহদাত বরণ করে নিলেন।)
মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহারের একটি প্রবাদতুল্য বাণী হলো:
‘কতলে হোসাইন আসলমে মোরগে ইয়াজিদ হায়
ইসলাম জিন্দা হোতাহায় হর কারবালাকে বাদ।’
আমাদের কবির ভাষায়:
‘রক্ত পাথার সাতারি আবার আসে মুসলিম জাহানে দিন
জাগে একসাথে নবীন আশাতে লক্ষ সূর্য শংকাহীন।’

কারবালা মরু প্রান্তরে হযরত হুসাইনের সে দিনের সেই কুরবানী ব্যর্থ হয়নি। সে শিক্ষা ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে কঠিন সংকট-সন্ধিক্ষণে মুসলিম জাতিকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছে, তাদের কর্তব্য নিরূপণে রাহবার হয়েছে, তাদেরকে কঠিনতর সংগ্রামে, আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেছে, তাদের সত্যিকার কামিয়াবির মঞ্জিল দেখিয়ে দিয়েছে। দেড় হাজার বছর অতিক্রমের পর আজো তা সমানভাবে অনুপ্রাণিত করছে ন্যায়ের যোদ্ধাদের, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে, দেশে দেশে। সাম্প্রতিক কালেও তা দেখেছি, বসনিয়া, চেচেনিয়া, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, কাশ্মীর এবং আরো বহুস্থানে। কোথাও বস্তুগত বিজয় অর্জিত হয়েছে, কোথাওবা তা হয়নি। কিন্তু পরাজয় কোথাও হয়নি। মুমিন বান্দার আসল কামিয়াবী, জয় বা সাফল্য তো আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাত লাভে। তা শহীদ হওয়ার মাধ্যমে হতে পারে, গাজী হওয়ার মাধ্যমেও হতে পারে। সাম্প্রতিক কালের বেশ কিছু ঘটনাতো আমরা চোখের সামনেই দেখেছি। শুনেছি, হানাদার রুশ সেনাদের বর্বর আক্রমণে বিধ্বস্ত গ্রোজনীর উপকণ্ঠে ক্ষত-বিক্ষত, রক্তাপ্লুত, চেচেন মুজাহিদের কণ্ঠে আল্লাহু আকবার তকবির ধ্বনি। সেলের আঘাতে চোয়ালভাঙ্গা, রক্ত গড়িয়ে পড়া, গুঁড়িয়ে যাওয়া হাতের মুমূর্ষ মুজাহিদদের কণ্ঠে শুনেছি এই আওয়াজ। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার পূর্ব মুহূর্তেও তাদের হাতে উড্ডীন দেখেছি ইসলামী পতাকা। তখন মনে হয়েছে এযেন কারবালার শহীদী প্রেরণার আর এক উদ্ভাস। বুঝতে পারি হযরত হুসাইন (রা.) এর শাহাদাতের সার্থকতা। ওদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তোমরা কি জান না এই অসম যুদ্ধে তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য? তখন ওদের কণ্ঠ থেকে জবাব এসেছিল, আমরা তো শহীদ হওয়ার জন্য লড়ছি। আমাদের কামিয়াবী তো চিরস্থায়ী জান্নাত প্রাপ্তির মধ্যে, তখন মরু কারবালার হযরত হুসাইনের যুদ্ধমান দৃশ্যই কি মনের মুকুরে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে না? অনুরূপ বসনিয়ার মুজাহিদরা যখন অবরুদ্ধ হয়ে খাদ্য পানীয় রসদের অভাবে প্রাণ ত্যাগ করেছিল, কিংবা কামানের প্রচন্ড গোলা, রকেটের লক্ষ্যভেদী সেল, মেশিনগানের বুলেট বৃষ্টির সামনে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ উচ্চারণ করে বুক টান করে দাঁড়িয়েছিল, জান দেব, প্রাণ দেব, শির দেব, শহীদ হব, তবু বিধর্মীর কাছে, বিজাতির কাছে ঈমান দেব না, ইজ্জত দেব না, স্বাধীনতা দেব না, মাথা অবনত করব না- তখন কি এ-কে কারবালার সেই আত্মত্যাগের পুনরাবৃত্তি মনে হয়নি?

তবে শেষ পর্যন্ত জালিমদের পরাজয় হবেই। এতো মহান আল্লাহর চিরন্তন ঘোষণা: ‘সত্য স্বাগত, মিথ্যা অন্তর্হিত, সত্যের জয় অনিবার্য ও অবধারিত’। যে বৃটিশ সাম্রাজ্যে একসময় সূযার্স্ত যেত না, তার আজ কী দশা? চেচেনিয়া কি স্বাধীন মুসলিম দেশ হয়নি? আফগানিস্থানের বীর মুসলিমদের হাতে একবার বৃটিশরা, আর একবার দীর্ঘ দিন লড়াই করা রাশিয়ানরা আর এবার দীর্ঘ ২০ বছর লড়াই করেও বিশ্বের ১নং পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কি পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়নি? ইয়াজিদ, ফেরাউন, আবু জাহেলদের অনুসারীরা এখনও দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় আছে। হকপন্থীদের দাঁড়াতে হবে তাদের বিরূদ্ধে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে ন্যায়-ইনসাফ ও মানবতার মহান সমাজ। সবার জন্য শান্তি ও কল্যাণের নিশ্চয়তা। এর জন্য তথাকথিত সুবিধাবাদী, আপসকামী, পলায়নী মনোবৃত্তি পরিত্যাগ করে নির্জীব, নিষ্ক্রিয় ও স্থবির হয়ে বসে থাকা মুমিনদেরকে হুসাইনী আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে, কারবালার শহীদদের প্রবাহিত রক্তের কথা স্মরণ করে, সংগ্রামের ময়দানে অবতীর্ণ হতে হবে, আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী আদর্শ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। কারবালার অমর শহীদানের ত্যাগের দীক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলিম মিল্লাত যদি অগ্রসর হয় তবে কোথাও স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্র, জুলুম, নিপীড়ন শরীয়াহ, ইসলাম বিকৃতকরণের অপতৎপরতা অব্যাহত থাকতে পারে না। তাই আজ সকল আপসকামিতা, সুবিধাবাদী, পলায়নী মনোবৃত্তি পরিত্যাগ করে, সত্য-ন্যায়, দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য হুসাইনী কুরবানীর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ইসলাম নির্মূলিকরণ ও মুসলিম দলনের মোকাবেলায় অগ্রসর হতে হবে। এর দ্বারাই প্রদর্শিত হতে পারে কারবালার শহীদানের প্রতি সত্যিকার সম্মান, এর মাধ্যমেই সার্থক হয়ে উঠতে পারে আশুরা উদ্যাপন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই আহবানই জানিয়েছেন উদাত্ত কণ্ঠে--

‘ ফিরে এলো আজ সেই মহরম মাহিনা
ত্যাগ চাই, মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না।’

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন