ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

শবে বরাত : গুরুত্ব ও ফযিলত

শবে বরাত : গুরুত্ব ও ফযিলত

মুহাম্মাদ মুয়াজ্জাম হোসাইন সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

যে সকল মাসে আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য বিশেষ বরকত রেখেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো শাবান মাস। রাসূল সা. এ মাসে সবচেয়ে বেশি নফল রোযা রাখতেন। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসূল সা. কে রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ রোযা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে এতো বেশি রোযা রাখতে দেখিনি। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী)।
অন্য হাদিসে হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. বর্ণনা করেন, আমি একদিন রাসূল সা.-এর খেদমতে আরজ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি আপনাকে শাবান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে এতো অধিক পরিমাণে রোযা রাখতে দেখিনি। রাসূল সা. বললেন, এটা ওই মাস যে মাস সম্পর্কে অধিকাংশ লোকই গাফেল থাকে। এটা রজব ও রমযান মাসের মধ্যবর্তী মাস। এটা এমন মাস, যে মাসে মানুষের আমলসমূহ আল্লাহ তায়ালার দরবারে পেশ করা হয়। আমার আকাক্সক্ষা যে, আমার আমল আল্লাহর দরবারে এ অবস্থায় পেশ হোক যে, আমি রোযাদার। (নাসায়ী, শুআবুল ঈমান)।
এছাড়াও এ মাসের ফযিলত সম্পর্কে বিভিন্ন সহিহ হাদিসের কিতাবে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। যার দ্বারা এ মাসের ফযিলত ও গুরুত্ব প্রমাণ হয়। সুতরাং এ মাসে রোযা রাখা প্রমাণিত হলো। এবারে আসি শবে বরাত প্রসঙ্গে। মুমিন মাত্রই এ বিশেষ রাতের নামের সাথে পরিচয় আছে। তবে হাদিস শরিফে এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ তথা ‘শাবানের পনেরতম রজনী’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘শবে বরাত’ শব্দটি ফারসি শব্দ। যা ‘শব’ ও ‘বরাত’ দু’টি শব্দ মিলে গঠিত হয়েছে। ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ হলো নাজাত, মুক্তি রক্ষা ইত্যাদি।
তবে মুফাসসিরে কেরাম এ রাতের আরও কয়েকটি নামের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন লাইলাতুল মুবারাকা, লাইলাতুল বারাআ, লাইলাতুস সাক ইত্যাদি। (তাফসীরে কুরতুবি, খÐ ১৬, পৃ. ১২৬)। এ রাতে যেহেতু গুনাহগারের গুনাহ মাফ হয় এবং অসংখ্য অপররাধীর অপরাধ ক্ষমা করা হয়, সেহেতু এ রাত মুসলমানদের মাঝে ‘শবে বরাত’ নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে।
পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে কোরআনুল কারীমে নির্দেশনা আছে কিনা এ ব্যাপারে মুফাসসিরে কেরামগণ মতভেদ করেছেন। আর তাদের এ মতভেদের ভিত্তি হলো সুরা দুখানের ৩ নং আয়াত এর ভাবার্থ। জমহুর মুফাসসিরীন প্রায় সকলই এ আয়াতের (লাইলাতুল মুবারাকা) শব্দের ব্যাখ্যা ‘শবে কদর’ করেছেন এবং স্বপক্ষে হাদীস পেশ করেছেন।
অন্যদিকে হযরত ইকরামা রা. এবং কিছু মুফাসসির উক্ত শব্দের দ্বারা ‘শবে বরাত’ বুঝাতে চেয়েছেন এবং স্বপক্ষে হাদীসও পেশ করেছেন উপস্থাপন করেছেন। তাছাড়া পরবর্তীতে অধিকাংশ মুফাসসির যেমন, ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী রহ. তার তাফসীরে কাবিরে, ইমাম তাবারি রহ. তার তাফসীরে তাবারিতে, আল্লামা যামাখশারি রহ. তার তাফসীরে কাশশাফে, আল্লামা আলুসি রহ. তার তাফসীরে রুহুল মায়ানিতে, ইবনু কাসির তার তাফসীরে ইবনে কাসিরে, শায়খ ইসমাইল হাক্কি রহ. তার তাফসীরে রুহুল বয়ানে, ইমাম কুরতুবী তার তাফসীরে কুরতুবিতে, আশরাফ আলী থানভী রহ. তার তাফসীরুল বায়ানুল কোরআনে, মুফতি শফি রহ. তার তাফসীরে মাআরেফুর কোরআনে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় শবে বরাতের আলোচনা করেছেন।
পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে কোরআনুল কারীমে সরাসরি নির্দেশনা না থাকলেও হাদীস শরিফে সুস্পষ্টভাবে এর গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। এ সকল বর্ণনার মধ্যে কিছু বর্ণনা সম্পর্কে পৃথিবীর সকল মুহাদ্দিসীনে কেরাম সহিহ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিছু বর্ণনা হাসান, কিছু যয়িফ বলেছেন। একথা সত্য যে কোনো বিষয়কে প্রমাণের জন্য একটি সহিহ হাদীসই যথেষ্ট।
আর এ বিষয়ে মুহাদ্দিসীন, ফুকাহা ও অন্যান্য ওলামায়ে-কেরামের অধিকাংশ একমত যে, ফযিলতের ক্ষেত্রে যয়িফ হাদীসের ওপর আমল করা জায়েজ এবং ‘যয়িফ’ সনদের হাদিস দ্বারাও কোনো আমল মুস্তাহাব হওয়া প্রমাণিত হয়। তাছাড়া হাদিসে শবে বরাত পালন বা ফযিলতের বিপক্ষে কোনো বর্ণনার প্রমাণও নেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Md Rezaul Karim ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
মাশা আল্লাহ, বারা কাল্লাহ ফী হায়াতি।
Total Reply(0)
ইউসুফ আলী ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
মারহাবা মুহতারামকে
Total Reply(0)
Aminul Islam ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৬ এএম says : 0
আগে ভাল করে শিখতে হবে। তারপর এর জবাব দিবেন। পৃথিবীর বড় বড় ইমাম সাহেবরা বলতেছে।সবে বরাত নাই।মধ্য সাবান আছে। তাহলে মধ্য সাবান আর সবে বরাত এক হল।বরাত মানে ভাগ্য। এটা কি ভাগ্যের রাত।তাহলে লাইলাতুল কদর রাতি মানে কি।
Total Reply(0)
Abu Jafor ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৮ এএম says : 0
গত জুমার খোদবার মধ্যে আবুধাবিতে সবে বরাত তথা নিসপে শাহবান এর বয়ান ছিল।
Total Reply(0)
Hasan Al Mamun Khaled Mahmud ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:১৯ এএম says : 0
আপনারা দয়া করে ইউটিউবে শবেবরাত সম্পর্কে সার্চ দিয়ে দেখুন। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, ডা.গালিব, তারেক মনোয়ার,মুফতি কাজি ইব্রাহিম, ইমাম হোসাইন, মুজাফফর বিন মুহসিন,আব্দুর রাজ্জাক,ড. আবুবকর মুহম্মদ জাকারিয়া, মীর মোয়াজ্জেম হোসেন সাইফি,,,,, ইত্যাদি সহ বড় বড় আলেমগনের বক্তব্য শুনুন ইনশাআল্লাহ অনেক রেফারেন্সসহ সুস্পষ্ট ধারণা পাবেন।
Total Reply(0)
Shakil Ahamed ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
শবেবরাত বলতে কি কিছু আছে
Total Reply(0)
Hussain Rakib ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
আমাদের সৌদি আরবের সাথে শবে বরাত ও রোজা করা উচিত
Total Reply(0)
HM REZAUL ISLAM ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:০৩ এএম says : 0
সবে বরাত নিয়ে একসময় ছিলো বাড়াবাড়ি আর এখন শুরু হয়েছে ছাড়াছাড়ি!! মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা উচিৎ! বাংলাভাষীদের জন্য " সবে বরাত করণীয় ও বর্জনীয়" নামে বইটি পড়লে আশা করি উপকারে আসবে!!
Total Reply(0)
HM REZAUL ISLAM ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ৯:২৭ এএম says : 0
জাযাকাল্লাহু খাইরান!!
Total Reply(0)
md uzzal hosain ১৯ এপ্রিল, ২০১৯, ৬:৪০ এএম says : 0
masa allah
Total Reply(0)
Eqramul islam ২১ এপ্রিল, ২০১৯, ৬:৫৭ পিএম says : 0
শবেবরাতেে নামাজ পড়া ও রোজা রাখা গুনাহ বলেছেন মুফতি ইমাম হোসাইন এটা কি সত্য।
Total Reply(0)
শফিউর রহমান ২৪ এপ্রিল, ২০১৯, ১২:২৮ পিএম says : 0
মাননীয় সরকার প্রধান/ধর্ম/শিক্ষা/তথ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে বিশেষ অনুরোধ আর মাত্র কিছুদিন পর পবিত্র রমজানুল মোবারক । সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সরকারী এবং বেসরকারী স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় গুলি রমজানের পবিত্রতার জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হউক । আমার বয়স ৬০ বৎসর হয়ে গেলো বহু কিছু দেখেছি কিন্তু বর্তমান সামাজিক অবক্ষয় এত বেশী দেখা দিয়েছে তা কখনো ভাবিনি বা দেখিনি । রমজান মাস আসলে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার কারনে ছেলে মেয়েরা যে ভাবে শরীর প্রর্দশন করে চলা ফিরা করে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না । বেপর্দা অবস্তায় সিগারেট সহ খাদ্য সামগ্রি রোজাদারদের সমু্ক্ষে অহরহ চালায় যা রোজাদারদের মনে খোভ সন্চার হয় । মনে হয় যেন আমরা একটা পচ্সিমা দেশে বাস করতেছি । তার জন্য অনুরোধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রমজানের প্রথম হতে বন্ধ ঘোশনার জন্য । আমরা জানি পবিত্র কোরান হাদিচে কোথাও কোন যায়গায় মোহান আল্লাহর নাম খোদা লিখা বলে না্ ি । মোহান আল্লাহর ৯৯ টি নাম আছে তার মধ্যে খোদা লিখা না। খৃষ্ঠানরা খোদা ডাকে মুসলমানরা না । বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রায় শুনা/দেখা যায় খোদা উচ্চারন করে পর্ব শেষ করেন । এটা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ রাখলাম । অন্তত রমজান মাষে রমজানের পবিত্রতার জন্য সমস্ত টেলিভীষন চেনেল গুলোকে শালিনতা বজায় রেখে অনুষ্ঠান মালা প্রচার করার জন্য এবং শালিনতা মাপিক পোশাখ পরিচ্ছেদ ব্যবহার করার জন্য । মোহান আল্লহ আমদের দেশের মুসলমানদেরকে ঈমান ধান করুন । ইনকিলাব পত্রিকার কাছে অনুরোধ কথাগুলো ভাল ভাবে প্রচার করার জন্য ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন